সরকারি কর্মচারীদের জন্য ‘ছুটি বিধি’ ২০২৬ । কোন ছুটিতে কতদিন ছুটি মিলবে?
সরকারি চাকুরিজীবীদের কর্মজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ছুটি। পারিবারিক প্রয়োজন, অসুস্থতা কিংবা উচ্চশিক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরণের ছুটির বিধান রয়েছে। সম্প্রতি ‘নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা ১৯৫৯’ এবং ‘বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (বিএসআর)’ এর আলোকে বিভিন্ন প্রকার ছুটির মেয়াদ ও এর তারতম্যসমূহ স্পষ্ট করা হয়েছে।
অর্জিত ও অসাধারণ ছুটি
নথিপত্র অনুযায়ী, একজন সরকারি কর্মচারী ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কারণে এককালীন ৪ মাস পর্যন্ত গড় বেতনে অর্জিত ছুটি ভোগ করতে পারেন । তবে স্বাস্থ্যগত বা তীর্থযাত্রার মতো বিশেষ কারণে এটি ৬ মাস পর্যন্ত বর্ধিত করা সম্ভব । অন্যদিকে, স্থায়ী কর্মচারীদের ক্ষেত্রে অসাধারণ ছুটি (বিনা বেতনে ছুটি) সর্বোচ্চ ১ বছর এবং চিকিৎসকের সনদ থাকলে ২ বছর পর্যন্ত হতে পারে । অস্থায়ী কর্মচারীদের জন্য এই ছুটির মেয়াদ সাধারণত ৩ মাস ।
মাতৃত্বকালীন ও অসুস্থতাজনিত ছুটি
নারী কর্মচারীদের জন্য প্রসূতি ছুটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ বা ছুটি শুরুর তারিখ থেকে মোট ৬ মাস পর্যন্ত এই ছুটি পাওয়া যায় । একজন নারী তার সমগ্র চাকরিকালীন সময়ে সর্বোচ্চ ২ বার এই ছুটি ভোগ করতে পারবেন এবং এটি তার সাধারণ ছুটির হিসাব থেকে কাটা যাবে না । এছাড়া গুরুতর অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার জন্য অক্ষমতাজনিত ছুটি সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত মঞ্জুর হতে পারে ।
বিশেষ ও জরুরি ছুটি
সংক্রামক ব্যাধি যেমন— কলেরা, প্লেগ বা বর্তমানের কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে সংগনিরোধ ছুটি (Quarantine Leave) প্রদানের বিধান রয়েছে । চিকিৎসকের সনদ সাপেক্ষে এটি সাধারণত ২১ দিন, তবে বিশেষ ক্ষেত্রে ৩০ দিন পর্যন্ত হতে পারে । এছাড়া বছরে মোট ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়া যায়, যা একনাগাড়ে ১০ দিনের বেশি নেয়া যায় না । তবে পার্বত্য এলাকায় কর্মরতদের জন্য একনাগাড়ে ২০ দিনই ভোগের সুযোগ রয়েছে ।
উচ্চশিক্ষা ও বিনোদন ছুটি
উচ্চশিক্ষার জন্য সরকারি কর্মচারীরা অধ্যয়ন ছুটি (Study Leave) নিতে পারেন। সাধারণ মেয়াদে এটি ১২ মাস হলেও বিশেষ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ছুটির সমন্বয়ে সর্বোচ্চ ৬০ মাস বা ৫ বছর পর্যন্ত বর্ধিত করা সম্ভব । বিনোদনের জন্য প্রতি ৩ বছরে একবার ১৫ দিনের শ্রান্তি বিনোদন ছুটি এবং এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ ভাতা প্রাপ্য হন কর্মচারীরা ।
ছুটির অন্যান্য ধরণ একনজরে:
অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটি (LPR): পাওনা সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ১২ মাস গড় বেতনে ।
ঐচ্ছিক ছুটি: নিজ ধর্ম অনুযায়ী বছরে ৩ দিন ।
প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি: স্থায়ী কর্মচারীদের জন্য চিকিৎসকের সনদসহ সর্বোচ্চ ১২ মাস ।
সরকারি বিধিবিধান অনুযায়ী এই ছুটিগুলো ভোগ করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নির্দিষ্ট আইন ও বিধিমালার সঠিক প্রয়োগ কর্মচারীদের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দাপ্তরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও সহায়ক।

কোন বিধিতে সবচেয়ে বেশি ছুটি ভোগ করা যায়?
অধ্যয়ন ছুটি (Study Leave) বিধির আওতায় একজন সরকারি কর্মচারী সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী ছুটি ভোগ করতে পারেন ।
এর বিস্তারিত কারণ নিচে তুলে ধরা হলো:
সাধারণ মেয়াদ: সাধারণভাবে এই ছুটির মেয়াদ ১২ মাস ।
বিশেষ ক্ষেত্রে মেয়াদ: বিশেষ কারণে এই ছুটি সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত দেয়া যেতে পারে ।
সর্বোচ্চ সীমা: যদি কোর্সের কারণে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হয়, তবে ২৪ মাসের সাথে আরও ৪ মাস অর্জিত ছুটি এবং ৩২ মাসের অসাধারণ ছুটি যোগ করে সর্বমোট ৬০ মাস বা ৫ বছর পর্যন্ত অধ্যয়ন ছুটি মঞ্জুর করা সম্ভব ।
অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী ছুটির সাথে তুলনা করলে দেখা যায়:
অক্ষমতাজনিত ছুটি: সর্বোচ্চ ২৪ মাস বা ২ বছর ।
অসাধারণ ছুটি: স্থায়ী কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ বছর ।
অর্জিত ছুটি: সাধারণত ৪ থেকে ৬ মাস ।
সুতরাং, ৬০ মাস বা ৫ বছরের দীর্ঘ সময়সীমার কারণে অধ্যয়ন ছুটিই সবচেয়ে বেশি সময় ধরে ভোগ করা যায় ।



