৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ২০২৬ । পে স্কেলের জন্য কি বরাদ্দ রাখা হয়েছে?
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার একটি সম্প্রসারণমূলক বাজেটের খসড়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘নবম পে-স্কেল’ এর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছবিতে (1.jpg) উল্লিখিত তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ দিকগুলো হলো:
নবম পে-স্কেল: অর্থ সচিব কর্তৃক উপস্থাপিত খসড়ায় আগামী এক বছরের সরকারি আয়-ব্যয়ের কাঠামোর সাথে ‘নবম পে-স্কেল’ এর বিষয়টিও আলোচনা করা হয়েছে।
বাজেটের আকার: বাজেটের মোট আকার ধরা হচ্ছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি: নতুন বাজেটে গুরুত্ব পাচ্ছে সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো।
বরাদ্দের বর্তমান অবস্থা
যদিও পে স্কেল নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, তবে সুনির্দিষ্টভাবে কত টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব সাধারণত বাজেট ঘোষণার দিন (জুন মাসে) চূড়ান্তভাবে জানা যায়। তবে বাজেটের আকার যেহেতু উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হচ্ছে, তাই নতুন পে স্কেল বা বেতন কাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দের বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলে প্রতীয়মান হয়।
সারসংক্ষেপ : বাজেট প্রস্তাবনায় নবম পে স্কেলের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং এটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপিত বিষয়ের তালিকায় স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। তবে এটি বাস্তবায়ন বা কার্যকর করার চূড়ান্ত ঘোষণা জাতীয় সংসদে বাজেট উত্থাপনের পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তুত করছে সরকার। ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে বাজেট প্রণয়নের কাজ জোরেশোরে চলছে। এবারের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য এই বাজেটে নতুন পে-স্কেলের জন্য আলাদা করে বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের হিসাব ধরা হচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে সরকারকে বছরে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হতে পারে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা। নতুন প্রস্তাবে এটি বাড়িয়ে প্রায় ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করার আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া মহার্ঘ ভাতা, চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের ওপর আর্থিক চাপ বেড়েছে। এ কারণে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সরকারের রাজস্ব আয়, বৈদেশিক ঋণ পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর।
জানা গেছে, নতুন বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার বেশি। একই সঙ্গে উন্নয়ন ব্যয় বাড়িয়ে অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় দেশীয় ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনাও থাকবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য স্বস্তির খবর হলেও এর ফলে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাবে। তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব আদায়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
যদিও এখনও সরকারিভাবে নবম পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়নি, তবুও বাজেট ঘিরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী বাজেট উপস্থাপনের সময় এ বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।


