সর্বশেষ প্রকাশিত পোস্টসমূহ

প্রধান শিক্ষক পদে প্রাপ্ত টাইম স্কেল গণনা করেই বেতন পুনঃনির্ধারণের স্পষ্ট নির্দেশনা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল উন্নীত হওয়ার প্রেক্ষাপটে বেতন পুনঃনির্ধারণ (Fixation) নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেছে হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (CGA) কার্যালয়। সাম্প্রতিক এক পত্রে জানানো হয়েছে যে, কোনো প্রধান শিক্ষক তার পদে থাকাকালীন যে কয়টি টাইম স্কেল অর্জন করেছেন, উন্নীত স্কেলের ক্ষেত্রেও কেবল সেই সংখ্যক টাইম স্কেলই বিবেচনাযোগ্য হবে।

নির্দেশনার মূল বিষয়: হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে জারি করা ওই পত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ১৫/১১/২০১৭ তারিখের ২৩১ নম্বর স্মারকের উল্লেখ করা হয়। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষকগণ প্রধান শিক্ষক পদে কর্মরত থাকাকালীন প্রকৃতপক্ষে যে সংখ্যক টাইম স্কেল পেয়েছেন, বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সেই সংখ্যাটিই কার্যকর হবে।

সহকারী শিক্ষক পদের টাইম স্কেল অন্তর্ভুক্ত হবে না: পত্রটিতে একজন শিক্ষকের (জনাব নীলিমা আক্তার) উদাহরণ টেনে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। এতে বলা হয়, যদি কোনো শিক্ষক সহকারী শিক্ষক থেকে পদোন্নতি পেয়ে প্রধান শিক্ষক হন, তবে প্রধান শিক্ষক হিসেবে উন্নীত স্কেলে বেতন নির্ধারণের সময় তার পূর্বের ‘সহকারী শিক্ষক’ পদে প্রাপ্ত টাইম স্কেল গণনা করার কোনো সুযোগ নেই। অর্থাৎ, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার (০৯/০৩/২০১৪) পূর্বে তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে কোনো টাইম স্কেল না পেয়ে থাকলে, তাকে উন্নীত স্কেলে টাইম স্কেল সুবিধা প্রদান করা যাবে না।

মতামত ও সিদ্ধান্ত: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চিফ অ্যাকাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসার (CAFO) কার্যালয়ের সাথে এ বিষয়ে একমত পোষণ করে হিসাব মহানিয়ন্ত্রক কার্যালয় জানিয়েছে, প্রধান শিক্ষক পদে অর্জিত টাইম স্কেলের বাইরে অন্য কোনো পদের টাইম স্কেল বর্তমান বেতন স্কেল উন্নীতকরণের ক্ষেত্রে যোগ হবে না।

প্রভাব: এই নির্দেশনার ফলে সারা দেশে প্রধান শিক্ষকদের বেতন পুনঃনির্ধারণ নিয়ে যে অস্পষ্টতা ছিল তার অবসান ঘটল। এর ফলে এখন থেকে হিসাব রক্ষণ অফিসগুলোতে প্রধান শিক্ষকদের বেতন ফিক্সেশন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এবং স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে যে সকল শিক্ষক সহকারী শিক্ষক পদের টাইম স্কেল গণনা করে বেতন নির্ধারণের অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশনা কিছুটা সীমাবদ্ধতা তৈরি করল।

উল্লেখ্য, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে অবহিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করার সময় হিসাব মহানিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের উপ-হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (পদ্ধতি) মাহবুব আলী স্বাক্ষরিত পত্রের তথ্যগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

সোর্স

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *