সামাজিক নিরাপত্তায় বড় পদক্ষেপ: ভাতা ও সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়ল সব খাতে
দেশের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ও ভাতার হার বড় পরিসরে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনগুলো অনুমোদিত হয়। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার এবং দেশের কোটি প্রান্তিক মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।
১. বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের জন্য বিশেষ ঘোষণা
সরকার খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই বর্ধিত ভাতা ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে কার্যকর হবে। এছাড়া সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন এবং যারা আহত হয়েছেন, তাদের জন্য বিশেষ মাসিক সম্মানি ভাতা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।
২. সমাজকল্যাণ খাতের ভাতার নতুন বিন্যাস
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে বয়স্ক, বিধবা এবং প্রতিবন্ধী ভাতা খাতে। সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ভাতার পরিমাণও সমন্বয় করা হয়েছে:
| উপকারভোগীর ধরণ | বর্তমান/নতুন সংখ্যা | ভাতার পরিমাণ (মাসিক) |
| সাধারণ বয়স্ক ব্যক্তি | ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার জন | ৭০০ টাকা (আগে ছিল ৬৫০) |
| ৯০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক | ২ লাখ ৫ হাজার জন | ১,০০০ টাকা |
| বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা | ২৮ লাখ ৭৫ হাজার জন | ৭০০ টাকা |
| ৯০ বছরের ঊর্ধ্বে বিধবা | ২৫ হাজার জন | ১,০০০ টাকা |
| প্রতিবন্ধী ভাতা | ৩৬ লাখ জন | ৯০০ – ১,০০০ টাকা |
৩. শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তিতে পরিবর্তন
প্রতিবন্ধী এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক বৃত্তির হার ৫০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। স্তরভেদে নতুন হার নিম্নরূপ:
প্রাথমিক: ৯৫০ টাকা
মাধ্যমিক: ১,০০০ টাকা
উচ্চ মাধ্যমিক: ১,১০০ টাকা
উচ্চতর স্তর: ১,৩৫০ টাকা
অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই হারে বৃত্তির পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে আরও ৫ হাজার ৪৯০ জনকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
৪. স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তায় বরাদ্দ বৃদ্ধি
মরণব্যাধি ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড ও থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য সরকারের এককালীন চিকিৎসা সহায়তা দ্বিগুণ করা হয়েছে। এখন থেকে রোগীরা ৫০ হাজার টাকার পরিবর্তে ১ লাখ টাকা পাবেন। একইসাথে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৫ হাজার বাড়িয়ে ৬৫ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে:
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি: সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা ৫ লাখ বাড়িয়ে ৬০ লাখ করা হয়েছে। তারা বছরে ৬ মাস ১৫ টাকা দরে ৩০ কেজি চাল পাবেন।
জেলে ভাতা: ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে আরও ২.৭৩ লাখ নতুন জেলেসহ মোট ১৫ লাখ জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
মা ও শিশু সহায়তা: সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জন করা হয়েছে, যারা মাসে ৮৫০ টাকা করে পাবেন।
অর্থ উপদেষ্টার মন্তব্য: > “প্রান্তিক মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় নিয়ে আমরা এই ভাতার হার ও আওতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতদের রাষ্ট্রীয় সম্মানের আওতায় আনা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।”



