অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে মিলতে পারে প্রায় তিন মাসের বকেয়া, আজ থেকে পে ফিক্সেশন শুরু
নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো-২০২৬ বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে প্রবেশ করেছে সরকার। আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণ বা পে ফিক্সেশন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে এ কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন হলে অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে প্রায় তিন মাসের বকেয়া বা এরিয়ার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে সব সরকারি চাকরিজীবী সমপরিমাণ বকেয়া পাবেন না। একজন কর্মচারী কত টাকা বকেয়া পাবেন, তা নির্ভর করবে তাঁর বর্তমান মূল বেতন, নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত মূল বেতন, গ্রেড, চাকরির ইতিহাস এবং নতুন বেতন কার্যকর হওয়ার তারিখের ওপর।
নতুন বেতন নির্ধারণের পুরো প্রক্রিয়াটি আইবাস++ (iBAS++) পে ফিক্সেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে অনলাইনে সম্পন্ন হবে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের নিজেদের চাকরিসংক্রান্ত তথ্য সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে অনলাইনে দিতে হবে।
আজ থেকে শুরু পে ফিক্সেশন, শেষ করতে হবে ২০ অক্টোবরের মধ্যে
নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পুনর্নির্ধারণের জন্য ৫ অক্টোবর থেকে পে ফিক্সেশন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
এর মাধ্যমে প্রত্যেক সরকারি চাকরিজীবীর নতুন কাঠামোয় প্রাপ্য মূল বেতন নির্ধারিত হবে। অনলাইনে তথ্য দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় তা যাচাই করবে। তথ্য ও চাকরির নথি সঠিক থাকলে অনলাইনে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।
পে ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর নতুন বেতন অনুযায়ী বেতন বিল প্রস্তুত করা হবে। একই সঙ্গে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রযোজ্য বেতন পার্থক্যের ভিত্তিতে বকেয়া পাওনার হিসাবও করা হবে।
অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে কেন বকেয়া পাওয়ার সম্ভাবনা
নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হয়েছে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে। কিন্তু নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় এতদিন অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী আগের কাঠামোর ভিত্তিতেই বেতন পেয়েছেন।
এখন পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হলে নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্য নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। সেই পার্থক্যের ভিত্তিতেই জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরসহ সংশ্লিষ্ট সময়ের বকেয়া হিসাব করা হবে।
অর্থ বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পে ফিক্সেশন চূড়ান্ত হওয়ার পর অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে প্রায় তিন মাসের বকেয়া পরিশোধের ব্যবস্থা করা হতে পারে।
তবে এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—বকেয়া সবার সমান হবে না। কারও নতুন মূল বেতন তুলনামূলক বেশি হলে তাঁর বকেয়াও বেশি হতে পারে। আবার যাঁদের পুরোনো ও নতুন মূল বেতনের ব্যবধান কম, তাঁদের বকেয়ার পরিমাণও কম হবে।
৩০ জুনের মূল বেতন হবে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি
নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে বিদ্যমান মূল বেতন গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। এরপর নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত মূল বেতন এবং পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্য অনুযায়ী ধাপে ধাপে নতুন বেতন কার্যকর হবে।
নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী—
- ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬: নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ কার্যকর;
- ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৩০ জুন ২০২৭: ওই পার্থক্যের ৭০ শতাংশ কার্যকর;
- ১ জুলাই ২০২৭ থেকে: পুরো নতুন মূল বেতন কার্যকর;
- নতুন কাঠামোর বিভিন্ন ভাতা কার্যকর হবে পরবর্তী নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, যার মধ্যে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভাতা কার্যকরের বিষয়টিও রয়েছে।
ফলে পে ফিক্সেশনের পর শুধু নতুন মূল বেতন জানাই নয়, কোন সময় থেকে কত অংশ কার্যকর হবে—সেটিও বকেয়া হিসাবের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
আইবাস++-এ কীভাবে প্রবেশ করবেন
পে ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদমর্যাদা অনুযায়ী আইবাস++ ব্যবস্থায় প্রবেশের পদ্ধতিতে কিছু পার্থক্য রাখা হয়েছে।
গেজেটেড কর্মকর্তারা নিজেদের নির্ধারিত ব্যবহারকারী পরিচয় ও গোপন সংকেত ব্যবহার করে আইবাস++ ব্যবস্থায় প্রবেশ করবেন।
অন্যদিকে নন-গেজেটেড কর্মচারীরা জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্মতারিখ ব্যবহার করে প্রবেশ করতে পারবেন। প্রবেশের সময় আইবাস++-এ নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বরে একবার ব্যবহারযোগ্য সংকেত বা OTP পাঠানো হবে। ওই সংকেত ব্যবহার করে লগইন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
বিদেশে অবস্থানরত কোনো কর্মচারীর ক্ষেত্রে নিবন্ধিত ই-মেইল ঠিকানায়ও OTP পাঠানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
যেসব সরকারি কর্মচারীর জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তাঁদের পে ফিক্সেশনের আগে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের প্রয়োজন হবে।
পে ফিক্সেশনে যেসব তথ্য দিতে হবে
আইবাস++-এর নির্দিষ্ট পে ফিক্সেশন অপশনে প্রবেশ করার পর চাকরিজীবীকে নিজের চাকরিসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য দিতে হবে।
এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো—
- জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর;
- জন্মতারিখ;
- নাম;
- বর্তমান পদবি;
- বর্তমান গ্রেড;
- চাকরিতে যোগদানের তারিখ;
- ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন;
- পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের তথ্য;
- পদোন্নতির তথ্য;
- বদলির তথ্য;
- সময় স্কেল;
- বাছাই গ্রেড;
- উচ্চতর গ্রেড;
- আগের চাকরি ও বেতনসংক্রান্ত তথ্য।
তথ্য দেওয়ার পর আবেদন জমা দেওয়ার আগেই সিস্টেমে নতুন কাঠামো অনুযায়ী সম্ভাব্য নতুন মূল বেতনের পরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত হবে।
