সার্ভিস রুলস । নীতি । পদ্ধতি । বিধি

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের প্রটোকলে বড় পরিবর্তন: অপ্রয়োজনে ডিসি-এসপিদের বিমানবন্দরে উপস্থিতি নিষেধ

রাষ্ট্রীয় কাজে নিয়োজিত মাননীয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের বিদেশ ভ্রমণ এবং দেশের অভ্যন্তরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রটোকল বা রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচার পালনে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। আজ ১৬ এপ্রিল ২০২৬ (৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনা জানানো হয়। মূলত সরকারি কাজে গতিশীলতা আনা এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কর্মঘণ্টার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিমানবন্দরের প্রটোকলে পরিবর্তন

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বিদেশ গমন বা বিদেশ থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্মসচিব বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন। তবে জেলা সদর বা ঢাকার বাইরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে প্রয়োজনীয়তা না থাকলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার বা যশোর বিমানবন্দরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা পুলিশ সুপারদের (এসপি) উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ক্ষেত্রে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারদের জন্যও এই একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নির্দেশনা

জেলা সদরে মন্ত্রীদের আগমন ও বিদায়ের সময় জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার উপস্থিত থাকবেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ বা পূর্বনির্ধারিত সরকারি সফর থাকলে তারা সেটি বাতিল করবেন না। সেক্ষেত্রে তাদের পরিবর্তে জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রটোকল প্রদান করবেন।

উপজেলা পর্যায়ে সফরের ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং সহকারী পুলিশ সুপার অভ্যর্থনা জানাবেন। এক্ষেত্রে জেলা পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার আবশ্যকতা নেই।

রেলপথে যাতায়াত ও নিরাপত্তা

মন্ত্রীরা যদি রেলপথে ভ্রমণ করেন, তবে সফরসূচি পাওয়ার সাথে সাথে রেলওয়ে পুলিশ সুপারকে সংশ্লিষ্ট রুটের সকল পুলিশ স্টেশন ও ফাঁড়িকে অবহিত করতে হবে। ট্রেন থেকে নামার সময় বা ট্রেন পরিবর্তনের স্থানে একজন পুলিশ পরিদর্শক বা উপ-পরিদর্শক উপস্থিত থাকবেন। চট্টগ্রামে যাতায়াতের সময় রেলওয়ে পুলিশ সুপার উপস্থিত থাকবেন।

ব্যক্তিগত ও সরকারি সফরের পার্থক্য

নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:

  • সরকারি সফর: সরকারি সফরের সময় যানবাহন ও বাসস্থানের ব্যবস্থা সরকার করবে।

  • ব্যক্তিগত সফর: ব্যক্তিগত সফরের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও নিরাপত্তা বজায় থাকবে, তবে যানবাহন ও বাসস্থানের ব্যবহারের জন্য প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করতে হবে।

  • সার্কিট হাউজ বা সরকারি গেস্ট হাউজের বাইরে নিজস্ব বাড়িতে অবস্থান করলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশ সুপারকে।

প্রশাসনিক সমন্বয়

সফরসূচি প্রণয়নের সময় সেটি সরকারি নাকি ব্যক্তিগত তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সময়মতো জানাতে হবে। সফরসূচিতে কোনো পরিবর্তন আসলে তাও দ্রুত অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, এই নতুন নির্দেশনা জারির ফলে গত ২৭ আগস্ট ২০২৪ তারিখে জারি করা প্রটোকল সংক্রান্ত আগের নির্দেশনাটি বাতিল বলে গণ্য হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর থেকে প্রটোকলের বাড়তি চাপ কমবে এবং তারা জনসেবামূলক কাজে বেশি সময় দিতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোর্স

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *