সরকারি কর্মচারীদের সম্পত্তি ক্রয় ও বিক্রয়ে নতুন নিয়ম: মানতে হবে কড়া নির্দেশনা
সরকারি চাকুরিজীবীদের স্থাবর সম্পত্তি (জমি, বাড়ি বা ফ্ল্যাট) ক্রয়, অর্জন কিংবা বিক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এখন থেকে যেকোনো সম্পত্তি লেনদেনের আগে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘ফরম-১’ (ক্রয়/অর্জনের জন্য) এবং ‘ফরম-২’ (বিক্রয়ের জন্য) নামে দুটি আলাদা আবেদন ফরম ও একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
১. সম্পত্তি ক্রয় বা অর্জনের নিয়ম (ফরম-১):
কোনো সরকারি কর্মচারী যদি নতুন কোনো জমি বা ফ্ল্যাট কিনতে চান, তবে তাকে ‘ফরম-১’ এর মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। এই ফরমে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চাওয়া হয়েছে:
অর্থের উৎস: সম্পত্তির মূল্য পরিশোধে অর্থের উৎস কী এবং প্রতিটি উৎস থেকে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে, তার বিস্তারিত প্রমাণসহ উল্লেখ করতে হবে।
পূর্ববর্তী সম্পত্তি: আবেদনকারীর নামে আগে থেকে কোনো সম্পত্তি থাকলে তার বিবরণ এবং অর্জনের পদ্ধতি জানাতে হবে।
পারিবারিক তথ্য: স্বামী বা স্ত্রীর পেশা এবং তাদের আয়ের উৎসও ফরমে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।
২. সম্পত্তি বিক্রয়ের নিয়ম (ফরম-২):
নিজের মালিকানাধীন সম্পত্তি বিক্রয় করতে চাইলে ‘ফরম-২’ ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয়গুলো হলো:
ক্রেতার বিবরণ: যিনি সম্পত্তি কিনবেন (ক্রেতা বা ডেভেলপার), তার নাম, ঠিকানা ও পেশা উল্লেখ করতে হবে।
মূল্য নির্ধারণ: বিক্রয়ের প্রস্তাবিত মূল্য এবং ওই সম্পত্তিটি আগে যখন কেনা হয়েছিল, তখন সরকারের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কিনা, তার তথ্য দিতে হবে।
৩. গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র:
আবেদনপত্রের সাথে বেশ কিছু সহায়ক দলিল দাখিল করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে:
আয়কর সনদ: আয়কর অফিসে দাখিলকৃত সর্বশেষ পরিসম্পদ বিবরণীর সার্টিফাইড কপি।
দলিলপত্র: বায়নাপত্র, জমি অর্জনের মূল দলিল, অনুমোদিত নকশা এবং প্রকৌশলী কর্তৃক প্রাক্কলিত ব্যয়ের এস্টিমেট।
মূল্যের পার্থক্য: যদি কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত বাজারমূল্য এবং প্রকৃত বিক্রয় মূল্যের মধ্যে ২০ শতাংশের বেশি পার্থক্য থাকে, তবে তার উপযুক্ত ব্যাখ্যা দিতে হবে।
৪. আবেদন জমা দেওয়ার কর্তৃপক্ষ:
পদমর্যাদা অনুযায়ী আবেদনপত্র ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় জমা দিতে হবে:
প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা (ক্যাডার/নন-ক্যাডার): নিয়ন্ত্রণকারী প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের সচিবের নিকট।
দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা: বিভাগীয় প্রধান বা দপ্তর প্রধানের নিকট।
নন-গেজেটেড কর্মচারী: নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের নিকট।
বিশেষ সতর্কবার্তা: নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ আবেদনের ওপর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না। এছাড়া সকল সংযুক্ত কাগজপত্র অবশ্যই সত্যায়িত বা সার্টিফাইড হতে হবে। সরকারি কর্মচারীদের ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব সরকারের কাছে পরিষ্কার রাখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



