iBAS++ pay fixation login: ৫ অক্টোবর থেকে পে-ফিক্সেশন, প্রস্তুত রাখুন এই ১২টি কাগজপত্র
নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পুনর্নির্ধারণ বা পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম ৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে। অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে iBAS++-এর পে-ফিক্সেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন বেতন নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। সরকারি পর্যায়েও iBAS++ Pay Fixation Sub-System–সংক্রান্ত কার্যক্রমের নোটিশ প্রকাশিত হয়েছে।
এ অবস্থায় পে-ফিক্সেশনে তথ্য দিতে গিয়ে যাতে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবে সমস্যায় না পড়েন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট নথি ও তথ্য আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। প্রচারিত একটি তালিকায় ১২ ধরনের তথ্য ও কাগজপত্র প্রস্তুত রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পে-ফিক্সেশনের জন্য যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে
১. বেতন গ্রহণের সঙ্গে ব্যবহৃত NID
যে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বরের মাধ্যমে বর্তমানে বেতন-সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে, সেই NID প্রস্তুত রাখতে হবে। NID নম্বর, নাম ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি থাকলে তা আগে যাচাই করে নেওয়া ভালো।
বর্তমান পে-ফিক্সেশন প্রক্রিয়ায় NID, জন্মতারিখ, পদ, গ্রেড, যোগদানের তারিখসহ চাকরিসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
২. নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর
iBAS++-এ নিবন্ধিত নিজের নামে থাকা মোবাইল নম্বরটি সক্রিয় রাখতে হবে। পে-ফিক্সেশন প্রক্রিয়ায় OTP বা SMS-ভিত্তিক যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে। তাই যে নম্বরটি পূর্বের বেতন বিল বা iBAS++-এর সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে, সেটি হাতের কাছে রাখা জরুরি।
৩. এসএসসি মূল সনদ
প্রচারিত প্রস্তুতি তালিকায় এসএসসি মূল সার্টিফিকেট রাখার কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে নাম, জন্মতারিখ বা পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে এ ধরনের মূল নথি সহায়ক হতে পারে।
৪. নিয়োগ ও পদোন্নতির কাগজপত্র
চাকরিতে নিয়োগের কপি, পদোন্নতির আদেশ এবং যোগদানের অফিস আদেশ/কপি প্রস্তুত রাখতে হবে।
কারণ একজন কর্মচারীর নতুন মূল বেতন শুধু বর্তমান গ্রেডের ওপর নির্ভর করে না; পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণ, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, বদলি ও চাকরির ধারাবাহিকতার তথ্যও বিবেচনায় আসতে পারে।
৫. নিয়োগের সময়কার গ্রেড ও মূল বেতনের তথ্য
চাকরিতে প্রথম যোগদানের সময় কোন গ্রেডে এবং কত টাকা মূল বেতনে যোগদান করেছিলেন—তার তথ্যও প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন।
পুরোনো বেতন নির্ধারণের ধারাবাহিকতা সঠিকভাবে যাচাই না হলে নতুন বেতন নির্ধারণে অসঙ্গতি দেখা দিতে পারে।
৬. স্ত্রী/স্বামী ও সন্তানের NID বা জন্মনিবন্ধন
তালিকায় স্ত্রীর NID এবং সন্তানের NID/জন্মনিবন্ধনের কপি প্রস্তুত রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পারিবারিক তথ্য বা চাকরির রেকর্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে এসব নথি কাজে লাগতে পারে।
৭. টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড, উচ্চতর গ্রেড ও পদোন্নতির অফিস আদেশ
এটি পে-ফিক্সেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলোর একটি।
চাকরি জীবনে যদি কেউ—
- টাইম স্কেল পেয়ে থাকেন,
- সিলেকশন গ্রেড পেয়ে থাকেন,
- উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকেন,
- পদোন্নতি পেয়ে থাকেন,
তাহলে সংশ্লিষ্ট সব অফিস আদেশের কপি প্রস্তুত রাখা উচিত।
কারণ পুরোনো বেতন নির্ধারণের ইতিহাস এবং উচ্চতর গ্রেডের তথ্য নতুন বেতন নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমান নির্দেশনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিশেষভাবে পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও উচ্চতর গ্রেডের তথ্য সঠিকভাবে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
৮. সার্ভিস বুকে সব তথ্য এন্ট্রি আছে কি না যাচাই
পে-ফিক্সেশনের আগে সার্ভিস বুকে নিয়োগ, যোগদান, পদোন্নতি, বেতন নির্ধারণ, উচ্চতর গ্রেডসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে এন্ট্রি হয়েছে কি না দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
অনলাইনে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সার্ভিস রেকর্ডের তথ্যের অমিল থাকলে পরবর্তী যাচাইয়ের সময় সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।
৯. বদলি ও সরকারি কাজে স্থানান্তরের অফিস আদেশ
চাকরিজীবনে পদোন্নতির পর বদলি, সরকারি কাজে অন্য দপ্তরে বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তন হয়ে থাকলে এলপিসিসহ (LPC) সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশের কপি প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন।
বিশেষ করে যাদের চাকরি জীবনে একাধিক দপ্তর বা কর্মস্থল পরিবর্তন হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চাকরির ধারাবাহিকতা ও বেতন নির্ধারণের তথ্য যাচাইয়ের জন্য এসব নথি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
১০. ২০১৫ সালের পে-ফিক্সেশন কপি
বর্তমান পে-ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী পূর্বের পে-ফিক্সেশন কপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে প্রস্তুত রাখা উচিত।
কারণ নতুন বেতন নির্ধারণের সময় পূর্বের বেতন কীভাবে নির্ধারিত হয়েছিল, সেটি যাচাই করার প্রয়োজন হতে পারে।
১১. ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতনের প্রমাণ
৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত মূল বেতনের কপি/প্রমাণ প্রস্তুত রাখতে হবে।
নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোতে পুরোনো বেতন থেকে নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১২. ১ জুলাই ২০২৬-এর বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের কপি
যাদের ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট প্রাপ্য হয়েছে, তাদের সেই ইনক্রিমেন্টের কপিও প্রস্তুত রাখতে হবে।
বিশেষ করে ৩০ জুনের মূল বেতন এবং ১ জুলাইয়ের ইনক্রিমেন্টের পর মূল বেতনের মধ্যে পার্থক্য থাকলে সঠিক তথ্য দিয়ে পে-ফিক্সেশন করার জন্য এই নথি প্রয়োজনীয় হতে পারে।
এক নজরে ১২টি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
| ক্রম | কাগজপত্র/তথ্য |
|---|---|
| ১ | বেতন গ্রহণের সঙ্গে ব্যবহৃত NID |
| ২ | নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর |
| ৩ | এসএসসি মূল সার্টিফিকেট |
| ৪ | নিয়োগ/পদোন্নতির কপি ও যোগদানের অফিস কপি |
| ৫ | নিয়োগের সময়কার গ্রেড ও মূল বেতনের তথ্য |
| ৬ | স্ত্রী/স্বামীর NID ও সন্তানের NID/জন্মনিবন্ধন |
| ৭ | টাইম স্কেল/সিলেকশন গ্রেড/উচ্চতর গ্রেড/পদোন্নতির অফিস আদেশ |
| ৮ | সার্ভিস বুকে সব তথ্য এন্ট্রি আছে কি না |
| ৯ | বদলি/সরকারি কাজে বদলির অফিস আদেশ ও LPC |
| ১০ | ২০১৫ সালের পে-ফিক্সেশন কপি |
| ১১ | ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতনের কপি |
| ১২ | ১ জুলাই ২০২৬-এর বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের কপি |
শুধু কাগজপত্র থাকলেই হবে না, তথ্যও মিলিয়ে দেখতে হবে
পে-ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অনলাইনে দেওয়া তথ্য এবং সরকারি চাকরির নথিতে থাকা তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য।
বর্তমান iBAS++ প্রক্রিয়ায় পে-ফিক্সেশনের তথ্য দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় তা যাচাই করবে। তথ্য সঠিক হলে অনলাইনে অনুমোদন দেওয়ার পর যাচাই নম্বর তৈরি হওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
তাই পে-ফিক্সেশনের আগে প্রত্যেক চাকরিজীবীর উচিত অন্তত নিচের বিষয়গুলো মিলিয়ে দেখা—
নাম → NID → জন্মতারিখ → যোগদানের তারিখ → নিয়োগের গ্রেড → নিয়োগকালীন মূল বেতন → ২০১৫ সালের পে-ফিক্সেশন → ইনক্রিমেন্ট → পদোন্নতি → উচ্চতর গ্রেড → বদলি → বর্তমান মূল বেতন।
কোনো একটি জায়গায় ভুল থাকলে নতুন বেতন নির্ধারণের হিসাবেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
বকেয়া বেতনের ক্ষেত্রেও পে-ফিক্সেশন গুরুত্বপূর্ণ
নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের পর পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন হলে নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে বেতন বিল প্রস্তুত এবং প্রাপ্য বকেয়ার হিসাব করা হবে। তবে সবার বকেয়া একই হবে না। গ্রেড, পুরোনো মূল বেতন, নতুন নির্ধারিত মূল বেতন এবং চাকরির বিভিন্ন পর্যায়ের বেতন নির্ধারণের ইতিহাস অনুযায়ী বকেয়ার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২০ অক্টোবরের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
পে-ফিক্সেশনের সময় অনুমান করে কোনো তথ্য দেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে পূর্বের পে-ফিক্সেশন, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও ইনক্রিমেন্টের ক্ষেত্রে অফিস আদেশ বা সার্ভিস রেকর্ড দেখে তথ্য দেওয়া নিরাপদ।
কোনো তথ্য অনলাইনে ভুলভাবে দেওয়া হলে পরবর্তী যাচাইয়ের সময় সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। তাই পে-ফিক্সেশন সাবমিট করার আগে সিস্টেমে প্রদর্শিত নতুন মূল বেতন, গ্রেড এবং চাকরির তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে তারপর চূড়ান্তভাবে জমা দেওয়া উচিত।
শেষ কথা
নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পে-ফিক্সেশন হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি। তাই ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এক জায়গায় সাজিয়ে রাখা এবং সার্ভিস বুকের তথ্যের সঙ্গে অনলাইন তথ্য মিলিয়ে নেওয়া হলে ভুল-ত্রুটির ঝুঁকি অনেকটাই কমবে।
বিশেষ করে ২০১৫ সালের পে-ফিক্সেশন, ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন, ১ জুলাইয়ের ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেডের সব নথি হাতে রাখা উচিত। নতুন বেতন নির্ধারণের সঠিক হিসাব এবং পরবর্তী বকেয়া নির্ধারণে এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নোট: আপনার দেওয়া ১২ দফা তালিকাটি এখানে মূল ভিত্তি হিসেবে সাজানো হয়েছে। এটি কোনো একক কেন্দ্রীয় সরকারি নির্দেশনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিলিপি—এমন দাবি না করে, সংশ্লিষ্ট দপ্তর/হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনার সঙ্গে মিলিয়ে নথি প্রস্তুত করা সবচেয়ে নিরাপদ। অর্থ বিভাগের ২০২৬ সালের জাতীয় বেতন স্কেল-সংক্রান্ত অফিসিয়াল পেজও ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে হালনাগাদ হয়েছে।




