পে-স্কেল I গেজেট । প্রজ্ঞাপন । পরিপত্র

পেনশনারের অতিরিক্ত অর্থ আদায়ে মাসিক নিট পেনশনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ কাটা যাবে

পেনশনভোগীদের ভুলবশত বা অতিরিক্ত পরিশোধ করা অর্থ সমন্বয় বা আদায়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো পেনশনারের কাছ থেকে অতিরিক্ত গ্রহণ করা অর্থ আদায়ের প্রয়োজন হলে তা একসঙ্গে পুরোটা কেটে নেওয়া যাবে না। বরং পেনশনারের মাসিক নিট পেনশনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ মাসিক ভিত্তিতে সমন্বয় করা যেতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগের প্রবিধি-১ শাখা থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে জারি করা এক পত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। পত্রটির বিষয় ছিল—“পেনশনারদের অতিরিক্ত প্রদত্ত অর্থ সমন্বয় প্রসঙ্গে”

কী বলা হয়েছে নির্দেশনায়

পত্রে হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের একটি স্মারকের সূত্র উল্লেখ করে বলা হয়েছে, পেনশনার কর্তৃক অতিরিক্ত গৃহীত অর্থ দ্রুত আদায় বা সমন্বয়ের প্রয়োজন হলে বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে পেনশনারের আর্থিক সচ্ছলতার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অর্থাৎ, সরকারি অর্থ অতিরিক্ত পরিশোধ হয়ে থাকলে সেটি ফেরত নেওয়ার অধিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের থাকলেও পেনশনারের পুরো মাসিক পেনশন একবারে কেটে নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। বরং পেনশনারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে কিস্তিতে অর্থ সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।

সর্বোচ্চ কত টাকা কাটা যাবে?

নির্দেশনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো—পেনশনার কর্তৃক গৃহীত অতিরিক্ত অর্থ তার মাসিক নিট পেনশনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিমাসে সমন্বয় করা যেতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো পেনশনারের মাসিক নিট পেনশন যদি ২০ হাজার টাকা হয়, তাহলে অতিরিক্ত গ্রহণ করা অর্থ আদায়ের জন্য মাসে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সমন্বয় করা যেতে পারে।

একইভাবে, মাসিক নিট পেনশন ৩০ হাজার টাকা হলে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা এবং ৪০ হাজার টাকা হলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত মাসিক সমন্বয়ের সীমা দাঁড়াবে।

তবে এখানে “সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ” কথাটি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ প্রতিটি ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে ৫০ শতাংশ কেটে নিতে হবে—এমন কথা নির্দেশনায় বলা হয়নি। বরং পেনশনারের আর্থিক সচ্ছলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করার কথা বলা হয়েছে।

কেন এই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ?

পেনশনারদের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তির নিয়মিত আয়ের প্রধান উৎস সাধারণত মাসিক পেনশন। কোনো হিসাবগত ভুল, অতিরিক্ত ভাতা, ভুল পেনশন নির্ধারণ বা অন্য কোনো কারণে দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ হয়ে গেলে একসঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ কেটে নেওয়া হলে পেনশনার আর্থিক সংকটে পড়তে পারেন।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় একদিকে সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, অন্যদিকে পেনশনারের আর্থিক সচ্ছলতার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা জরুরি

এই নির্দেশনাকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই যে, পেনশনারের কাছ থেকে অতিরিক্ত দেওয়া অর্থ আর আদায় করা যাবে না। বরং অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা সমন্বয়ের বিষয়টি স্বীকৃত রেখেই মাসিক কাটার একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থাৎ, অতিরিক্ত অর্থের দায় থাকলে সেটি সমন্বয় করা সম্ভব; তবে মাসিক নিট পেনশনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশের বেশি কেটে নেওয়ার অনুমোদন এই নির্দেশনায় দেওয়া হয়নি।

এ কারণে কোনো পেনশনারের পেনশন থেকে অতিরিক্ত অর্থ সমন্বয়ের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে শুধু কত টাকা পাওনা রয়েছে সেটিই নয়, পেনশনারের মাসিক নিট পেনশন এবং তার আর্থিক সচ্ছলতার বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে।

কারা বেশি উপকৃত হতে পারেন?

এই নির্দেশনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাদের জন্য, যাদের পেনশনে ভুলবশত অতিরিক্ত অর্থ যোগ হয়েছে এবং পরবর্তীতে সেই অর্থ ফেরত নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে দীর্ঘদিন পর অতিরিক্ত অর্থের হিসাব ধরা পড়লে মোট আদায়ের পরিমাণ বড় হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পুরো অর্থ একবারে কেটে নেওয়ার পরিবর্তে মাসিক পেনশন থেকে নির্ধারিত সীমার মধ্যে ধাপে ধাপে সমন্বয়ের সুযোগ পেনশনারের জন্য আর্থিক চাপ কমাতে পারে।

পুরোনো নির্দেশনা হলেও বর্তমানেও কেন আলোচনায়?

পত্রটি ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে জারি করা হলেও এর বিষয়বস্তু সরকারি পেনশন ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পেনশন নির্ধারণ, পুনর্নির্ধারণ, অতিরিক্ত পরিশোধ ও পরবর্তী সমন্বয়ের মতো বিষয় নিয়মিতভাবেই সামনে আসে।

তাই কোনো পেনশনারের কাছ থেকে অতিরিক্ত পরিশোধিত অর্থ সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ ধরনের নির্দেশনা প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

পেনশনারদের জন্য মূল বার্তা

সব মিলিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগের এই নির্দেশনার সারকথা হলো—পেনশনারের কাছ থেকে অতিরিক্ত গ্রহণ করা অর্থ সমন্বয় করা যেতে পারে, তবে মাসিক নিট পেনশনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিমাসে সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে।

একই সঙ্গে নির্দেশনায় পেনশনারের আর্থিক সচ্ছলতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে সরকারি পাওনা পুনরুদ্ধার এবং পেনশনারের ন্যায্য আর্থিক সুরক্ষা—দুই বিষয়কেই সমন্বয় করার নীতি এখানে প্রতিফলিত হয়েছে।

তবে বাস্তবে কোনো নির্দিষ্ট পেনশনারের ক্ষেত্রে কত টাকা কাটা হবে বা কীভাবে সমন্বয় হবে, তা নির্ধারণের সময় সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ/পেনশন কর্তৃপক্ষের নথি, অতিরিক্ত পরিশোধের কারণ এবং পরবর্তী সময়ে জারি হওয়া কোনো সংশোধিত নির্দেশনা থাকলে সেগুলোও যাচাই করা প্রয়োজন।

সোর্স

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *