সর্বশেষ প্রকাশিত পোস্টসমূহ

আতঙ্ক নয়, সতর্কতায় কমবে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঝুঁকি: আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ নির্দেশনা

বাংলাদেশে ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে বজ্রপাতের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিনিয়ত বজ্রপাতে প্রাণহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সম্প্রতি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বজ্রপাতের সময় নিরাপদ থাকার জন্য বিশেষ কিছু দিকনির্দেশনা ও জীবনরক্ষাকারী কৌশল প্রকাশ করা হয়েছে।

জলাশয় বা নৌকায় থাকাকালীন করণীয়

বজ্রপাতের সময় যারা নদী, হাওর বা বিলে অবস্থান করেন, তাদের জন্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে:

  • নৌকায় অবস্থান করলে: নৌকায় যদি ছৈ (ছাউনি) থাকে, তবে দ্রুত তার নিচে আশ্রয় নিতে হবে।

  • ছৈ বিহীন নৌকা: নৌকায় কোনো ছাউনি না থাকলে দ্রুত নিচু হয়ে নৌকার পাটাতনে শুয়ে বা বসে পড়তে হবে। এই অবস্থায় শরীরের সাথে পাটাতনের স্পর্শ যতটা সম্ভব কম রাখা জরুরি।

  • মাছ ধরা ও সাঁতার: আকাশে মেঘ দেখা দিলে বা বজ্রপাত শুরু হলে অবিলম্বে মাছ ধরা বন্ধ করতে হবে। যারা পানিতে সাঁতার কাটছেন, তাদের দ্রুত পানি থেকে ডাঙায় উঠে নিরাপদ দূরত্বে চলে যেতে হবে।

খোলা জায়গায় বা বাড়ির বাইরে থাকলে সতর্কতা

বাড়ির বাইরে বা খোলা মাঠে থাকা অবস্থায় বজ্রপাত শুরু হলে জীবন বাঁচাতে নিচের নিয়মগুলো মেনে চলা বাধ্যতামূলক:

  • গাছের নিচে দাঁড়ানো নিষেধ: অনেকেই বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বজ্রপাত সাধারণত উঁচু ও একাকী বস্তুর ওপর বেশি পড়ে, তাই গাছের নিচে থাকা মোটেও নিরাপদ নয়।

  • উঁচু স্থান এড়িয়ে চলা: পাহাড়ি এলাকা বা যেকোনো উঁচু ঢিবিতে অবস্থান করা যাবে না। সমতল স্থানে থাকার চেষ্টা করতে হবে।

  • বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার: ছেঁড়া বৈদ্যুতিক তার বা ট্রান্সফরমার থেকে দূরে থাকতে হবে। ধাতব খুঁটি বা টাওয়ারের সংস্পর্শে আসা বিপদজ্জনক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন বা ধাতব বস্তু ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত। যদি দেখা যায় চারপাশ খোলা এবং কোনো আশ্রয় নেওয়ার জায়গা নেই, তবে দুই কানে আঙুল দিয়ে পায়ের গোড়ালি একত্রিত করে কুঁকড়ে বসে থাকতে হবে।

‘স্কেলিং আপ ফোরকাস্ট বেইজড অ্যাকশন এন্ড লার্নিং ইন বাংলাদেশ (সুফল II)’ প্রকল্পের আওতায় কেয়ার বাংলাদেশ, কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইডসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বজ্রপাত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সচেতনতা এই মৃত্যুহার অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারে। তাই প্রতিকূল আবহাওয়ায় বাইরে বের না হওয়ার এবং নির্দেশনাসমূহ মেনে চলার জন্য সকলকে অনুরোধ করা হয়েছে।

সোর্স

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *