বৈষম্য । দাবীর খতিয়ান । পুন:বিবেচনা

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর: ধাপে ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণার পর অবশেষে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি হয়েছে। তিন বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত পুনর্গঠিত কমিটি সম্প্রতি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যেখানে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এর জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রথম ধাপেই মূল বেতনে ‘চমক’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও আর্থিক চাপ বিবেচনা করে নবম পে-স্কেল একবারে নয়, বরং কয়েক দফায় বাস্তবায়ন করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় চমক থাকছে প্রথম ধাপেই। পরিকল্পনার প্রাথমিক পর্যায়েই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন (Basic Pay) উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়গুলোতে চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতাগুলো পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হবে।

বেতন বৈষম্য হ্রাসে নতুন অনুপাত (১:৮)

প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলে সবথেকে বড় পরিবর্তন আসছে বেতন বৈষম্য কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে। ১৯৭৩ সালের প্রথম বেতন কমিশনে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ছিল ১:১৫.৪, যা ২০১৫ সালে ১:৯.৪-এ নেমে আসে। এবার সেই ব্যবধান আরও কমিয়ে ১:৮ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

  • সর্বনিম্ন বেতন: ২০,০০০ টাকা (২০তম গ্রেড)

  • সর্বোচ্চ বেতন: ১,৬০,০০০ টাকা (১ম গ্রেড)

নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের আয় বাড়বে দ্বিগুণের বেশি

সুপারিশ অনুযায়ী, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কর্মরত ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা। ভাতাসহ তিনি বর্তমানে মোট প্রায় ১৬,৯৫০ টাকা পান। নতুন স্কেল বাস্তবায়িত হলে তার মূল বেতন বেড়ে হবে ২০,০০০ টাকা এবং বিভিন্ন ভাতাসহ মোট মাসিক আয় গিয়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪১,৯০৮ টাকায়

ভাতার সমন্বয় ও অন্যান্য প্রস্তাব

নতুন বেতন কাঠামোতে যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই ও ঝুঁকি ভাতার মতো সুবিধাগুলো আরও যৌক্তিক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে ভারসাম্য বজায় রাখতে উচ্চতর গ্রেডে (১ম থেকে ৯নম গ্রেড) ভাতা বৃদ্ধির হার কিছুটা সীমিত রাখা হতে পারে। এছাড়া বর্তমানে প্রচলিত ১০ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা নতুন স্কেলের মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করার সুপারিশ করা হয়েছে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়

গত ২১ এপ্রিল জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি পুনর্গঠন করে সরকার। নবগঠিত এই কমিটি ইতোমধ্যেই তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর এই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় এটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *