আয়কর । ভ্যাট । আবগারি শুল্ক

প্রথমবার রিটার্ন দিলেই করছাড়! জেনে নিন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন আয়কর নিয়ম

দেশের রাজস্ব খাতকে আরও গতিশীল এবং নতুন করদাতাদের উদ্বুদ্ধ করতে ২০২৬–২৭ অর্থবছরে আয়কর নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন ও ছাড় নিয়ে এসেছে সরকার। বিশেষ করে যারা জীবনে প্রথমবারের মতো আয়কর রিটার্ন জমা দিতে যাচ্ছেন, তাদের জন্য রয়েছে বিশাল সুখবর। পাশাপাশি করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি এবং অনলাইনে সারা বছর রিটার্ন জমার সুযোগসহ একগুচ্ছ নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে।

নতুন এই নিয়মের বিস্তারিত খুঁটিনাটি নিচে তুলে ধরা হলো:

১. নতুন করদাতাদের জন্য বিশেষ ছাড় (ন্যূনতম কর মাত্র ১,০০০ টাকা)

সাধারণত একজন নিয়মিত করদাতার জন্য ন্যূনতম করের পরিমাণ ৫,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নতুন করদাতাদের উৎসাহিত করতে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। আপনি যদি জীবনে প্রথমবারের মতো আয়কর রিটার্ন জমা দেন, তবে আপনার ন্যূনতম কর হবে মাত্র ১,০০০ টাকা

২. করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি

মধ্যবিত্ত ও চাকরিজীবীদের স্বস্তি দিয়ে করমুক্ত আয়ের সাধারণ সীমা ৩.৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ, বছরে আপনার মোট আয় ৪ লাখ টাকা বা তার কম হলে আপনাকে কোনো আয়কর দিতে হবে না। আয় ৪ লাখ টাকা অতিক্রম করলেই কেবল করযোগ্য আয়ের ওপর ট্যাক্স হিসাব করা হবে।

৩. নতুন করহার (Tax Slabs)

করমুক্ত আয়সীমা (৪ লাখ টাকা) পার হওয়ার পর, অবশিষ্ট করযোগ্য আয়ের ওপর নিচের হারে কর প্রযোজ্য হবে:

  • প্রথম ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত: ১০%

  • পরবর্তী ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত: ১৫%

  • পরবর্তী ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত: ২০%

  • পরবর্তী ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত: ২৫%

  • অবশিষ্ট অতিরিক্ত আয়ের ওপর: ৩০%

৪. সারা বছর অনলাইনে রিটার্ন ও সময়ভিত্তিক করছাড়/জরিমানা

এখন থেকে করদাতারা বছরের যেকোনো সময় ঘরে বসেই অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। তবে বছরের কোন সময়ে রিটার্ন দিচ্ছেন, তার ওপর ভিত্তি করে করছাড় বা অতিরিক্ত ফি নির্ধারিত হবে:

  • জুলাই–সেপ্টেম্বর (আগে রিটার্ন দিলে পুরস্কার): এই তিন মাসের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ওপর ৫% করছাড় (সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত) পাওয়া যাবে।

  • অক্টোবর–ডিসেম্বর (স্বাভাবিক সময়): এই সময়ে রিটার্ন দিলে কোনো অতিরিক্ত ছাড়ও নেই, আবার কোনো জরিমানাও গুনতে হবে না।

  • জানুয়ারি–মার্চ (দেরি হলে মাশুল): অতিরিক্ত ২% অথবা ৩,০০০ টাকা (যেটি বেশি) জরিমানা দিয়ে রিটার্ন জমা দিতে হবে।

  • এপ্রিল–জুন (শেষ সময়): বছরের শেষ প্রান্তিকে রিটার্ন দিলে অতিরিক্ত ৫% অথবা ৫,০০০ টাকা (যেটি বেশি) জরিমানা প্রযোজ্য হবে।

একটি সহজ উদাহরণ: কীভাবে হিসাব করবেন আপনার কর?

ধরুন, আপনার বার্ষিক মোট আয় ৪,২০,০০০ (চার লাখ ২০ হাজার) টাকা

  • নিয়ম অনুযায়ী প্রথম ৪,০০,০০০ টাকা করমুক্ত।

  • তাহলে আপনার করযোগ্য আয় দাঁড়ায়: $৪,২০,০০০ – ৪,০০,০০০ = ২০,০০০$ টাকা।

  • এই ২০,০০০ টাকার ওপর ১০% হারে কর আসে ২,০০০ টাকা

এখন ন্যূনতম করের নিয়মানুযায়ী আপনার কর কত হবে?

  • আপনি যদি প্রথমবার রিটার্ন দেন: হিসাব অনুযায়ী কর ২,০০০ টাকা হলেও, নতুন করদাতা হিসেবে আপনি বিশেষ ছাড় পাবেন। তবে ন্যূনতম করের নিয়ম মেনে আপনাকে ১,০০০ টাকা কর দিতে হবে।

  • আপনি যদি পুরোনো/নিয়মিত করদাতা হন: আপনার হিসাবকৃত কর ২,০০০ টাকা হলেও, আইন অনুযায়ী ন্যূনতম করের কোটা পূরণ করতে আপনাকে ৫,০০০ টাকা কর পরিশোধ করতে হবে।

বার্তা: করদাতাদের সময়মতো এবং বছরের শুরুর দিকেই (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা, যাতে জরিমানার হাত থেকে বাঁচার পাশাপাশি ৫% করছাড়ের সুবিধাও লুফে নেওয়া যায়।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *