জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬: iBAS++-এ পে-ফিক্সেশনের ৭ ধাপ, কোন ট্যাবে কী তথ্য দিতে হবে
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে অনলাইনভিত্তিক হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় iBAS++ Pay Fixation-2026 সিস্টেমে চাকরির ধরন অনুযায়ী তথ্য প্রদান করে বেতন নির্ধারণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে Pay Fixation-2026 → GoB Staff মেনুর অধীনে Running, Promotion এবং Higher Grade—এই তিন ধরনের অপশন দেখা যাচ্ছে।
এর মধ্যে Running অপশনটি স্বাভাবিকভাবে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য। এই অপশনে বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন করতে মোট ৭টি ধাপে বিভিন্ন ব্যক্তিগত, পারিবারিক, চাকরি ও পূর্ববর্তী বেতন-সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। এরপর জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী প্রাপ্য বেতন সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রাপ্ত iBAS++ Pay Fixation-2026-এর স্ক্রিন এবং প্রদত্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ধাপগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।
iBAS++ পে-ফিক্সেশনে প্রথমে কোন অপশন?
iBAS++-এর Pay Fixation-2026 মেনুতে প্রবেশ করলে GoB Staff-এর অধীনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অপশন রয়েছে—
- Running — বর্তমানে একই পদে/চাকরিতে কর্মরতদের জন্য
- Promotion — পদোন্নতির মাধ্যমে নতুন পদ বা গ্রেডে যাওয়া কর্মচারীদের জন্য
- Higher Grade — উচ্চতর গ্রেডপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্য
অর্থাৎ সবার জন্য একই ধরনের ফিক্সেশন প্রক্রিয়া নয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরির অবস্থা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অপশন নির্বাচন করতে হবে।
এই প্রতিবেদনে Running অপশনের ৭টি ধাপকে কেন্দ্র করে বিস্তারিত আলোচনা করা হচ্ছে।
১. সাধারণ তথ্য: ব্যক্তিগত পরিচয় ও যোগাযোগের তথ্য
পে-ফিক্সেশনের প্রথম ধাপে রয়েছে সাধারণ তথ্য। এখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীর মৌলিক পরিচয় ও যোগাযোগ-সংক্রান্ত তথ্য দেখা যাবে।
প্রধান তথ্যগুলো হলো—
- হিসাবরক্ষণ কার্যালয়
- জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর
- জন্ম তারিখ
- মোবাইল নম্বর
- কর্মকর্তা/কর্মচারীর নাম (ইংরেজি)
- কর্মকর্তা/কর্মচারীর নাম (বাংলা)
- টিআইএন
- ই-মেইল
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
এই অংশের তথ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—সব তথ্য ব্যবহারকারী নিজের ইচ্ছামতো পরিবর্তন করতে পারবেন না। মাস্টার ডাটাবেজে সংরক্ষিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই অংশ পূরণ হওয়ার কথা।
তাই নাম, এনআইডি, জন্মতারিখ বা অন্য কোনো মৌলিক তথ্য ভুল থাকলে পে-ফিকেশন সাবমিট করার আগে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের মাধ্যমে সংশোধনের ব্যবস্থা করতে হবে।
২. পারিবারিক তথ্য: স্বামী/স্ত্রী ও সন্তানের তথ্য
দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে পারিবারিক তথ্য। এই অংশে পারিবারিক সম্পর্কের বিভিন্ন তথ্য সংযুক্ত থাকবে।
এখানে মূলত তিনটি অংশ রয়েছে—
স্বামী/স্ত্রীর তথ্য
- বৈবাহিক অবস্থা
- নাম
- এনআইডি
- জন্মতারিখ
সন্তানের তথ্য
- সন্তানের নাম
- সম্পর্কের ধরন
- এনআইডি অথবা জন্মনিবন্ধন নম্বর
- প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য
প্রতিবন্ধী সন্তানের তথ্য
প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী সন্তানের তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে মাস্টার ডাটাবেজে এসব তথ্য আগে থেকেই সঠিকভাবে সংরক্ষিত থাকলে পুনরায় সব তথ্য টাইপ করার প্রয়োজন নাও হতে পারে।
৩. অফিসের তথ্য: চাকরির শুরু থেকে বর্তমান কর্মস্থল
তৃতীয় ধাপটি পে-ফিকেশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরিতে প্রথম যোগদান এবং বর্তমান চাকরির অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য দিতে হয়।
