শবে বরাত ২০২৬ কত তারিখে বাংলাদেশ । শবে বরাত কবে এবং গুরুত্ব জেনে নিন
শবে বরাতের পরের দিন সাধারণত সরকারি ছুটি থাকে এবং শবে বরাত রাতে মুসলমানগণ ইবাদতে মুশগল থাকে বিধায় পরের দিন অফিস করা সম্ভব হয় না– শবে বরাত ২০২৬ কত তারিখে বাংলাদেশ
শবে বরাত ২০২৬ কত তারিখে?– বাংলাদেশে ২০২৬ সালের পবিত্র শবে বরাত আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পালিত হবে।
দিবাগত রাত: ৩ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার (১৪ শাবান দিবাগত রাত)।
পরদিন (সরকারি ছুটি): ৪ ফেব্রুয়ারি, বুধবার (১৫ শাবান)।
রোজা: যারা শবে বরাতের রোজা রাখতে চান, তারা মূলত ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) রোজা রাখবেন। তবে অনেকে ১৩, ১৪ ও ১৫ শাবান মিলিয়ে ৩টি রোজা বা অন্তত ১৪ ও ১৫ শাবান দুটি রোজা রাখেন।
(দ্রষ্টব্য: গতকাল ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভা শেষে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে যে, এ বছর শাবান মাস শুরু হবে ২১ জানুয়ারি থেকে, তাই শবে বরাত ৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে অনুষ্ঠিত হবে।)
শবে বরাতের পরের দিন বন্ধ? হ্যাঁ। শবে বরাতের রাতে বিশেষ খাবার রান্না করা বা হালুয়া-রুটির আয়োজন করা উচিত নয়। শবে বরাতের রাতে পটকা ফোটানো, আতশবাজি করা, ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করা অনুচিত। শবে বরাতের রাতে কোনো ধরনের বিদআত বা হাদিসে বর্ণিত নয়—এমন কাজ পরিহার করা উচিত। শবে বরাতের পরদিন বাংলাদেশে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি।
লাইলাতুল বারাতের ফজিলত ও গুরুত্ব কি? হজরত মুয়ায ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তাআ’লা অর্ধ-শাবানের রাতে (শাবান মাসের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতে) সৃষ্টির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতিত আর সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’ হজরত ইবনুল হারিস থেকে বর্ণিত- হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে নামাজে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সেজদা করেন যে, আমার ধরণা হল তিনি হয়তো মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সেজদা থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ করলেন তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়েশা! অথবা বলেছেন, ও হুমাইরা! তুমি কি এ আশংকা করছে যে, আল্লাহর রাসুল তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি উত্তরে বললাম, না, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনার দীর্ঘ সেজদা থেকে আমার আশংকা হয়েছিল, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কিনা। তখন প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জান এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভাল জানেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন ইরশাদ করেন- এটা হলো অর্ধ-শাবানের রাত। (শাবান মাসের চৌদ্দ তারিখের দিবাগত রাত) আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে তাঁর বান্দার প্রতি মনোযোগ দেন এবং ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহ প্রার্থীদের প্রতি অনুগ্রহ করেন আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই। (শুয়াবুল ইমান, বাইহাকি)।
শবে বরাত কবে 2026 । শবে বরাত কবে ২০২৬ । বাংলাদেশে শবে বরাত কবে
শাবান মাসের ১৪ তারিখে সূর্যাস্তের পর শবে বরাত উদযাপন করা হয়। শাবান ইসলামি ক্যালেন্ডারের অষ্টম মাস। ইসলামি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, পীর ৩ ফেব্রুয়ারি শাবান মাসের শুরু হবে। শাবান মাসের ১৩ – ১৪ তারিখের মধ্যরাতে শবে বরাত হবে।

Caption: Info by google
শবে বরাত বাংলাদেশ ২০২৬ । কোরআনে শবে বরাত নিয়ে কি বলা আছে?
