জিপিএফ অগ্রিম I গৃহ নির্মাণ ঋণ

জিপিএফ ঋণের সব টাকা একসঙ্গে পরিশোধ করা যাবে? আইবাস ব্যবস্থায় কী বলছে বর্তমান নিয়ম

সরকারি চাকরিজীবীদের সাধারণ ভবিষ্য তহবিল (জিপিএফ) থেকে অগ্রিম বা ঋণ নেওয়ার পর তা নির্ধারিত কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয়। তবে অনেকের মধ্যেই একটি প্রশ্ন থাকে—যদি কেউ নির্ধারিত কিস্তি শেষ হওয়ার আগেই পুরো বকেয়া একসঙ্গে পরিশোধ করতে চান, তাহলে কি তা সম্ভব?

বর্তমান আইবাস (iBAS++) ব্যবস্থায় প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের অগ্রিম এককালীন পরিশোধের সুযোগ নেই। অর্থাৎ, যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী জিপিএফ থেকে ৭৫ হাজার টাকা উত্তোলন করে ২৪ কিস্তিতে পরিশোধের ব্যবস্থা করে থাকেন এবং ইতোমধ্যে তিনটি কিস্তি কেটে যায়, তাহলে অবশিষ্ট অর্থ একবারে পরিশোধ করার জন্য আইবাসে কোনো স্বাভাবিক অপশন নেই।

আগে যা হতো, এখন আর নয়

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, আইবাস চালুর আগে যখন অনেক হিসাব ম্যানুয়ালি পরিচালিত হতো, তখন কিছু ক্ষেত্রে একসঙ্গে একাধিক কিস্তি জমা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যেত। তবে বর্তমানে সব কার্যক্রম আইবাসের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় সেই ব্যবস্থা কার্যত আর নেই।

ফলে নির্ধারিত কিস্তির বাইরে গিয়ে এককালীন পুরো বকেয়া পরিশোধের সুযোগ বর্তমানে আইবাসে রাখা হয়নি।

মাসিক কর্তনের সর্বোচ্চ সীমা কত?

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, একজন সরকারি চাকরিজীবীর মাসিক জিপিএফ চাঁদা এবং ঋণের কিস্তি মিলিয়ে মোট কর্তনের পরিমাণ মূল বেতনের (Basic Pay) ২৫ শতাংশের বেশি হতে পারে না।

অর্থাৎ, আইবাসে এমনভাবে কর্তনের হার নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে মোট কর্তন ২৫ শতাংশ অতিক্রম না করে। এর বেশি হার সাধারণ নিয়মে সিস্টেম গ্রহণ করে না।

কিস্তি দ্রুত শেষ করতে চাইলে কী করা যাবে?

যদিও এককালীন পুরো অর্থ পরিশোধের সুযোগ নেই, তবে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে মাসিক কিস্তির পরিমাণ বাড়িয়ে দ্রুত ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

তবে এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। মাসিক জিপিএফ চাঁদা ও কিস্তি মিলিয়ে মোট কর্তন মূল বেতনের ২৫ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে। এই সীমার মধ্যে থেকে কিস্তির পরিমাণ বৃদ্ধি করলে ঋণের মেয়াদ কমে আসতে পারে।

কখন নিজেই পরিবর্তন করা যায়?

আইবাস ব্যবস্থায় সাধারণভাবে জুন ও জুলাই মাসে জিপিএফ সংক্রান্ত কিছু পরিবর্তন নিজে করার সুযোগ থাকে। এ সময় চাকরিজীবীরা প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত সীমার মধ্যে চাঁদা বা কিস্তির হার সমন্বয় করতে পারেন।

তবে বছরের অন্য সময় এ ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসের (Accounts Office) সহায়তা নিতে হয়।

২৫ শতাংশ পর্যন্ত কর্তন বাড়ানোর প্রক্রিয়া

যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী মাসিক কর্তনের হার বৃদ্ধি করতে চান, তাহলে প্রয়োজনীয় আবেদন ও সরকারি আদেশ (জিও) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। সংশ্লিষ্ট জিও আইবাসে আপলোড হওয়ার পর কর্তনের হার সংশোধন করা সম্ভব হয়।

অর্থাৎ, কিস্তির পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব হলেও তা নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই করতে হবে।

যা জানা জরুরি

  • জিপিএফ ঋণের অবশিষ্ট অর্থ এককালীন পরিশোধের সুযোগ বর্তমানে আইবাসে নেই।
  • আইবাস চালুর আগে সীমিত পরিসরে ম্যানুয়ালি একাধিক কিস্তি একসঙ্গে জমা দেওয়ার নজির থাকলেও এখন সেই ব্যবস্থা কার্যকর নয়।
  • মাসিক জিপিএফ চাঁদা ও ঋণের কিস্তি মিলিয়ে মোট কর্তন মূল বেতনের ২৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
  • জুন-জুলাই মাসে নির্ধারিত সীমার মধ্যে কিছু পরিবর্তন নিজে করা যায়।
  • বছরের অন্য সময় পরিবর্তনের জন্য হিসাবরক্ষণ অফিস এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদনের মাধ্যমে আইবাসে তথ্য হালনাগাদ করতে হয়।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জিপিএফ ব্যবস্থাপনা এখন সম্পূর্ণ ডিজিটাল হওয়ায় আগের তুলনায় প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। তবে একই সঙ্গে কিছু নমনীয়তা কমে যাওয়ায় এককালীন ঋণ পরিশোধের মতো সুবিধা বর্তমানে আর সহজলভ্য নয়।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *