শিশুর বয়স ৬ মাস হলে কি মাতৃত্বকালীন ছুটি পাওয়া যায়? জেনে নিন সরকারি বিধিমালা
সরকারি চাকরিতে কর্মরত নারী কর্মচারীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। তবে অনেক সময় সঠিক তথ্যের অভাবে বা চাকুরিতে নতুন যোগদানের কারণে এই ছুটি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বিশেষ করে সন্তান জন্মের পর বা শিশুর নির্দিষ্ট বয়স অতিক্রান্ত হওয়ার পর এই ছুটি কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে। বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (BSR) এবং সাম্প্রতিক সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী মাতৃত্বকালীন ছুটির বিস্তারিত নিয়ম নিচে তুলে ধরা হলো।
মাতৃত্বকালীন ছুটির সময়সীমা ও প্রাপ্যতা
বিদ্যমান সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, একজন নারী কর্মচারী তার সমগ্র চাকরি জীবনে মোট ২ (দুই) বার মাতৃত্বকালীন ছুটি ভোগ করতে পারেন। প্রতিবার ছুটির মেয়াদ হবে ৬ (ছয়) মাস বা ১৮৪ দিন। এই ছুটি চলাকালীন সংশ্লিষ্ট কর্মচারী পূর্ণ গড় বেতনে বেতন ও ভাতাদি প্রাপ্য হন এবং এটি তার অর্জিত ছুটির হিসাব থেকে কাটা হয় না।
সন্তান জন্মের পর ছুটির আবেদন: শিশুর বয়স কি বাধা?
সাধারণত সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখের আগেই এই ছুটির আবেদন করা হয়। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে বা নতুন চাকরিতে যোগদানের ক্ষেত্রে নিয়মটি কিছুটা ভিন্ন।
১. ৬ মাসের মধ্যে আবেদন: যদি কোনো নারী কর্মচারী সন্তান জন্মের পর ছুটি নিতে চান, তবে শিশুর বয়স ৬ মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই তাকে আবেদন করতে হবে। কারণ, বিধি অনুযায়ী এই ছুটি সন্তান প্রসবের তারিখ থেকে পরবর্তী ৬ মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকে।
২. ৬ মাস পার হয়ে গেলে: যদি শিশুর বয়স ৬ মাস পার হয়ে যায়, তবে আর ‘মাতৃত্বকালীন ছুটি’ হিসেবে এটি গণ্য হবে না। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে বিধি অনুযায়ী অন্য কোনো অর্জিত ছুটি বা অসাধারণ ছুটি (Leave without pay) গ্রহণ করতে হতে পারে।
নবনিযুক্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান
অনেকের ধারণা থাকে যে চাকরিতে নতুন যোগদানের পরপরই ছুটি পাওয়া যায় না। এটি একটি ভুল ধারণা। সরকারি বিধি অনুযায়ী:
যোগদানের পরদিনই আবেদন: নতুন চাকরিতে যোগদানের পরদিনই একজন নারী কর্মচারী মাতৃত্বকালীন ছুটির জন্য আবেদন করতে পারেন।
অবশিষ্ট সময়ের জন্য ছুটি: যদি কোনো নারী সন্তান জন্মের পর নতুন চাকরিতে যোগদান করেন এবং তখন শিশুর বয়স হয় ৪ মাস, তবে তিনি শিশুর বয়স ৬ মাস পূর্ণ হতে যে ২ (দুই) মাস বাকি আছে, সেই অবশিষ্ট সময়ের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি প্রাপ্য হবেন। অর্থাৎ, শিশুর বয়স ৬ মাস হওয়া পর্যন্তই এই ছুটির সর্বোচ্চ সীমা।
মনে রাখা জরুরি:
সন্তান প্রসবের তারিখের পর কোনোভাবেই ৬ মাসের বেশি মাতৃত্বকালীন ছুটি বর্ধিত করার সুযোগ নেই (যদি না অন্য কোনো অর্জিত ছুটি যুক্ত করা হয়)।
ছুটির আবেদনের সাথে অবশ্যই রেজিস্টার্ড ডাক্তার বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মেডিকেল সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে।
ছুটি মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ যুক্তিসঙ্গত কারণে এই ছুটি না মঞ্জুর করতে পারেন না।
সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি কেবল একটি সুযোগ নয়, বরং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের একটি মানবিক পদক্ষেপ। তাই বিধি মোতাবেক সঠিক সময়ে আবেদন করে এই অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (BSR) পার্ট-১, বিধি-১৯৭ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা সর্বশেষ পরিপত্রসমূহ।
Maternity Leave After Baby Birth 2026 । শিশুর জন্মের পরও কি মাতৃত্বকালীন ছুটি মঞ্জুর হয়?



