পে-স্কেল I গেজেট । প্রজ্ঞাপন । পরিপত্র

বিলুপ্ত হচ্ছে ‘সাঁটলিপিকার’ ও ‘সাঁটমুদ্রাক্ষরিক’ পদ, পরিবর্তে ‘অফিস সহকারী’ রাখার প্রস্তাব

প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় সরকারি দপ্তরে কার্যকারিতা হারাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ‘সাঁটলিপিকার’ বা স্টেনোগ্রাফার পদটি। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে এখন থেকে সরকারি চাকরিতে ‘সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক’ এবং ‘সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর’ পদগুলো আর নতুন করে সৃজন বা নিয়োগ না করার পক্ষে মতামত দিয়েছে অর্থ বিভাগ। এর পরিবর্তে এসব ক্ষেত্রে ‘অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর’ পদ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে পাঠানো এক পত্রে এই সুনির্দিষ্ট মতামত জানানো হয়।

পত্রে উল্লিখিত প্রধান সিদ্ধান্তসমূহ:

  • নতুন নিয়োগ বন্ধের প্রস্তাব: বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সহজেই বক্তব্য রেকর্ড এবং টাইপ করা সম্ভব হচ্ছে। এ কারণে অর্থ বিভাগ মনে করে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা অধিদপ্তরে ‘সাঁটলিপিকার’ বা ‘সাঁটমুদ্রাক্ষরিক’ সংক্রান্ত পদগুলোতে নতুন করে জনবল নিয়োগের প্রয়োজন নেই।

  • পদ বাতিলের সুপারিশ: সংশ্লিষ্ট নিয়োগবিধি থেকে এই পদনামগুলো বিলুপ্ত বা বাতিল করার জন্য পত্রে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি দাপ্তরিক কাজ আরও গতিশীল ও আধুনিক করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • বিকল্প পদ সৃষ্টি: ‘সাঁটলিপিকার’ ও ‘সাঁটমুদ্রাক্ষরিক’ পদের বিপরীতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ‘অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর’ পদটি প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • বিদ্যমান জনবল ও পদোন্নতি: যারা বর্তমানে এসব পদে কর্মরত আছেন, তাদের ক্ষেত্রে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। পত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বর্তমানে যারা এই পদগুলোতে নিয়োজিত আছেন, তারা তাদের চাকরিকাল যথানিয়মে সম্পন্ন করবেন। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী তাদের পদোন্নতি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যথানিয়মে বহাল থাকবে।

পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট:

জাতীয় সংসদে উত্থাপিত একটি প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি স্মারকের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এক সময় হাতে লিখে দ্রুত নোট নেওয়ার জন্য ‘সাঁটলিপি’ (Shorthand) অপরিহার্য ছিল। কিন্তু বর্তমানে কম্পিউটার ও ডিজিটাল রেকর্ডিং ব্যবস্থা সেই স্থান দখল করে নিয়েছে। ফলে এই বিশেষায়িত পদের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে এসেছে।

এই উদ্যোগটি সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোকে আধুনিকায়ন এবং অপ্রয়োজনীয় পদ কমিয়ে দাপ্তরিক দক্ষতা বৃদ্ধির একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সোর্স

author avatar
admin
আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *