সরকারি পরিচালন ব্যয় হ্রাসে কঠোর নির্দেশ ২০২৬ । বন্ধ থাকবে গাড়ি কেনা ও বিদেশ ভ্রমণ আর কি কি?
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারি পরিচালন ব্যয় সাশ্রয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এখন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনা, বিদেশ ভ্রমণ এবং বিভিন্ন খাতের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ (০৯ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে জারিকৃত এক পরিপত্রের মাধ্যমে এ নির্দেশনা জানানো হয়।
উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রে নয়টি বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যয় সংকোচনের কথা বলা হয়েছে। যা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনার প্রধান দিকসমূহ:
পরিপত্রে বর্ণিত উল্লেখযোগ্য ব্যয় সংকোচন পরিকল্পনাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
পরিবহন ও জ্বালানি: সরকারি গাড়িতে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দকৃত জ্বালানি তেলের ব্যবহার ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে। এছাড়া সরকারি খাতে নতুন গাড়ি, জলযান, আকাশযান এবং কম্পিউটার ক্রয় পুরোপুরি (শতভাগ) বন্ধ থাকবে।
ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণ: সরকারি কর্মকর্তাদের সকল প্রকার বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ খাতের সাধারণ ব্যয়ও ৫০ শতাংশ হ্রাস পাবে।
আপ্যায়ন ও সম্মেলন: সরকারি সভা বা সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ এবং সেমিনার বা কনফারেন্স আয়োজনের আনুষঙ্গিক ব্যয় ২০ শতাংশ কমাতে হবে।
ইউটিলিটি ও অফিস ব্যবস্থাপনা: সরকারি কার্যালয়ে ব্যবহৃত জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিলের ব্যয় ৩০ শতাংশ সাশ্রয় করতে হবে। ভূমি অধিগ্রহণ খাতে ব্যয়ও বর্তমানে শতভাগ স্থগিত রাখা হয়েছে।
ভবন সংস্কার: আবাসিক ভবনের সৌন্দর্যবর্ধন কাজে ২০ শতাংশ এবং অনাবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ ব্যয় হ্রাস করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কার্যকারিতা ও বাস্তবায়ন
পরিপত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই নির্দেশনার অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সকল সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) কাছে পাঠানো হয়েছে যাতে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এই সাশ্রয়ী নীতি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর চাপ কমাতে এবং অপচয় রোধে সরকারের এই ‘কৃচ্ছ্রসাধন নীতি’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



