এসিআর (ACR) দেখার সুযোগ নেই, বিরূপ মন্তব্য থাকলে কর্তৃপক্ষ জানাতে বাধ্য
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (Annual Confidential Report-ACR) নিয়ে অনেকের মধ্যেই কৌতূহল ও প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ একজন কর্মকর্তাকে কত নম্বর দিয়েছেন বা কী ধরনের মন্তব্য লিখেছেন, তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজে দেখতে পারেন কি না—এ বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হয়।
প্রচলিত বিধান অনুযায়ী, একজন কর্মকর্তা তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মূল্যায়িত এসিআর সরাসরি দেখার সুযোগ পান না। বর্তমানে এমন কোনো বৈধ অনলাইন পোর্টাল, সফটওয়্যার বা প্রশাসনিক উইন্ডো নেই, যেখানে একজন কর্মকর্তা লগইন করে নিজের এসিআরের নম্বর বা মন্তব্য দেখতে পারবেন। ফলে মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি গোপনীয়তার মধ্যেই সম্পন্ন হয়।
তবে গোপনীয়তা বজায় থাকলেও কর্মকর্তাদের অধিকার রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিধান রয়েছে। “গোপনীয় অনুবেদন অনুশাসনমালা” অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তার কর্মদক্ষতা, সততা, আচরণ বা দায়িত্ব পালনের বিষয়ে যদি মূল্যায়নকারী কর্মকর্তা বিরূপ বা নেতিবাচক মন্তব্য করেন, তাহলে সেই মন্তব্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো বাধ্যতামূলক।
এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চিঠির মাধ্যমে জানিয়ে দেয় যে, তার এসিআরে নির্দিষ্ট বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা, কৈফিয়ত বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেওয়া হয়। অর্থাৎ, কোনো নেতিবাচক মন্তব্য গোপন রেখে ভবিষ্যতে ক্ষতিকর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ বিধিমালায় সীমিত করা হয়েছে।
প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যবস্থা কর্মকর্তাদের জন্য এক ধরনের সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে। কারণ, তারা যদি কোনো বিরূপ মূল্যায়নের মুখোমুখি হন, তাহলে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ পান এবং প্রয়োজনে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নিতে পারেন।
অন্যদিকে, কোনো কর্মকর্তা যদি এসিআর সংক্রান্ত কোনো বিরূপ মন্তব্যের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো লিখিত নোটিশ বা চিঠি না পান, তাহলে সাধারণভাবে ধরে নেওয়া যায় যে তার অনুবেদনে এমন কোনো নেতিবাচক মন্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সেক্ষেত্রে মূল্যায়ন ইতিবাচক অথবা স্বাভাবিক প্রশাসনিক মানদণ্ডের মধ্যেই রয়েছে বলে বিবেচিত হয়।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করে, এসিআর ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি ও অন্যান্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করা। তাই গোপনীয়তা ও জবাবদিহিতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।