- পবিত্র কুরআনের সুরা দুখানে উল্লেখিত একটি আয়াতে বর্ণিত একটি বিশেষ রাতের ব্যাখ্যায় ইসলামি ধর্মবিশারদদের কেউ কেউ বলেছেন, বরকতময় সে রাতটি হচ্ছে মধ্য শা’বানের রাত তথা শবে বরাত। প্রাসংগিক আয়াতগুলো হচ্ছে- হা-মীম। শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের। আমিতো এটা অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রাতে। আমি তো সতর্ককারী। এই রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়। (সূরা দুখান, ১-৪)
- কুরআনের প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাকার ইকরামা ‘এক বরকতময় রাত’ এর ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, এ রাতটি হলো মধ্য শাবানের রাত। ইকরামার উপরিউক্ত ব্যাখ্যার সাথে কুরআনের ভাষ্যকারদের অধিকাংশই সহমত হতে পারেননি। তাদের সবাই কুরআনের উপর্যুক্ত আয়াতে বর্ণিত ‘এক বরকতময় রাত’ বলতে শবে কদরকে বুঝানো হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন। এমতের সপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছেন বিশিষ্ট সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, প্রখ্যাত তাফসীরবিদ ইবনে কাসীর, ইমাম কুরতুবী প্রমুখ। কুরআনের বিশিষ্ট ব্যাখ্যাকার ইবনে কাসীর বলেছেন, এখানে ‘বরকতময় রাত’ বলতে পবিত্র শবে কদরের রাতকে বোঝানো হয়েছে, যা কুরআনের অপরাপর আয়াত থেকেও প্রমাণিত হয়। ইমাম কুরতুবী তাঁর তাফসীরে বলেছেনঃ “কোন কোন ধর্মবিশারদ বলেছেন, ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ’ দ্বারা বোঝানো হয়েছে মধ্য শাবানের রাতকে (শবে বরাত)।
শবে বরাতের রাথে কি করতে হয়?
শবে বরাত বা লাইলাতুল বরাত হচ্ছে হিজরি শাবান মাসের ১৩ ও ১৪ তারিখের মধ্যবর্তী রাতে পালিত মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ রাত। এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদের বিশেষভাবে ক্ষমা করেন। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মুসলমানরা শবে বরাতে মহান আল্লাহ ও তার প্রিয় হাবিবের সন্তুষ্টি অর্জন করার জন্য নফল রোজা, দান সদকা ও এবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন।
শবে বরাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য
‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি; অর্থাৎ শবে বরাত মানে ‘মুক্তির রাত’। হাদিস শরিফে এই রাতকে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বা ‘অর্ধ-শাবানের রাত’ বলা হয়েছে। ইসলামি শরিয়তে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে:
ক্ষমা লাভের রাত: হাদিস অনুযায়ী, এই রাতে মহান আল্লাহ প্রথম আসমানে নেমে আসেন এবং বান্দাদের আহ্বান করেন—”আছে কি কেউ ক্ষমা চাওয়ার, যাকে আমি ক্ষমা করব? আছে কি কেউ রিজিক চাওয়ার, যাকে আমি রিজিক দেব?” এভাবে ফজর পর্যন্ত আল্লাহ বান্দাদের গুনাহ মাফ ও রহমত বর্ষণ করতে থাকেন।
ভাগ্য নির্ধারণ: অনেক মুফাসসির ও আলেমদের মতে, এই রাতে আগামী এক বছরের জন্য মানুষের রিজিক, জন্ম-মৃত্যু এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদির ফয়সালা চূড়ান্ত করা হয়। তাই একে ‘ভাগ্য রজনী’ বা ‘রেকর্ডস এর রাত’ বলা হয়।
ইবাদত ও আমল: এই রাতে মুসলমানরা নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত এবং জিকির-আজকারের মাধ্যমে সময় কাটান। মৃত আত্মীয়-স্বজনের জন্য দোয়া করার উদ্দেশ্যে অনেকেই এই রাতে কবরস্থান জিয়ারত করেন।
রমজানের প্রস্তুতি: শাবান মাস হলো পবিত্র রমজান মাসের প্রস্তুতিস্বরূপ। শবে বরাতের মাধ্যমে মুমিনরা মানসিকভাবে রমজানের সিয়াম সাধনার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে শুরু করেন।



