প্রশিক্ষণ । সংযুক্তি । উচ্চশিক্ষা। প্রেষণ

বিসিআইসি কর্মচারীদের উচ্চশিক্ষা: চাকরি বজায় রেখে মাস্টার্স করার সুবর্ণ সুযোগ

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি)-এর ১৭তম গ্রেডে কর্মরত কর্মচারীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে তৈরি হয়েছে নতুন দিগন্ত। অনেকেই মনে করেন সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিম্ন গ্রেডে চাকরি করলে হয়তো উচ্চশিক্ষার সুযোগ মেলা কঠিন। কিন্তু বর্তমান নিয়ম ও বাস্তবসম্মত সুযোগ-সুবিধা বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, চাকরি বজায় রেখেই বিসিআইসি কর্মীরা খুব সহজেই তাদের মাস্টার্স (স্নাতকোত্তর) ডিগ্রি সম্পন্ন করতে পারেন।

নিয়ম অনুযায়ী পূর্ণকালীন ২ বছরের ছুটি পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু প্রশাসনিক জটিলতা বা সীমাবদ্ধতা থাকলেও, বিকল্প এবং অত্যন্ত কার্যকরী উপায়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের চমৎকার পথ খোলা রয়েছে।

২ বছরের পূর্ণকালীন ছুটি কি পাওয়া সম্ভব?

সাধারণত স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রেষণ (Deputation) বা শিক্ষা ছুটি (Study Leave) পাওয়ার নির্দিষ্ট নীতিমালা থাকে। তবে ১৭তম গ্রেডের মতো গুরুত্বপূর্ণ মাঠপর্যায়ের বা অফিসিয়াল পদে টানা ২ বছরের পূর্ণকালীন ছুটি পাওয়া বেশ কঠিন এবং তা সম্পূর্ণভাবে কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা ও পদের কর্মব্যস্ততার ওপর নির্ভর করে। অনেক সময় ছুটি মঞ্জুর হলেও তা অবৈতনিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা একজন চাকরিজীবীর আর্থিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

সবচেয়ে সেরা বিকল্প: ইভিনিং ও উইকেন্ড মাস্টার্স

টানা ২ বছর ছুটির আবেদন করে অনিশ্চয়তায় না ভুগে, চাকরি ও নিয়মিত বেতন ঠিক রেখে মাস্টার্স সম্পন্ন করার সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান হলো সান্ধ্যকালীন (Evening), নৈশকালীন বা ছুটির দিনের (Weekend) কোর্সসমূহ

বর্তমানে দেশের নামী-দামী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, নামকরা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) চাকরিজীবীদের কথা মাথায় রেখে এই বিশেষ প্রোগ্রামগুলো পরিচালনা করছে।

  • পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বা বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন ও উইকেন্ড (শুক্রবার ও শনিবার) মাস্টার্স প্রোগ্রাম রয়েছে। এতে অফিস সময়ের কোনো ক্ষতি না করেই ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সম্ভব।

  • বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি): দূরশিক্ষণ ও নমনীয় ক্লাসের জন্য বাউবি চাকরিজীবীদের প্রথম পছন্দ। এখানে মূলত শুক্র ও শনিবার ক্লাস-পরীক্ষা হওয়ায় ১৭ গ্রেডের একজন কর্মচারী অনায়াসেই তার চাকরি সামলে ডিগ্রি অর্জন করতে পারবেন।

কেন এই বিকল্প পথটিই সেরা?

১. আর্থিক নিরাপত্তা: পূর্ণকালীন ছুটি নিলে বেতন বন্ধ বা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। কিন্তু সান্ধ্যকালীন বা উইকেন্ড কোর্সে নিয়মিত বেতন-ভাতা সচল থাকে।

২. কর্মঅভিজ্ঞতা বৃদ্ধি: উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি চাকরিকালীন অভিজ্ঞতা বা ‘সার্ভিস লেন্থ’ কাউন্ট হতে থাকে, যা ভবিষ্যতে পদোন্নতিতে সাহায্য করবে।

৩. প্রাতিষ্ঠানিক অনুমতি পাওয়া সহজ: পূর্ণকালীন ছুটির চেয়ে শুক্র-শনিবার বা অফিসের পর ক্লাসের অনুমতি (NOC) কর্তৃপক্ষ খুব সহজেই দিয়ে থাকে।

কর্মচারীদের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ

আপনি যদি বিসিআইসি-এর ১৭ গ্রেডের কর্মী হয়ে মাস্টার্স করতে চান, তবে নিচের প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করতে পারেন: ১. প্রথমে আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় (উন্মুক্ত, প্রাইভেট বা পাবলিকের সান্ধ্যকালীন কোর্স) চূড়ান্ত করুন। ২. ভর্তির প্রক্রিয়া শুরুর আগেই আপনার বিভাগীয় প্রধানের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের কাছে “উচ্চশিক্ষায় ভর্তির অনুমতি” বা NOC (No Objection Certificate)-এর জন্য আবেদন করুন। আবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করুন যে, এতে আপনার অফিসিয়াল দায়িত্ব পালনে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না। ৩. অনুমতিপত্র পাওয়ার পর ভর্তি হয়ে শুক্র ও শনিবারে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিন।

উপসংহার: বিসিআইসি-এর মতো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের জন্য উচ্চশিক্ষা এখন আর অধরা কোনো স্বপ্ন নয়। ২ বছরের পূর্ণকালীন ছুটির পেছনে না ছুটে, কৌশলগতভাবে উন্মুক্ত বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের উইকেন্ড কোর্সে ভর্তি হওয়াই হবে একজন বুদ্ধিমান কর্মচারীর সেরা সিদ্ধান্ত। এতে ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা যেমন সমৃদ্ধ হবে, তেমনি উচ্চশিক্ষার ডিগ্রিও যোগ হবে আপনার প্রোফাইলে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *