সর্বজনীন পেনশন স্কিম ২০২৬

সর্বজনীন পেনশনে শীর্ষে ‘সমতা’ : কম খরচে সর্বোচ্চ সুরক্ষায় ঝুঁকছেন নিম্ন-আয়ের মানুষ

সরকারের চালু করা সর্বজনীন পেনশন স্কিমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে। তবে সবকটি স্কিমের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাড়া জাগিয়েছে নিম্ন-আয়ের মানুষের জন্য নির্ধারিত ‘সমতা স্কিম’। সাম্প্রতিক তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মোট নিবন্ধনকারীদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই (৭৫ শতাংশ) যুক্ত হয়েছেন এই স্কিমে, যার বর্তমান গ্রাহক সংখ্যা প্রায় পৌনে ৩ লাখে পৌঁছেছে।

কম খরচে ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চমৎকার সুযোগ থাকায় এই স্কিমটি সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

সরকারের অংশীদারিত্বে দ্বিগুণ জমার সুযোগ

সমতা স্কিমের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর কিস্তির বণ্টন। এই স্কিমে একজন সদস্য প্রতি মাসে ৫০০ টাকা জমা দিলে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তার সাথে সমপরিমাণ অর্থাৎ আরও ৫০০ টাকা যোগ করে দেয়। ফলে গ্রাহকের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট বা স্টেটমেন্টে প্রতি মাসে মোট ১,০০০ টাকা জমা (Subscription Payment) হতে থাকে। সরবরাহকৃত একটি গ্রাহকের অফিশিয়াল স্টেটমেন্টেও দেখা গেছে, প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা করে মোট ব্যালেন্স ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আকর্ষণীয় ঋণ সুবিধা ও এককালীন উত্তোলন

ঝুঁকিমুক্ত এই বিনিয়োগে গ্রাহকদের জন্য রয়েছে দারুণ কিছু আর্থিক সুবিধা:

  • এককালীন ৩০% উত্তোলন: বিশেষ প্রয়োজনে গ্রাহক তার জমাকৃত মোট টাকার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত এককালীন তুলে নিতে পারবেন।

  • ৫০% করমুক্ত ঋণ: আপদকালীন সময়ে মোট জমার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—এই ঋণের ওপর কোনো সুদ বা ইন্টারেস্ট নেই

জমার চেয়ে ২৪ গুণ পর্যন্ত রিটার্ন

দীর্ঘমেয়াদে এই স্কিমটি গ্রাহকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক। হিসাব অনুযায়ী, মেয়াদ শেষে একজন পেনশনার তার মোট জমাকৃত মূল টাকার সর্বনিম্ন ২.৩ গুণ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৪.৬ গুণ পর্যন্ত ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, পেনশনারের বয়স ৮০ বছর পার হলে এই রিটার্নের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা বৃদ্ধ বয়সে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ঢাল হিসেবে কাজ করবে।

শতভাগ ট্যাক্স ফ্রি বা আয়কর মুক্ত

বিনিয়োগকারীদের বাড়তি সুবিধা দিতে এই পেনশন স্কিমে জমাকৃত অর্থ এবং তা থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ বা পেনশনের টাকাকে সম্পূর্ণ আয়কর মুক্ত (Tax-Free) রাখা হয়েছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের মতো সাধারণ ও নিম্ন-আয়ের মানুষও এখন শতভাগ করমুক্ত পেনশনের সুবিধা উপভোগ করতে পারছেন।

অটোমেটেড ও নিরাপদ ব্যবস্থা

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের (National Pension Authority) সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং স্বয়ংক্রিয় (Automated) পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। গ্রাহক ঘরে বসেই তার জমার স্টেটমেন্ট ডাউনলোড করতে পারছেন এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেনারেট হওয়া এই সার্টিফিকেটের জন্য কোনো ম্যানুয়াল স্বাক্ষরেরও প্রয়োজন পড়ে না।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের সমপরিমাণ অনুদান এবং সুদমুক্ত ঋণের মতো অনন্য সব সুবিধার কারণেই ‘সমতা স্কিম’ দেশের প্রান্তিক ও নিম্ন-আয়ের মানুষের মাঝে সঞ্চয়ের এক নতুন জোয়ার সৃষ্টি করেছে।

Source

author avatar
admin
আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *