সর্বশেষ প্রকাশিত পোস্টসমূহ

শিক্ষক সংকট মেটাতে বড় উদ্যোগ: অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে ‘শিক্ষক পুল’ গঠনের নির্দেশ

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তীব্র শিক্ষক সংকট এবং এনটিআরসিএ (NTRCA) কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটাতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে অভিজ্ঞ এবং শারীরিকভাবে সক্ষম অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে একটি ‘অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুল’ গঠন করা হবে। এই পুল থেকে সাময়িকভাবে শিক্ষক নিয়োগ করে পাঠদান কার্যক্রম সচল রাখার নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গত ০৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ (বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখা) থেকে এই সংক্রান্ত একটি জরুরি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। সিনিয়র সহকারী সচিব শিরীন আক্তার স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনায় বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুরোধ করা হয়েছে।

কেন এই সিদ্ধান্ত?

পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে অনেক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের স্বল্পতা রয়েছে। অন্যদিকে, এনটিআরসিএ-র মাধ্যমে নিয়মিত শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ার কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের গুণগত ও মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষে অভিজ্ঞ ও শারীরিকভাবে সক্ষম অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কাজে লাগানোর এই পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

নির্দেশনার মূল বিষয়সমূহ:

মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত আদেশে তিনটি প্রধান পয়েন্ট উল্লেখ করা হয়েছে:

১. উপজেলা ভিত্তিক শিক্ষক পুল গঠন: জেলা প্রশাসকদের (DC) প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছে যাতে তারা উপজেলা ভিত্তিক অবসরপ্রাপ্ত এবং শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি দক্ষ ‘শিক্ষক পুল’ গঠন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ২. নিয়োগ প্রক্রিয়া: সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি (অথবা এডহক কমিটি) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (UNO) সাথে পরামর্শক্রমে প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী এই পুল থেকে সাময়িকভাবে শিক্ষক নিয়োগ করতে পারবেন। এর ফলে ক্লাসের শূন্যতা দ্রুত পূরণ হবে। ৩. সম্মানী ও তহবিল: নিযুক্ত শিক্ষকদের সম্মানী বা বেতন-ভাতা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিলের ‘অত্যাবশ্যকীয় খাত’ থেকে নির্বাহ করা হবে। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া

এই আদেশ জারির পর থেকে সারা দেশের জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে চলতি শিক্ষাবর্ষের পাঠদান কার্যক্রমে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।

শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেক অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। তারা মনে করছেন, অভিজ্ঞ শিক্ষকরা আবারও ক্লাসে ফিরে এলে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকটের একটি কার্যকর বিকল্প সমাধান তৈরি হবে। তবে এটি যাতে নিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেও নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


তথ্যসূত্র: স্মারক নং: ৩৭.০০.০০০০.০৭২.৯৯.০০৩.২৫-৬২; শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়।

সোর্স

author avatar
admin
আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *