২৭তম বিসিএস: ৬৭৩ জন প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি
২০০৫ সালের ২৭তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যাডার সার্ভিসের বিভিন্ন প্রবেশ পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ৬৭৩ জন প্রার্থীকে নিয়োগ প্রদান করেছে সরকার । বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর ২০২৫) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি নিয়োগ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় ।
নিয়োগের মূল তথ্যাদি:
মোট নিয়োগ: বিভিন্ন ক্যাডারে সর্বমোট ৬৭৩ (ছয়শত তিয়াত্তর) জন প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ।
ক্যাডার ভিত্তিক বিভাজন: উল্লেখযোগ্য ক্যাডারগুলোর মধ্যে প্রশাসনে ৯০ জন, পুলিশে ৭০ জন, স্বাস্থ্যে ১৬২ জন এবং কৃষিতে ৫৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে । এছাড়া পররাষ্ট্র, কর, নিরীক্ষা ও হিসাবসহ শিক্ষা ক্যাডারের বিভিন্ন বিষয়েও নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে ।
বেতনক্রম: নবনিয়োগপ্রাপ্তরা জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ২২,০০০-৫৩,০৬০/- টাকা বেতনক্রমে নিয়োগ পেয়েছেন ।
যোগদানের সময়সীমা: প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ০১ জানুয়ারি ২০২৬ (১৭ পৌষ ১৪৩২) তারিখ পূর্বাহ্ণে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কর্তৃক নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগদান করতে হবে । নির্ধারিত তারিখে যোগদান না করলে নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে ।
চাকরির শর্তাবলী:
নিয়োগপ্রাপ্তদের ০২ (দুই) বছর শিক্ষানবিস হিসেবে কাজ করতে হবে ।
বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক ।
যোগদানের সময় ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে পরিবারে যৌতুক দেওয়া বা নেওয়ার বিরুদ্ধে অঙ্গীকারনামা (বন্ড) সম্পাদন করতে হবে ।
এছাড়া, জ্যেষ্ঠতা অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে তাঁদের ব্যাচের প্রথম নিয়োগ প্রজ্ঞাপনের তারিখ থেকে ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা বজায় থাকবে, তবে তাঁরা কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা পাবেন না ।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই আদেশ জনস্বার্থে জারি করেছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে ।

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন
পদোন্নতি কি যোগদানের পর পরই পাবে?
না, যোগদানের পর পরই পদোন্নতি পাওয়া যাবে না। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নবনিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি বা চাকরিতে স্থায়ী হওয়ার আগে বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে:
শিক্ষানবিসকাল: প্রত্যেক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে যোগদানের পর ০২ (দুই) বছর শিক্ষানবিস হিসেবে কাজ করতে হবে । সরকার প্রয়োজনে এই সময় আরও দুই বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারে ।
প্রশিক্ষণ: কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অথবা সরকার নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ এবং পরবর্তী সময়ে পেশাগত বা বিশেষ ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে ।
স্থায়ী হওয়া: প্রশিক্ষণ সাফল্যের সাথে সম্পন্ন করা, বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং সন্তোষজনকভাবে শিক্ষানবিসকাল অতিক্রম করার পরই একজন কর্মকর্তাকে চাকরিতে স্থায়ী করা হবে ।
সাধারণত সিভিল সার্ভিসে পদোন্নতির জন্য চাকরিতে স্থায়ীকরণ এবং নির্দিষ্ট মেয়াদে সন্তোষজনক চাকুরিকাল পূর্ণ হওয়া আবশ্যক। এই প্রজ্ঞাপনে সরাসরি পদোন্নতির কোনো সময়ের উল্লেখ নেই, তবে উপরে উল্লিখিত শর্তগুলো পূরণ করা পদোন্নতির প্রাথমিক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে জ্যেষ্ঠতার ক্ষেত্রে একটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিয়োগপ্রাপ্তদের ব্যাচের প্রথম নিয়োগ প্রজ্ঞাপনের তারিখ থেকে তাঁদের ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা (Notional Seniority) বজায় থাকবে, যা ভবিষ্যতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে ।
ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা কি? ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা (Notional Seniority) হলো চাকরির প্রশাসনিক বা আইনি একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একজন কর্মকর্তাকে তাঁর প্রকৃত যোগদানের তারিখের আগের কোনো একটি নির্দিষ্ট তারিখ থেকে জ্যেষ্ঠতা (Seniority) প্রদান করা হয়।
২৭তম বিসিএস-এর এই প্রজ্ঞাপনের প্রেক্ষিতে এর সহজ ব্যাখ্যা হলো:
১. পেছনের তারিখ থেকে গণনা: এই প্রজ্ঞাপনে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা হয়তো অনেক পরে যোগদান করছেন, কিন্তু তাঁদের জ্যেষ্ঠতা বা সিনিয়রিটি গণনা করা হবে তাঁদের ব্যাচের (২৭তম বিসিএস) মূল বা প্রথম নিয়োগ প্রজ্ঞাপনের তারিখ থেকে।
২. পদোন্নতিতে সুবিধা: যখন এই ব্যাচের কর্মকর্তাদের পরবর্তী পদে পদোন্নতির সময় আসবে, তখন এই ৬৭৩ জন কর্মকর্তা পিছিয়ে থাকবেন না। তাঁদের চাকরিকাল ব্যাচের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথেই গণনা করা হবে, ফলে তাঁরা পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন।
৩. আর্থিক বকেয়া নয়: ‘ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা’র ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—যে পেছনের তারিখ থেকে জ্যেষ্ঠতা দেওয়া হচ্ছে, সেই সময়কার কোনো বকেয়া বেতন বা আর্থিক সুবিধা (Financial Arrears) ওই কর্মকর্তা দাবি করতে পারবেন না। তিনি বেতন-ভাতা পাবেন তাঁর প্রকৃত যোগদানের তারিখ থেকেই।
সংক্ষেপে: এটি এমন এক ব্যবস্থা যেখানে চাকরিতে দেরিতে যোগদান করা সত্ত্বেও ব্যাচের অন্যান্য সহকর্মীদের সমান জ্যেষ্ঠতা বজায় রাখার সুযোগ দেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য না হয়।



