Ibas Pay Fixation: ৫০-২৫-২৫ শতাংশ কিস্তিতে কার্যকর হচ্ছে বর্ধিত বেতন, ২০২৭ সালের জুলাইয়ে পূর্ণ সুবিধা
জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বেতন পুনর্নির্ধারণ শুরু হয়েছে। একটি বাস্তব বেতন নির্ধারণী বিবরণী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নতুন স্কেলে মূল বেতন প্রায় দ্বিগুণ হলেও তা একবারে পাওয়া যাচ্ছে না। বৃদ্ধির অর্থ তিন কিস্তিতে কার্যকর হচ্ছে।
বিশ্লেষণে নেওয়া উদাহরণটি ঢাকা বিভাগের একটি সরকারি দপ্তরের একজন নিরাপত্তা প্রহরীর। তিনি ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি চাকরিতে যোগ দেন। তাঁর বর্তমান স্কেল জাতীয় বেতনস্কেলের গ্রেড-১৯ হিসেবে নথিতে উল্লেখ আছে। যোগদানের সময় তাঁর সাবসটেনটিভ গ্রেড ছিল ২০। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার স্বার্থে নাম ও দপ্তরের কোড এখানে উল্লেখ করা হয়নি।
পুরোনো বেতন কত ছিল
২০২৬ সালের ৩০ জুন তারিখে ওই কর্মচারীর মূল বেতন ছিল ১৬ হাজার ১০০ টাকা। তাঁর কোনো পিপি (ব্যক্তিগত বেতন) ছিল না, তাই মোট বেতনও ছিল ১৬ হাজার ১০০ টাকা। জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী তাঁর প্রাপ্ত গ্রেড ও স্কেল ছিল গ্রেড-১৯ (৮,৫০০–২০,৫৭০)। সেই স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ ছিল ৮ হাজার ৫০০ টাকা।
নতুন স্কেলে বেতন যেভাবে ঠিক হলো
নতুন বেতন নির্ধারণের প্রথম কাজ হলো পুরোনো স্কেলে কর্মচারীর অবস্থান বের করা। পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন ও বর্তমান বেতনের পার্থক্য ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৬০০ টাকা (১৬,১০০ − ৮,৫০০)।
২০২৬ স্কেলে (০১-০৭-২০২৬ থেকে কার্যকর) গ্রেড-১৯ এর বেতন কাঠামো ২০,৫০০ থেকে ৪৯,৬০০ টাকা। প্রারম্ভিক ধাপ ২০ হাজার ৫০০ টাকার সঙ্গে ওই পার্থক্য যোগ করে পাওয়া যায় ২৮ হাজার ১০০ টাকা।
২৮ হাজার ১০০ টাকা নতুন স্কেলের কোনো নির্দিষ্ট ধাপের সঙ্গে মেলে না। তাই পরবর্তী উচ্চতর ধাপ, অর্থাৎ ২৮ হাজার ৯০০ টাকা, তাঁর নির্ধারিত বেতন হিসেবে ধরা হয়েছে। এই অঙ্ক ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর।
বৃদ্ধির পরিমাণ ও তিন কিস্তি
পুরোনো বেতন ও নতুন নির্ধারিত বেতনের ব্যবধান ১২ হাজার ৮০০ টাকা। অর্থাৎ বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ প্রায় ৮০ শতাংশ। তবে এই পুরো অঙ্ক একসঙ্গে দেওয়া হচ্ছে না। বৃদ্ধির অংশ ৫০, ২৫ ও ২৫ শতাংশ হারে তিন কিস্তিতে কার্যকর হচ্ছে।
প্রথম কিস্তি, ১ জুলাই ২০২৬ (৫০%): বৃদ্ধির অর্ধেক ৬ হাজার ৪০০ টাকা যোগ হয়ে বেতন দাঁড়ায় ২২ হাজার ৫০০ টাকা। এর সঙ্গে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়ে প্রাপ্য বেতন হয় ২৩ হাজার ৯০০ টাকা। সব মিলিয়ে বেতন বেড়েছে প্রায় ৪৮ শতাংশ।
দ্বিতীয় কিস্তি, ১ জানুয়ারি ২০২৭ (২৫%): আরও ৩ হাজার ২০০ টাকা যোগ হয়ে প্রাপ্য বেতন হবে ২৭ হাজার ১০০ টাকা।
তৃতীয় কিস্তি, ১ জুলাই ২০২৭ (বাকি ২৫%): বাকি ৩ হাজার ২০০ টাকা যোগ হয়ে বেতন দাঁড়াবে ৩০ হাজার ৩০০ টাকা। এটি নির্ধারিত বেতনের ১০০ শতাংশ সুবিধা। একই তারিখে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ প্রাপ্য বেতন হবে ৩১ হাজার ৯০০ টাকা।
এক নজরে বেতনের পথ
| তারিখ | প্রাপ্য বেতন (টাকা) |
|---|---|
| ৩০ জুন ২০২৬ (পুরোনো) | ১৬,১০০ |
| ১ জুলাই ২০২৬ | ২৩,৯০০ |
| ১ জানুয়ারি ২০২৭ | ২৭,১০০ |
| ১ জুলাই ২০২৭ | ৩০,৩০০ |
| ১ জুলাই ২০২৭ (ইনক্রিমেন্টসহ) | ৩১,৯০০ |
হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদন
খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসারের কার্যালয়ের হিসাবরক্ষণ অফিস বেতন নির্ধারণী বিবরণী পরীক্ষা করেছে। ২০২৬ স্কেলের গ্রেড-১৯ (২০,৫০০–৪৯,৬০০) অনুযায়ী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে মূল বেতন ২৮ হাজার ৯০০ টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। পরবর্তী বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ জুলাই ২০২৭।
বিবরণীটি দাখিলকারী কর্মচারী ও আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা স্বাক্ষর করেছেন। অনুমোদনকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিরীক্ষা ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার ঘর রয়েছে। নথিটি সিস্টেম-জেনারেটেড হওয়ায় আলাদা স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়নি বলে এতে উল্লেখ আছে।
যা মনে রাখা জরুরি
- কিস্তির কারণ: নতুন স্কেল কার্যকরের আর্থিক চাপ সামলাতে বৃদ্ধির অংশ ধাপে ধাপে দেওয়া হচ্ছে। তাই ২০২৬ সালের জুলাইয়ে কর্মচারীরা নতুন নির্ধারিত বেতনের পুরোটা পাচ্ছেন না।
- সুবিধা বাড়ছে সময়ের সঙ্গে: এই উদাহরণে ২০২৭ সালের জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষা করলে নির্ধারিত বেতনের ১০০ শতাংশ ও ইনক্রিমেন্ট মিলিয়ে বেতন প্রায় ৯৮ শতাংশ বাড়বে।
- গ্রেড-সংক্রান্ত বিষয়: যোগদানের সময় সাবসটেনটিভ গ্রেড ২০ থাকলেও নথিতে ২০১৫ ও ২০২৬ উভয় স্কেলের প্রাপ্ত গ্রেড হিসেবে ১৯ উল্লেখ আছে। এ বিষয়ে কারও সংশয় থাকলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে নিশ্চিত হওয়া উচিত।

সূত্র: জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত বেতন নির্ধারণী বিবরণী ও হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদন।



