বাজেট বহির্ভূত প্রকল্পে লাগাম : ‘রুলস অব বিজনেস’ মানার কঠোর নির্দেশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের
অর্থ বিভাগের পূর্ব পরামর্শ বা অনুমোদন ছাড়া নতুন কোনো প্রকল্প গ্রহণ বা আর্থিক সংশ্লেষ রয়েছে এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ-২ (ব্যয় ব্যবস্থাপনা-৬ শাখা) থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
যুগ্মসচিব কাউসার নাসরীন স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬ (সংশোধিত ফেব্রুয়ারি ২০২৪)’ এবং ‘সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০১৪’ এর স্পষ্ট লঙ্ঘন করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ প্রায়শই বাজেট বহির্ভূত নানা উদ্যোগ নিচ্ছে, যা সরকারের সামগ্রিক আর্থিক শৃঙ্খলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষায় রুল-১৩ অনুসরণের তাগিদ
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, রুলস অব বিজনেসের রুল-১৩ অনুযায়ী—অর্থ বিভাগের সাথে পূর্ব পরামর্শ ব্যতিরেকে কোনো মন্ত্রণালয়ই অনুমোদিত বাজেটের বাইরে এমন কোনো আদেশ জারি করতে পারবে না, যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রজাতন্ত্রের আর্থিক বিষয়কে প্রভাবিত করে।
পাশাপাশি, ‘সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০১৪’-এর নির্দেশ ১৫১-এ বলা হয়েছে, অন্যান্য মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সাথে কোনো বিষয়ে পরামর্শ করার ক্ষেত্রে রুলস অব বিজনেসের বিধান অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পালন করতে হবে।
কেন এই কঠোর নির্দেশনা?
অর্থ মন্ত্রণালয় লক্ষ্য করেছে যে, অনেক ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের সাথে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা বা পরামর্শ ছাড়াই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় নিজস্ব উদ্যোগে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়বদ্ধতা তৈরি করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
অনুমোদিত বাজেটের বাইরে গিয়ে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ।
নতুন হাসপাতাল স্থাপন।
বিদ্যমান হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা উন্নীতকরণ বা বৃদ্ধি।
পরিপত্রে সতর্ক করে বলা হয়েছে, অর্থ বিভাগের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে রুলস অব বিজনেসের ব্যাপক ব্যত্যয় ঘটছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সরকারের ওপর—প্রত্যাশিত সীমার চেয়ে পরিচালন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত বাজেট ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।
অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ
উদ্ভূত প্রেক্ষাপটে সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় যেকোনো নতুন প্রকল্প বা পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্বে ‘রুল-১৩’ এর বিধান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করা হয়েছে।
এই পরিপত্রটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে বলে পরিপত্রে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই নির্দেশনার অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), সকল সিনিয়র সচিব/সচিব এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।


