নামেই পদোন্নতি, বাস্তবে যেন বিদ্রূপ! মাত্র ২৫০ টাকার স্কেল বৃদ্ধিতে নিম্নশ্রেণির কর্মচারীর কপালে প্রহসন
পদোন্নতি যেকোনো চাকরিজীবীর কর্মজীবনে অনুপ্রেরণা ও আনন্দের বার্তা নিয়ে আসার কথা। কিন্তু সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তরের সম্প্রতি প্রকাশিত একটি অফিস আদেশ নিম্নশ্রেণির কর্মচারীদের মনে চরম হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীকে মাত্র ১ ধাপ উন্নীত করে ১৯তম গ্রেডে নেওয়ার এই আদেশকে অনেকেই পদোন্নতি না বলে এক ধরণের ‘নিষ্ঠুর বিদ্রূপ’ ও প্রহসন হিসেবে দেখছেন।
আদেশের নেপথ্য চিত্র: কী আছে সেই প্রজ্ঞাপনে?
গত ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (শামীম আহমেদ) স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয় যে, ‘সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তরের (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা, ২০২০’ অনুযায়ী এবং চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫ এর প্রেক্ষিতে জাহিদ হাসান নামক একজন ‘অফিস সহায়ক’-কে ‘ফটোকপি অপারেটর’ পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে।
| বিবরণ | পূর্বের পদ ও স্কেল | পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদ ও স্কেল | পার্থক্য |
| পদ ও গ্রেড | অফিস সহায়ক (২০তম গ্রেড) | ফটোকপি অপারেটর (১৯তম গ্রেড) | মাত্র ১ গ্রেড উন্নতি |
| মূল বেতন স্কেল | ৮,২৫০ – ২০,০১০/- টাকা | ৮,৫০০ – ২০,০৭০/- টাকা | মাত্র ২৫০ টাকা মূল বেতন বৃদ্ধি |
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মচারীকে যোগদানের তারিখ হতে পরবর্তী ১ বছর শিক্ষানবিস হিসেবে থাকতে হবে এবং শর্তসাপেক্ষে তা বিবেচনা করা হবে। তবে প্রশ্ন উঠেছে—যেখানে দীর্ঘ চাকরিজীবনে একটি পদোন্নতির জন্য কর্মচারীদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়, সেখানে নামকাওয়াস্তে মাত্র ২৫০ টাকার মূল বেতন বৃদ্ধিকে কীভাবে একটি বাস্তবসম্মত পদোন্নতি বলে গণ্য করা যায়?
উচ্চ ও নিম্ন স্তরের কর্মচারীদের বৈষম্যের ব্যবধান
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি চাকুরিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা আমলাদের পদোন্নতি হলে সাধারণত ৩ থেকে ৪ ধাপ বা গ্রেড অতিক্রম করে। ফলে তাদের জীবনযাত্রার মানে দৃশ্যমান ও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে। কিন্তু নিম্নশ্রেণির কর্মচারীদের বেলায় এই ১ গ্রেডের ব্যবধান ও ২৫০ টাকার লাফ প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরের বৈষম্যকেই নগ্নভাবে ফুটিয়ে তোলে।
জনগণের প্রশ্ন: এটি কি পদোন্নতি নাকি প্রহসন?
কর্মকর্তাদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও গ্রেড লাফের অবাধ সুযোগ থাকলেও, কর্মচারীদের ভাগে কেন বারবার ঔপনিবেশিক আমলের শোষণ ও বৈষম্যমূলক নীতি বহাল থাকবে? স্বাধীন দেশে আজও সরকারি চাকরির নিচের ধাপের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এমন ব্যবধান ব্রিটিশ আমলের শোষণমূলক প্রশাসনিক কাঠামোর কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ ও দাবি
ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি, নামসর্বস্ব এই ধরনের পদোন্নতির সংস্কৃতি অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। সরকারি চাকুরির সর্বনিম্ন স্তরে কর্মরত কর্মচারীদের শ্রম ও মেধা বিবেচনা করে তাদের আরও সম্মানজনক মর্যাদা এবং বৈষম্যহীন ন্যায়সঙ্গত স্কেল প্রদান করা জরুরি। প্রশাসনিক বৈষম্যের এই শেকল ভাঙতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কর্মচারীরা।




