ভূমি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ও সীল ব্যবহারে কড়াকড়ি নির্দেশ: অবহেলায় বিভাগীয় ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি
ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য স্বাক্ষরের সাথে পূর্ণ নাম, পদবী, তারিখ ও দাপ্তরিক সীল ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত এক বিশেষ পরিপত্রের মাধ্যমে এই নির্দেশনা পুনরায় মনে করিয়ে দিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ২০০৭ সালেও একই বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছিল। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে— নামজারি (মিউটেশন) কেস সৃজন, প্রস্তাব প্রেরণ, এল.এ. (ভূমি অধিগ্রহণ) কেস এবং বিভিন্ন নকশা প্রস্তুতসহ রাজস্ব প্রশাসনের যাবতীয় কাজে নিয়োজিত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তাদের স্বাক্ষরের নিচে অবশ্যই পূর্ণ নাম, পদবী, তারিখ এবং সীল ব্যবহার করতে হবে। উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ সকল কর্মকর্তার জন্যই এই নিয়ম প্রযোজ্য।
তবে অতি সম্প্রতি লক্ষ্য করা গেছে যে, মাঠ পর্যায়ের অনেক কার্যালয়েই এই নির্দেশ সঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা কেবল অস্পষ্ট স্বাক্ষর দিয়ে ফাইল ছেড়ে দিচ্ছেন, যেখানে তাদের নাম বা পদবীর কোনো উল্লেখ থাকছে না। ভূমি মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং একে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ আদেশ ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘনের সামিল বলে গণ্য করছে।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এখন থেকে জমা-খারিজ বা নামজারি, ভূমি বন্দোবস্ত এবং এল.এ. কেস সংক্রান্ত যেকোনো নথিপত্রে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই তার পূর্ণ নাম ও সীল সংবলিত স্বাক্ষর দিতে হবে। এই নির্দেশনার কোনো প্রকার ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ১৯৮৫’ অনুযায়ী কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইতিমধ্যেই এই পরিপত্রের অনুলিপি চট্টগ্রাম বিভাগসহ দেশের সকল বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে পাঠানো হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে এবং গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
ভূমি সংশ্লিষ্ট কাজের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং জালিয়াতি রোধে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।