প্রথম যোগদানের তথ্য
এ অংশে থাকতে পারে—
- প্রথম যোগদানের তারিখ
- ক্যাডার/সার্ভিসের নাম
- সার্ভিস পরিচিতি নম্বর
- মন্ত্রণালয়/বিভাগ
- অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট দপ্তর
- মাঠ পর্যায়ের অফিস/অপারেশনাল ইউনিট
- প্রথম যোগদানের পদবি
- সাবস্টেনটিভ গ্রেড
বর্তমান অফিসের তথ্য
এরপর বর্তমান চাকরির অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য দিতে হবে। যেমন—
- বর্তমান মন্ত্রণালয়/বিভাগ
- অধিদপ্তর/দপ্তর
- অফিস বা ইউনিট
- বর্তমান পদবি
- সাবস্টেনটিভ গ্রেড
এই ধাপে ভুল তথ্য দিলে পরবর্তী বেতন নির্ধারণের ফলাফলেও প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে পদ, গ্রেড, প্রথম যোগদানের তারিখ এবং বর্তমান কর্মস্থলের তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
৪. উচ্চতর স্কেল/গ্রেডের ইতিহাস
চতুর্থ ধাপে কর্মজীবনে আগে পাওয়া বিভিন্ন ধরনের উচ্চতর স্কেল বা গ্রেডের তথ্য দিতে হবে।
এর মধ্যে থাকতে পারে—
- টাইম স্কেল
- সিনিয়র স্কেল
- উচ্চতর স্কেল
- সিলেকশন গ্রেড
- উচ্চতর গ্রেড
প্রতিটি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট তথ্যের মধ্যে থাকতে পারে—
- স্কেল/গ্রেডের ধরন
- পদবি
- প্রাপ্তির তারিখ
- তৎকালীন বেতনস্কেল
- গ্রেড
- স্কেল
- নির্ধারিত মূল বেতন
একাধিক উচ্চতর স্কেল বা গ্রেডের ইতিহাস থাকলে একাধিক এন্ট্রি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজনে কোনো এন্ট্রি সংশোধন বা বাদ দেওয়ার অপশনও রাখা হয়েছে।
কেন এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ?
কর্মচারীর অতীতের উচ্চতর স্কেল বা গ্রেডের ইতিহাস নতুন বেতন নির্ধারণের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। ফলে কোনো পুরোনো উচ্চতর স্কেল বাদ পড়লে নতুন বেতন নির্ধারণের হিসাবেও তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৫. পূর্ববর্তী জাতীয় বেতনস্কেলের তথ্য
পঞ্চম ধাপে রয়েছে পূর্ববর্তী জাতীয় বেতনস্কেলের তথ্য।
একজন কর্মচারী চাকরিজীবনে যেসব জাতীয় বেতনস্কেলের অধীনে বেতন পেয়েছেন, সেসবের সংশ্লিষ্ট তথ্য এখানে থাকতে পারে। উদাহরণ হিসেবে জাতীয় বেতনস্কেল-২০০৯ এবং জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫-এর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিটি স্কেলের ক্ষেত্রে সাধারণত—
- পদবি
- স্কেল কার্যকর হওয়ার তারিখ
- বেতন নির্ধারণের তারিখ
- গ্রেড
- স্কেল
- নির্ধারিত মূল বেতন
ইত্যাদি তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
এই অংশের উদ্দেশ্য হলো কর্মচারীর পূর্ববর্তী বেতন কাঠামোর ধারাবাহিকতা সিস্টেমে তুলে ধরা, যাতে ২০২৬ সালের নতুন বেতন নির্ধারণের সময় আগের তথ্য বিবেচনায় নেওয়া যায়।
৬. জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬: এখানেই মূল বেতন নির্ধারণের হিসাব
পে-ফিকেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ষষ্ঠ ধাপ—জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬।
প্রদত্ত উদাহরণ অনুযায়ী, একটি গ্রেড-১৬ কর্মচারীর ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে মূল বেতন ছিল ১২,৪৯০ টাকা। এই বেতনকে ভিত্তি ধরে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামোর অধীনে হিসাব দেখানো হয়েছে।
উদাহরণটি ধাপে ধাপে দেখলে—
৩০ জুন ২০২৬
জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী—
মূল বেতন: ১২,৪৯০ টাকা
প্রারম্ভিক ধাপ: ৯,৩০০ টাকা
পার্থক্য: ৩,১৯০ টাকা
এরপর ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী হিসাব করা হয়।
১ জুলাই ২০২৬
উল্লিখিত উদাহরণে গ্রেড-১৬-এর নতুন স্কেল ধরা হয়েছে—
২১,৯০০–৫২,৯০০ টাকা
নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের সঙ্গে পূর্ববর্তী বেতনের পার্থক্য বিবেচনা করে উদাহরণে—
মোট: ২৫,০৯০ টাকা
এরপর সমধাপ/উচ্চতর ধাপ হিসেবে—
২৫,৪০০ টাকা
ধরা হয়েছে।
এরপর বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টসহ একটি পরবর্তী হিসাব দেখানো হয়েছে, যেখানে—
ইনক্রিমেন্টসহ বেতন: ২৬,৭০০ টাকা
হিসাব করা হয়েছে।
৫০ শতাংশ বৃদ্ধির হিসাব কীভাবে দেখানো হয়েছে?
প্রদত্ত উদাহরণে নতুন স্কেলের সমধাপ ২৫,৪০০ টাকা এবং পূর্ববর্তী মূল বেতন ১২,৪৯০ টাকা-এর পার্থক্য ধরা হয়েছে—
২৫,৪০০ − ১২,৪৯০ = ১২,৯১০ টাকা
এর ৫০ শতাংশ—
১২,৯১০ × ৫০% = ৬,৪৫৫ টাকা
এরপর প্রদত্ত হিসাব অনুযায়ী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রাপ্য বেতন নির্ধারণের একটি ধাপ দেখানো হয়েছে—
১৮,৯৪৫ টাকা
এবং বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ চূড়ান্ত উদাহরণে—
২০,২৪৫ টাকা
দেখানো হয়েছে।
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—নতুন স্কেলের হিসাব এবং চূড়ান্ত প্রাপ্য বেতনের হিসাবকে এক করে দেখলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। সিস্টেমের দেখানো বিভিন্ন ধাপে নতুন স্কেলের সমধাপ, বৃদ্ধির অংশ এবং বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট আলাদাভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
২০২৭ সালে পরবর্তী ধাপে বেতন কীভাবে বাড়বে?
প্রদত্ত উদাহরণে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে পুরো বেতন বৃদ্ধির সুবিধা একবারে কার্যকর না হয়ে ধাপে ধাপে কার্যকর হওয়ার হিসাব দেখানো হয়েছে।
১ জানুয়ারি ২০২৭
আগের হিসাবের একটি অংশ হিসেবে আরও ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি যোগ করার উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।
উল্লিখিত হিসাব অনুযায়ী—
৩,২২৭.৫০ টাকা অতিরিক্ত যোগ হয়ে প্রাপ্য বেতন দাঁড়ায়—
২৩,৪৭২.৫০ টাকা
১ জুলাই ২০২৭
অবশিষ্ট আরও ২৫ শতাংশ যোগ হলে মোট হিসাব—
২৬,৭০০ টাকা
এবং বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ উদাহরণে চূড়ান্ত মূল বেতন—
২৮,০০০ টাকা
দেখানো হয়েছে।
অর্থাৎ প্রদত্ত উদাহরণে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির বিভিন্ন অংশ পর্যায়ক্রমে কার্যকর হওয়ার একটি হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: এটি প্রদত্ত iBAS++ টেস্ট স্ক্রিনের উদাহরণভিত্তিক হিসাব। কোনো কর্মচারীর ক্ষেত্রে চূড়ান্ত বেতন কত হবে তা তার নিজস্ব গ্রেড, ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পূর্ববর্তী স্কেল, উচ্চতর গ্রেড/স্কেল এবং প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী সিস্টেমে নির্ধারিত ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।
৭. সারসংক্ষেপ: সাবমিটের আগে শেষবার যাচাই
সপ্তম ধাপে আগের ছয়টি ধাপে দেওয়া তথ্য একসঙ্গে দেখা যাবে। এটিই পে-ফিকেশন দাখিলের আগে চূড়ান্ত যাচাইয়ের ধাপ।
এ পর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীর উচিত—
- ব্যক্তিগত তথ্য
- পারিবারিক তথ্য
- প্রথম যোগদানের তথ্য
- বর্তমান অফিসের তথ্য
- পূর্ববর্তী উচ্চতর স্কেল/গ্রেড
- পুরোনো জাতীয় বেতনস্কেলের তথ্য
- ২০২৬ সালের বেতন নির্ধারণের ফলাফল
সবকিছু ভালোভাবে যাচাই করা।
সব তথ্য ঠিক থাকলে “দাখিল করুন” বাটনে ক্লিক করার মাধ্যমে ডিডিও বরাবর পে-ফিকেশন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সিস্টেমে নিশ্চিতকরণ হিসেবে প্রশ্ন আসতে পারে—
“আপনি কি এ বেতন নির্ধারণী ডিডিও বরাবর সাবমিট করতে চান?”
এখানে Yes/No নির্বাচন করার সুযোগ থাকবে।
⚠️ সাবমিট করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
iBAS++ পে-ফিকেশন সিস্টেমের প্রদত্ত নির্দেশনায় একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সেখানে বলা হয়েছে, কোনো তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন হলে ‘পূর্ববর্তী’ বাটনে ক্লিক করে আগের ট্যাবে ফিরে গিয়ে তথ্য সংশোধন করতে হবে।
কারণ এন্ট্রিকৃত তথ্য দাখিল করার পর আর কোনো এডিট করা যাবে না—এমন সতর্কবার্তা সিস্টেমে দেওয়া হয়েছে।
তাই শুধু বেতন কত দেখাচ্ছে সেটি দেখে সরাসরি সাবমিট করা উচিত হবে না। বরং ১ নম্বর থেকে ৬ নম্বর পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ পুনরায় যাচাই করে তারপর চূড়ান্তভাবে দাখিল করা নিরাপদ।
কারা কোন অপশন ব্যবহার করবেন?
iBAS++ Pay Fixation-2026-এর প্রাথমিক কাঠামো অনুযায়ী বিষয়টি সহজভাবে এভাবে বোঝা যায়—
| কর্মচারীর অবস্থা | সংশ্লিষ্ট অপশন |
|---|---|
| স্বাভাবিকভাবে একই চাকরিতে কর্মরত | Running |
| পদোন্নতি পেয়েছেন | Promotion |
| উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন | Higher Grade |
তবে কোন ক্ষেত্রে কোন অপশন প্রযোজ্য হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর চাকরির অবস্থা এবং প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।
পে-ফিকেশনের আগে কর্মচারীদের জন্য করণীয়
নতুন ব্যবস্থায় পে-ফিকেশন অনলাইনভিত্তিক হওয়ায় প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিজের তথ্য সম্পর্কে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নিচের বিষয়গুলো যাচাই করে রাখা যেতে পারে—
১. এনআইডি ও জন্মতারিখ সঠিক আছে কি না
২. নামের বানান ঠিক আছে কি না
৩. প্রথম যোগদানের তারিখ সঠিক কি না
৪. প্রথম পদ ও গ্রেড সঠিক কি না
৫. বর্তমান পদ ও সাবস্টেনটিভ গ্রেড ঠিক আছে কি না
৬. পূর্বে কোনো টাইম স্কেল/সিনিয়র স্কেল/উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে তার তথ্য ঠিক আছে কি না
৭. ২০০৯/২০১৫সহ পূর্ববর্তী বেতনস্কেলের তথ্য সঠিক কি না
৮. ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন সঠিকভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে কি না
৯. ১ জুলাই ২০২৬-এর নতুন বেতন নির্ধারণের ফলাফল যাচাই করা
১০. চূড়ান্ত সাবমিশনের আগে সব তথ্য আবার মিলিয়ে দেখা।
শেষ কথা
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে iBAS++ Pay Fixation-2026 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। নতুন ব্যবস্থায় কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যক্তিগত তথ্য থেকে শুরু করে চাকরির ইতিহাস, পূর্ববর্তী বেতনস্কেল, উচ্চতর গ্রেড এবং নতুন বেতন নির্ধারণের হিসাব একই প্ল্যাটফর্মে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।
বিশেষ করে Running, Promotion ও Higher Grade—এই তিনটি আলাদা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির কর্মচারীর পে-ফিকেশন সম্পন্ন করার কাঠামো দেখা যাচ্ছে।
তবে প্রদত্ত স্ক্রিনটি iBAS++ Pay Fixation-2026-এর টেস্ট ভার্সন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বাস্তবে চূড়ান্তভাবে কার্যকর নির্দেশনা, সফটওয়্যারের চূড়ান্ত সংস্করণ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ/নির্দেশনার সঙ্গে মিলিয়ে তথ্য যাচাই করা জরুরি। একইভাবে উদাহরণে দেখানো বেতন হিসাবকে সবার জন্য একই চূড়ান্ত বেতন ধরে নেওয়া যাবে না।
তথ্যসূত্র: এস.আর.ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এবং প্রদত্ত iBAS++ Pay Fixation-2026 (টেস্ট ভার্সন) স্ক্রিন/তথ্য।




