জিপিএফ হতে টাকা তোলা উদ্দেশ্য ২০২৬ । যে সকল কারণ বা উদ্দেশ্যে জিপিএফ হতে টাকা উত্তোলন করা যায়
সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল (GPF) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী, একজন চাঁদাদাতা নির্দিষ্ট কিছু প্রয়োজনে বা উদ্দেশ্যে তার জমাকৃত অর্থ থেকে অগ্রিম উত্তোলন করতে পারেন। ২০২৬ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটেও এই বিধিমালার আলোকে নিম্নলিখিত কারণ বা উদ্দেশ্যগুলোতে জিপিএফ হতে টাকা তোলা বা অগ্রিম গ্রহণ করা সম্ভব:
জিপিএফ হতে অর্থ উত্তোলনের প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ
অসুস্থতা: চাঁদাদাতা নিজে বা তার ওপর প্রকৃত নির্ভরশীল কোনো ব্যক্তির দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতার চিকিৎসার জন্য অগ্রিম নেওয়া যায় ।
শিক্ষা ও বিদেশ ভ্রমণ: চাঁদাদাতা বা তার নির্ভরশীল ব্যক্তির শিক্ষা অথবা চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশ গমনের ব্যয় নির্বাহের জন্য ।
পারিবারিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান: বিবাহ, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অথবা যেকোনো ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের উদ্দেশ্যে ।
আবাসন সংক্রান্ত:
বাসগৃহ নির্মাণের জন্য জমি ক্রয় করা ।
নতুন বাসগৃহ নির্মাণ বা পুরাতন গৃহ মেরামত করা ।
বাসগৃহ নির্মাণের উদ্দেশ্যে গৃহীত ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধের জন্য ।
জীবনবীমা: জীবনবীমার প্রিমিয়াম পরিশোধ করার প্রয়োজনে ।
ধর্মীয় হজ্জ পালন: মুসলিম চাঁদাদাতাদের ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো পবিত্র হজ্জ পালনের ব্যয় নির্বাহের উদ্দেশ্যে ।
মোহরানা পরিশোধ: মুসলিম চাঁদাদাতার স্ত্রীর পাওনা মোহরানার দাবি পূরণের উদ্দেশ্যে (প্রমাণ দাখিল সাপেক্ষে) ।
কৃষি জমি ক্রয়: চাঁদাদাতার বয়স ৫২ বছর পূর্ণ হলে কৃষি জমি ক্রয়সহ যেকোনো প্রকৃত উদ্দেশ্যে অফেরতযোগ্য অগ্রিম উত্তোলন করা যায় ।
উত্তোলনের কিছু বিশেষ নিয়মাবলী
সাধারণ অগ্রিম: গৃহ নির্মাণ বা বিশেষ বিবেচনা ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে অগ্রিমের পরিমাণ সাধারণত ৩ মাসের বেতন বা সঞ্চিত অর্থের অর্ধেক—এই দুইয়ের মধ্যে যা কম, তার বেশি হবে না ।
গৃহ নির্মাণ অগ্রিম: এই ক্ষেত্রে ৩৬ মাসের বেতন বা সঞ্চিত অর্থের ৮০% (যা কম) পর্যন্ত অগ্রিম নেওয়া যেতে পারে ।
অফেরতযোগ্য অগ্রিম: চাঁদাদাতার বয়স ৫২ বছর পূর্ণ হলে তিনি সঞ্চিত অর্থের সর্বোচ্চ ৮০% পর্যন্ত অফেরতযোগ্য অগ্রিম হিসেবে উত্তোলন করতে পারেন, যা আর কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয় না ।
বিশেষ বিবেচনা: বিশেষ কারণে মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ সঞ্চিত অর্থের ৭৫% পর্যন্ত অগ্রিম মঞ্জুর করতে পারেন ।
অগ্রিম গ্রহণের জন্য নির্ধারিত ফরমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হয় এবং মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষকে আবেদনের যৌক্তিকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হয় ।




