ড. দেবপ্রিয়ের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা সরকারি কর্মচারীদের: পে-স্কেলকে ‘ন্যায্য অধিকার’ হিসেবে ঘোষণার দাবি
সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো নিয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে সরকারি চাকুরেদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। ড. দেবপ্রিয় তার বক্তব্যে পে কমিশনের রিপোর্ট সরাসরি গ্রহণ না করার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তাকে ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ ও ‘অসম্মানজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন কর্মচারী নেতারা।
প্রতিবাদ ও উদ্বেগের মূল সুর
একটি যৌথ বিবৃতিতে কর্মচারী প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে-স্কেলের আশায় প্রহর গুনছেন লাখ লাখ সরকারি কর্মচারী। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে যখন তাদের নাভিশ্বাস উঠছে, ঠিক সেই সময়ে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির পক্ষ থেকে এমন নেতিবাচক মন্তব্য কর্মচারীদের মনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:
“পে-স্কেল কোনো দয়া বা করুণার দান নয়; এটি সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার। বছরের পর বছর এই দাবি ঝুলিয়ে রেখে কর্মচারীদের অর্থনৈতিক চাপে পিষ্ট করা হচ্ছে।”
অসন্তোষের মূল কারণসমূহ
কর্মচারী নেতাদের বিশ্লেষণে উঠে আসা প্রধান অভিযোগগুলো হলো:
বাস্তবতার সাথে সংঘাত: বাজারদরের সাথে বর্তমান বেতন কাঠামোর সামঞ্জস্য নেই। নতুন পে-স্কেল যখন সময়ের দাবি, তখন তা গ্রহণ না করার পরামর্শকে কর্মচারীরা উস্কানিমূলক বলে মনে করছেন।
আস্থার সংকট: ড. দেবপ্রিয়ের মতো বিজ্ঞ অর্থনীতিবিদের কাছ থেকে কর্মচারীরা সহানুভূতিশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্লেষণ আশা করেছিলেন, কিন্তু তার বক্তব্য কর্মচারীদের ন্যায্য প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করেছে।
বিলম্বিত প্রক্রিয়া: গত কয়েক বছর ধরেই পে-স্কেল ঘোষণা নিয়ে নানা টালবাহানা চলছে। নতুন করে কোনো জটিলতা সৃষ্টির প্রচেষ্টাকে কর্মচারী সমাজ আর মেনে নেবে না বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দাবি
সরকারি কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। অথচ মুদ্রাস্ফীতির কারণে তাদের প্রকৃত আয় (Real Income) মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
কর্মচারীদের দাবির যৌক্তিকতা:
মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয়: বর্তমান বাজারে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে বর্তমান বেতন কাঠামো সম্পূর্ণ অপর্যাপ্ত।
দীর্ঘসূত্রতা অবসান: ২০১৫ সালের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও পূর্ণাঙ্গ নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হয়নি।
বৈষম্য নিরসন: গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য দূর করে একটি সম্মানজনক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা চায় তারা।
চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিনিধিরা সাফ জানিয়েছেন, পে-স্কেল বাস্তবায়নে নতুন করে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হলে তারা রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে ড. দেবপ্রিয়ের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার এবং অনতিবিলম্বে পে কমিশনের রিপোর্ট পর্যালোচনার মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিটি শেষ করা হয়েছে এই সতর্কবার্তার মাধ্যমে যে, কর্মচারী সমাজ তাদের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে আপসহীন এবং যেকোনো অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াবে।



