সরকারি চাকরিজীবীর বিদেশ ভ্রমনে ভিসা লাগবে কিনা বিস্তারিত।

সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন কারণে বহি: বাংলাদেশ ছুটি নিতে হয়। এক্ষেত্রে আমরা অনেক সময়ই বিভিন্ন  দ্বিধাদন্ডে থাকি। আজ আমি আপনাদের সাথে জিও থাকলে ভিসা লাগবে কি লাগবে না সে বিষয়ে আলোচনা করবো। 

প্রথমেই জানা প্রয়োজন ভিসা কি?

ভিসা হচ্ছে একটি অনুমতি পত্র মাত্র যা একটি দেশ কোন ভিন্ন দেশের নাগরিককে সংশ্লিষ্ট দেশে প্রবেশের ও অবস্থানের জন্য সরবরাহ করে থাকে। ভিসা ছাড়া যদি কোন নাগরিক অন্য কোন দেশে প্রবেশ করে বা অবস্থা বা বসবাস করে তাদের বলা হয় অবৈধ অভিবাসী।

ভিসা পাওয়ার জন্য কি লাগে?

ভিসা পাওয়ার জন্য পাসপোর্ট বা জিও লাগে। সাধারণত পাসপোর্ট বা সরকারি ট্র্যাভেল পারমিটের একটি পাতায় সীল দিয়ে বা একটি স্টিকার লাগিয়ে  ভিসা প্রদান করা হয়। দেশের বিদেশীস্থ দূতাবাস বা অ্যামবাসী গুলো ভিসা দিয়ে থাকে।

পাসপোর্ট কয় রকমের হয়?

  • অফিসিয়াল বা সরকারি পাসপোর্ট নীল রঙ্গের।
  • ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের জন্য সবুজ রঙ্গের পাসপোর্ট।

জিও কি?

জিও বা GO হচ্ছে Government order  যা সরকারি বা দাপ্তরিক কাজে সরকার বিদেশ পাঠানোর জন্য জারি করে। জিও দিয়ে সব দেশে ভ্রমণ করা যায় না। দাপ্তরিক বা ব্যক্তিগত বিদেশ ভ্রমণে একজন সরকারি চাকরি জীবির সরকারি আদেশ বা জিও  সংগ্রহ করতে হয়। জিও নমুনা দেখে নিতে পারেন: ডাউনলোড

সার সংক্ষেপ:
  • পাসপোর্ট এর রং দু’রকম: অফিসিয়াল পাসপোর্ট নীল রংয়ের হয় অন্যদিকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের জন্য যে পাসপোর্ট করা হয় তা সবুজ রংয়ের হয়।
  • সাধারণত বাংলাদেশ বর্ডার পর হতে GO লাগে।
  • অন্য দেশে ঢুকতে ভিসা লাগে।
  • ভিসা লাগবে কিনা তা নির্ভর করে আপনি কোন দেশে যেতে চাচ্ছেন তার উপর।
  • অফিসিয়াল পাসপোর্ট এর ক্ষেত্রে কিছু দেশে Arrival ভিসা পাওয়া যায় যেমন, ভারত, চীন, মালয়শিয়া, সিংগাপুর, ইন্দোনেশিয়া, লাউস, ভিয়েতনাম, মায়ানমার, তুর্কি, নেপাল, বেলারুশ, ফিলিপাইন ইত্যাদি সার্কভূক্ত সকল অনুমোদিত দেশগুলোতে কাগজ দিয়েই ভ্রমণ করা যাবে।
  • সবুজ পাসপোর্ট হলে ভারত, চীন, মালয়শিয়া যেতে ভিসা লাগবে।
  • ইউরোপের কোন দেশে যেতে চাইলে সবুজ বা নীল যে পাসপোর্টই থাকুক না কেন ভিসা লাগবে।
  • সংশ্লিষ্ট দেশ হতে ভিসা সংগ্রহ করতে হয়।
  • সাধারণত ছুটির আদেশ দেখিয়ে ভিসা সংগ্রহ করা যায়।

NOC কি?

NOC হচ্ছে NO OBJECTION CERTIFICATE যা সরকারি কর্মচারীদের পার্সপোর্ট করার সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তর হতে সংগ্রহ করা হয়। এটি সাধারণত ওয়েব সাইটে পাবলিশ করা হয়। যা দেখে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর সরকারি চাকরিজীবী আবেদনকারীকে কম খরচে বা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত ফি’তে পাসপোর্ট সরবরাহ করে থাকে। যা সাধারণত নীল রঙ্গের হয়ে থাকে। সরকারি পার্সপোর্ট করতে NOC প্রেরণ করতে হয়। কিভাবে আপনার NOC পূরণ করবেন তা পূরণকৃত একটি এনওসি দেখে নিতে পারেন: ডাউনলোড

প্রশ্নোত্তর পর্ব:

  • প্রশ্ন: সরকারি চাকরিজীবির বিদেশ ভ্রমণে GO বা জিও থাকলে ভিসা লাগে কি?
  • উত্তর: লাগে।
  • প্রশ্ন: শুধু জিও দিয়ে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়?
  • উত্তর: অফিসিয়াল পাসপোর্ট এর ক্ষেত্রে কিছু দেশে Arrival ভিসা পাওয়া যায় যেমন, ভারত, চীন, মালয়শিয়া, সিংগাপুর, ইন্দোনেশিয়া, লাউস, ভিয়েতনাম, মায়ানমার, তুর্কি, নেপাল, বেলারুশ, ফিলিপাইন ইত্যাদি সার্কভূক্ত সকল অনুমোদিত দেশগুলোতে কাগজ দিয়েই ভ্রমণ করা যাবে।
  • প্রশ্ন: শুধু জিও দিয়ে ভিসা ছাড়া কোন দেশগুলোতে যাওয়া যায় না?
  • উত্তর: ইউরোপের কোন দেশে যেতে চাইলে সবুজ বা নীল যে পাসপোর্টই থাকুক না কেন ভিসা লাগবে।
  • প্রশ্ন: বহি: বাংলাদেশ ছুটি বা জিও দেখিয়ে কি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে গিয়ে ভিসা করিয়ে নেয়া যায়?
  • উত্তর: হ্যাঁ যায়। সেক্ষেত্রে অ্যামবাসি বা দূতাবাসগুলো গিয়ে যোগাযোগ করে সংগ্রহ করতে হবে।
Avatar

admin

আমি একজন সরকারি চাকরিজীবী। ভালবাসি চাকরি সংক্রান্ত বিধি বিধান জানতে ও অন্যকে জানাতে। আমার ব্লগের কোন কন্টেন্ট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে বা জানাতে ইমেইল করতে পারেন alaminmia.tangail@gmail.com ঠিকানায়। ধন্যবাদ আপনাকে ওয়েবসাইটটি ভিজিট করার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published.