সরকারি ব্যয় সংকোচনে কঠোর পদক্ষেপ: অতিরিক্ত সচিবদেরও এখন থেকে ইকোনমি ক্লাসে বিদেশ ভ্রমণ
সরকারি ব্যয় সাশ্রয় এবং অর্থনৈতিক কৃচ্ছ্রসাধনের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এখন থেকে সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও সমপর্যায়ের সকল পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে আকাশপথে বিজনেস বা এক্সিকিউটিভ ক্লাসের পরিবর্তে ‘ইকোনমি ক্লাস’ বা সুলভ শ্রেণিতে ভ্রমণ করতে হবে।
গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অধিশাখা-২ থেকে এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
নির্দেশনার মূল বিষয়বস্তু:
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারের আর্থিক ব্যয় সংকোচনের নিমিত্ত এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। নির্দেশনার প্রধান দিকগুলো হলো:
আওতাভুক্ত কর্মকর্তা: সরকারের অতিরিক্ত সচিব এবং স্বায়ত্তশাসিত, স্ব-শাসিত, সংবিধিবদ্ধ ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সমপর্যায়ের সকল কর্মকর্তা এই আদেশের আওভুক্ত হবেন।
ভ্রমণের শ্রেণি পরিবর্তন: ইতিপূর্বে এই পদমর্যাদার কর্মকর্তারা দাপ্তরিক কাজে বিদেশ ভ্রমণে বিজনেস, ক্লাব বা এক্সিকিউটিভ শ্রেণি ব্যবহারের সুযোগ পেতেন। এখন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের বাধ্যতামূলকভাবে সুলভ শ্রেণি (Economy Class) ব্যবহার করতে হবে।
ভিত্তি ও প্রেক্ষাপট: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গত ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের এক পত্রের প্রেক্ষিতে এবং ২০১২ সালের ৯ অক্টোবরের পুরনো এক অফিস স্মারকের (অনুচ্ছেদ ২১-খ) কার্যকারিতা সাময়িকভাবে শিথিল করে এই নতুন আদেশ জারি করা হয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “সরকারের আর্থিক ব্যয় সংকোচনের নিমিত্ত” এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত বিশ্বব্যাপী চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ বাজেট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিলাসিতা পরিহার করে সাশ্রয়ী পদ্ধতিতে ভ্রমণের এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কার্যকারিতা ও বিতরণ:
উপসচিব র. হ. ম. আলাওল কবির স্বাক্ষরিত এই আদেশের অনুলিপি ইতিধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সকল সিনিয়র সচিব/সচিব এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রশাসনের উচ্চস্তর থেকে শুরু হওয়া এই সাশ্রয়ী নীতি সরকারি তহবিলের ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হবে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহারে অধিকতর দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করবে।



