শাস্তি । সাময়িক বরখাস্ত । অপসারণ

চার্জশিট ছাড়াই ৭ বছর ঝুলে বিভাগীয় মামলা, পদোন্নতি নিয়ে বিভ্রান্তি ও বৈষম্যের অভিযোগ

কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা অনুমোদিত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও যদি চার্জশিট (অভিযোগপত্র) ইস্যু না করা হয়, তাহলে তিনি পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন কি না—এ প্রশ্ন নিয়ে প্রশাসনিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। সম্প্রতি এমন একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পেশাজীবী মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রায় সাত বছর আগে বিভাগীয় মামলা অনুমোদিত হলেও আজ পর্যন্ত কোনো চার্জশিট ইস্যু করা হয়নি। ফলে তিনি পদোন্নতির জন্য যোগ্য কি না, তা নিয়ে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে।

প্রশাসনিক বিধিবিধান অনুযায়ী, কোনো বিভাগীয় মামলা চলমান থাকলে এবং তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সাধারণত পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা হয় না। তবে আইন ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলার অনুমোদন দেওয়া হলেও যদি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রই ইস্যু না করা হয়, তাহলে মামলাটি কার্যকরভাবে চলমান কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

এ বিষয়ে একজন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ২০১৫ সালে তিনি জুনিয়র কনসালটেন্ট ও সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করেন। পদোন্নতির সময় তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে অন্তত জুনিয়র কনসালটেন্ট পদে উন্নীত হবেন। কিন্তু পরবর্তীতে প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায়, তার নিচের সিরিয়ালে থাকা কর্মকর্তারা পদোন্নতি পেলেও তিনি বঞ্চিত হয়েছেন।

তার দাবি, পরে তদন্ত করে জানা যায় যে তার নিচের সিরিয়ালে থাকা এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ছিল। কিন্তু ভুলবশত বা অন্য কোনো কারণে সেই মামলার তথ্য তার নামের পাশে যুক্ত করা হয় এবং প্রকৃত অভিযুক্ত কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়ে যান।

ভুক্তভোগী কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতি, প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা থাকায় অনেক সময় বিভাগীয় মামলা ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পদোন্নতি, পদায়ন ও অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।

প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভাগীয় মামলা বছরের পর বছর অমীমাংসিত রেখে দেওয়া ন্যায়বিচার ও সুশাসনের পরিপন্থী। অভিযোগ থাকলে দ্রুত তদন্ত ও চার্জশিট প্রদান করে মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া উচিত। অন্যদিকে অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি না থাকলে মামলাটি প্রত্যাহার বা নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।

আইনবিদদের একটি অংশ মনে করেন, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদনের পর দীর্ঘ সময় চার্জশিট ইস্যু না হওয়া প্রশাসনিক গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার ইঙ্গিত হতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল, উচ্চ আদালত বা অন্যান্য আইনগত প্রতিকার চাইতে পারেন।

তবে অপর একটি মত হলো, বিভাগীয় মামলা আনুষ্ঠানিকভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেটি প্রশাসনিক রেকর্ডে বিদ্যমান থাকে এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ফলে কেবল চার্জশিট ইস্যু না হওয়ার বিষয়টি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদোন্নতির অধিকার নিশ্চিত করে না।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা বিভাগীয় মামলার বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা ও সময়সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় প্রশাসনে বৈষম্য, পদোন্নতি বঞ্চনা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আরও বাড়তে পারে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *