বাজেট বক্তব্যে যুক্ত হচ্ছে নতুন পে-স্কেল প্রসঙ্গ, সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে আশাবাদ
আসন্ন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ঘিরে সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রত্যাশিত নতুন পে-স্কেল ইস্যুতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্যের প্রাথমিক খসড়ায় নতুন পে-স্কেল সংক্রান্ত কোনো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের দাবি, বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রস্তাব এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে চলমান আলোচনার পর বিষয়টি বাজেট বক্তব্যে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্রগুলো বলছে, নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপলক্ষে অর্থমন্ত্রীর জন্য প্রস্তুত করা বাজেট বক্তব্যে আংশিক সংশোধন আনা হচ্ছে। সংশোধিত বক্তব্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কাঠামো পর্যালোচনা, নতুন পে-স্কেল প্রণয়ন বা এ বিষয়ে একটি কমিশন গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে উল্লেখ থাকতে পারে।
বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন পে-স্কেল নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ বিরাজ করছে। সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন পুনর্নির্ধারণ এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বাজেট বক্তব্যে নতুন পে-স্কেলের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা সরাসরি বেতন বৃদ্ধি ঘোষণা না হলেও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশেষ করে নতুন বেতন কমিশন গঠন বা বেতন কাঠামো পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণা এলে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা যাবে।
অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের রাজস্ব আয়, বাজেট ঘাটতি, মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হবে। কারণ নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে বিষয়টি নিয়ে সরকারকে আর্থিক সক্ষমতা ও প্রশাসনিক বাস্তবতা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এদিকে বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠন নতুন পে-স্কেলের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে বিদ্যমান বেতন কাঠামোর যথেষ্ট ব্যবধান তৈরি হয়েছে। তাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন বেতন স্কেল সময়োপযোগী পদক্ষেপ হবে।
তবে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বাজেট বক্তব্যে বিষয়টি কীভাবে উপস্থাপন করা হবে এবং সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেদিকে সরকারি চাকরিজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সবার নজর রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, বাজেট বক্তব্যে নতুন পে-স্কেল প্রসঙ্গ অন্তর্ভুক্ত হওয়া সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ভর করবে সরকারের নীতিগত অনুমোদন ও আর্থিক সক্ষমতার ওপর। ফলে বাজেট ঘোষণার দিন এ বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোর্স: নিউজ২৪



