বেতন বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে মনববন্ধনের ডাক।

জেলায় জেলায় কর্মরত কর্মচারীগণ বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন বারবার করেও সরকারের পক্ষ থেকে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। বরং সরকারের পক্ষ থেকৈ ঘোষণা করা হচ্ছে যে, পুন: বেতন বৃদ্ধি সম্ভব নয়। মূলত আমরা বেতন বৃদ্ধির থেকে বেতন বৈষম্য নিরসনের বার বারই তাগিদ দিয়ে আসছি।

সর্বনিম্ন বেতন গ্রেড ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮,২৫০/- ২০ তম গ্রেডের বেতন-ভাতা সব মিলিয়ে মোট ১৪,৪৫০/- দিয়ে মাসে ৬ (ছয়) সদস্যের পরিবারের যোগান দেওয়া খুবই কষ্টকর। এতে করে কর্মচারীগণ সংসার চালাতে ব্যক্তিগত ঋণের বোঝা বাড়িয়ে চলেছে। একই বাজারে দ্রব্যাদি ক্রয় করি সবার জন্য দ্রব্য/ পণ্য মূল্যের দাম সমান বেতন এত বৈষম্য থাকবে কেন? সরকারি চাকুরিজীবিদের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মূল বেতনের চরম বৈষম্য বিরাজ করছে।

১ম গ্রেডে ৭৮,০০০ টাকা কিন্তু ২০ তম গ্রেডে মাত্র ৮,২৫০ টাকা। এছাড়াও ১ম গ্রেডের উপরে আরও দুটি গ্রেড রয়েছে। গ্রেড ১- ১০ নং এর মোট পার্থক্য- ৬৫,৫০০ টাকা অপরদিকে গ্রেড ১১-২০ নং এর পার্থক্য মাত্র- ৪,২৫০ টাকা, বৈষম্য ৬৫,৫০০- ৪,২৫০= ৬১,২৫০ টাকা।

সকল ডিপার্টমেন্টের সকল পদের কর্মচারীদের পদন্নোতি থাকতে হবে, পদোন্নতির পদ না থাকলে ৫ (পাঁচ) বছর পর পর উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে।

২০টা গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে ১২ টা গ্রেড করা হোক।

টিফিন ভাতা উল্লেখ করে মাসে ২০০/- টাকা পেয়ে থাকি, ২০০/- টাকায় কয়দিন টিফিন খাওয়া যায়? প্রশ্নটি রইল নীতি নির্ধারকদের কাছে।

১১-২০ সম্মিলিত সংগঠন ০৬/০৯/২০১৯ ইং তারিখে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ৩০/০৯/২০১৯ ইং তারিখে ৬৪ জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর ও ১৬/১০/২০১৯ ইং তারিখে জাতীয় বেতন বৈষম্য নিরসন কমিটির আহ্বায়ক মাননীয় অর্থমন্ত্রী সহ সকল সদস্যের স্ব স্ব দপ্তরে বেতন বৈষম্য নিরসন, সকল পদে পদোন্নতি সহ ৮ দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করিয়াছি –১১-২০ তম গ্রেডের কর্মচারীদের সম্মিলিত অধিকার আদায়ের ফোরাম।

কিছুদিন আগে মাননীয় অর্থমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন আপাতত বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করার সরকারের পরিকল্পনা নেই, অথচ নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা বেতন বৃদ্ধি চায় না বেতন বৈষম্য নিরসন চায়। স্মারকলিপি প্রদান করে কোন প্রতিক্রিয়া না পেয়ে নিরাশ হয়েছি।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’কে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি ও বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। ১৯৪৯ সালে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরর ছাত্রত্ব হারিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গ কন্যা ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার মানবতার “মা” জননেত্রী শেখ হাসিনা’কে গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। বেতন বৈষম্য নিরসন, সকল পদে পদোন্নতি সহ ৮ দফা দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

১১-২০ গ্রেডের সরকারি চাকুরিজীবীদের সম্মিলিত অধিকার আদায় ফোরামের দাবী সমূহ:

১। ২০১৫ সালে প্রদত্ত ৮ম পে-স্কেল সংশোধন সহ বেতন বৈষম্য নিরসন করে গ্রেড অনুযায়ী বেতন স্কেলের পার্থক্য সমহারে নির্ধারণ ও গ্রেড সংখ্যা কমাতে হবে(ILO অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ)।

২। এক ও অভিন্ন নিয়োগ বিধি বাস্তবায়ন করতে হবে।

৩। সকল পদে পদোন্নতি বা ০৫(পাঁচ) বছর পর পর উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে(ব্লক পোষ্ট নিয়মিতকরণ করতে হবে)।

৪। টাইমস্কেল সিলেকশন গ্রেড পুণঃবহাল সহ জেষ্ঠতা বজায় রাখতে হবে।

৫। সচিবালয়ে ন্যায় পদবী ও গ্রেড পরিবর্তন করতে হবে। ৬. সকল ভাতা বাজার চাহিদা অনুযায়ী সমন্বয় করতে হবে।

৭। নিম্ন বেতন ভোগীদের জন্য রেশন ও ১০০% পেনশন চালু সহ পেনশন গ্রাচুইটি হার ১টাকা = ৫০০ টাকা করতে হবে। ৱ

৮। কাজের ধরণ অনুযায়ী পদ, নাম ও গ্রেড একিভূত করতে হবে।

সজল বিশ্বাস সদস্য, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ,

১১-২০ গ্রেডের সরকারী চাকুরীজীবিদের সম্মিলিত অধিকার আদায় ফোরাম।

 

বেতন বৈষম্য নিরসন, ৮ দফা দাবিতে সকল গ্রেডের সকল ডিপার্টমেন্টের ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারী ভাই-বোনে’রা দলে দলে যোগ দিন।

  • জমায়েত হওয়ার স্থান: জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ, ঢাকা।
  • তারিখঃ ০৭/০২/২০২০ ইং, সকাল ৯:০০ ঘটিকায়।

সূত্র: ১১-২০ গ্রেডের সরকারি চাকুরিজীবীদের সম্মিলিত অধিকার আদায়ের ফোরাম: ফেসবুক গ্রুপ লিংক

admin

আমার ব্লগের কোন কন্টেন্ট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে বা জানাতে ইমেইল করতে পারেন admin@bdservicerules.info ঠিকানায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.