চূড়ান্ত পর্যায়ে নবম পে-স্কেল: জুলাইয়ের শেষেই আসতে পারে গেজেট, শুরুতে বাড়বে কেবল ‘বেসিক’
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘নবম পে-স্কেল’ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদিও নতুন অর্থবছর শুরু হলেও এখনো আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশিত হয়নি, তবে অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর রূপরেখা প্রণয়নের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি জুলাই মাসের মাঝামাঝি কিংবা শেষ সপ্তাহের মধ্যেই বহুল কাঙ্ক্ষিত এই পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশিত হতে পারে বলে জোরালো আভাস পাওয়া গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বাজার ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করে এবার পুরো পে-স্কেল একবারে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিশেষ কৌশল নিয়েছে সরকার।
প্রথম ধাপে বাড়বে কেবল মূল বেতন (বেসিক)
নতুন বেতন কাঠামোর প্রথম ধাপে কর্মচারীদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বা ভাতা না বাড়িয়ে শুধু ‘মূল বেতন’ বা ‘বেসিক’ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে চিকিৎসা, বাড়ি ভাড়া, যাতায়াতসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা বৃদ্ধি করা হবে। মূলত মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে এবং বাজেটের ওপর এককালীন বড় চাপ কমাতে এই ক্রমান্বয়িক (Phase-by-phase) পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়েছে।
নিচু গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বড় স্বস্তি
নবম পে-স্কেলেও বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হচ্ছে। তবে এবারের স্কেলের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের প্রতি বিশেষ নজর। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি চাকরিজীবীরা যেভাবে হিমশিম খাচ্ছেন, তা বিবেচনায় নিয়ে নিচু গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে গ্রেডভেদে নিচের স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ঘটবে এবং দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য অনেকটাই কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাজেটে ৪৪ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ
ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের এই মহাপরিকল্পনা সফল করতে সরকার আর্থিক প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে। নতুন পে-স্কেলের প্রাথমিক ধাপ অর্থাৎ কেবল মূল বেতন বৃদ্ধির অংশটুকু কার্যকর করতেই এবারের জাতীয় বাজেটে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার বাড়তি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বিশাল আর্থিক বরাদ্দ প্রমাণ করে যে, সরকার নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং গেজেট প্রকাশের পরপরই এর সুফল পেতে শুরু করবেন কর্মচারীরা।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে:
একবারে সব ভাতা না বাড়িয়ে প্রথমে মূল বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি বর্তমান সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। এতে একদিকে যেমন লাখ লাখ সরকারি কর্মচারী তাৎক্ষণিক আর্থিক স্বস্তি পাবেন, অন্যদিকে বাজারে হঠাৎ করে অতিরিক্ত মুদ্রার প্রবাহ তৈরি হবে না, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।
সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই জুলাই মাসেই নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন বা গেজেট জারি হতে যাচ্ছে—এমন প্রত্যাশায় এখন দিন গুনছেন সচিবালয় থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের লাখো চাকুরিজীবী।