চাকরিজীবী তথ্য যাচাই করে আবেদন জমা দিলে নিবন্ধিত মুঠোফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুদে বার্তা পাঠানো হবে।
শুধু অনলাইনে তথ্য দিলেই পে ফিক্সেশন শেষ নয়
পে ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অনলাইনে তথ্য পূরণ করলেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে না।
চাকরিজীবীর দেওয়া তথ্য সংশ্লিষ্ট বেতন ও হিসাব পরিশোধ কর্মকর্তার মাধ্যমে যাচাই করা হবে। বিশেষ করে নন-গেজেটেড কর্মচারীদের ক্ষেত্রে চাকরির নথিতে থাকা আগের চাকরি, বেতন ও অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে অনলাইনে দেওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে।
কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রতিটি তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হিসাবরক্ষণ কার্যালয় দেবে চূড়ান্ত অনুমোদন
চাকরিজীবীর তথ্য যাচাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় অনলাইনে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।
অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইবাস++ ব্যবস্থা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি বিশেষ যাচাই নম্বর তৈরি হবে। ফলে প্রচলিত পদ্ধতিতে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার আলাদা হাতে লেখা বা প্রচলিত স্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে না।
পরবর্তীতে অনলাইন প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া যাচাই নম্বর এবং নতুন নির্ধারিত বেতন চাকরির নথিতে লিপিবদ্ধ করা হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেখানে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর করবেন।
পে ফিক্সেশনের আগে যেসব কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা জরুরি
পে ফিক্সেশনের সময় চাকরিজীবীদের বিশেষ করে পদোন্নতি, বদলি, উচ্চতর গ্রেড, সময় স্কেল ও বাছাই গ্রেডসংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে।
এ কারণে এসব বিষয়ের অফিস আদেশ ও সংশ্লিষ্ট নথি হাতের কাছে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরবর্তী যাচাইয়ের সময় অনলাইনে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সরকারি চাকরির নথির মিল থাকতে হবে।
বিশেষভাবে যাচাই করতে হবে—
নাম → জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর → জন্মতারিখ → পদবি → গ্রেড → যোগদানের তারিখ → মূল বেতন → পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণ → পদোন্নতি/উচ্চতর গ্রেডের ইতিহাস।
এসব তথ্যের কোনো একটি ভুল হলে নতুন বেতন নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে এবং পরবর্তীতে সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।
উচ্চতর গ্রেডের হিসাবেও বড় পরিবর্তন
নতুন বেতন আদেশে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম রাখা হয়েছে। কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে আট বছর পূর্ণ করলে এবং চাকরি সন্তোষজনক হলে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে আরও ছয় বছর চাকরি করলে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান রয়েছে।
তবে আগের বেতন কাঠামোয় সময় স্কেল, বাছাই গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়া কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি সরল নয়। পূর্ববর্তী সুবিধার ইতিহাস নতুন কাঠামোয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলবে।
আগের উচ্চতর গ্রেড থাকলে সতর্কতা জরুরি
নতুন আদেশ অনুযায়ী, আগের বেতন কাঠামোয় একই পদে দুই বা ততোধিক বাছাই গ্রেড, সময় স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে নতুন কাঠামোয় একই পদে আবার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।
অন্যদিকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত একই পদে মাত্র একটি উচ্চতর স্কেল বা গ্রেড পাওয়া থাকলে পরবর্তী ছয় বছর পূর্তির পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।
এ কারণে যাঁদের চাকরিজীবনে একাধিকবার পদোন্নতি, সময় স্কেল, বাছাই গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড হয়েছে, তাঁদের জন্য পে ফিক্সেশনের সময় আগের বেতন নির্ধারণের ইতিহাস সঠিকভাবে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন বেতনকাঠামোয় সর্বনিম্ন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা
সরকার গত ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে। নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
নতুন বেতন ও ভাতা ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ধাপে ধাপে কার্যকর হওয়ার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফলে নতুন কাঠামোর পূর্ণ সুবিধা পেতে শুধু অক্টোবরের বকেয়া নয়, পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে মূল বেতন ও ভাতা কার্যকরের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ
নতুন কাঠামোর বেতন বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে দুই ধাপে মূল বেতনের ৭০ শতাংশ দেওয়ার জন্য প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার কথা জানিয়েছে অর্থ বিভাগ।
এর অর্থ হলো, নতুন বেতনকাঠামোর আর্থিক প্রভাব একবারে পুরোপুরি কার্যকর না করে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাদেরও দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ
পে ফিক্সেশন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাদের অনলাইন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আইবাস++ ব্যবস্থার মাধ্যমে বেতন নির্ধারণ, তথ্য যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
প্রধান হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা, বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক, জেলা হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা এবং উপজেলা হিসাব কর্মকর্তার কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন।
ভুল তথ্য দিলে বেতন ও বকেয়া—দুটিই আটকে যেতে পারে
নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি হচ্ছে পে ফিক্সেশন। কারণ এই প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে একজন চাকরিজীবীর নতুন মূল বেতন এবং বকেয়া পাওনার হিসাব।
তাই জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড, যোগদানের তারিখ কিংবা আগের বেতন নির্ধারণের তথ্যে ভুল থাকলে শুধু নতুন বেতন নির্ধারণেই সমস্যা হবে না; বকেয়া হিসাবেও ভুল হতে পারে।
বিশেষ করে যাঁদের চাকরিজীবনে একাধিক পদোন্নতি, বদলি, উচ্চতর গ্রেড, সময় স্কেল বা বাছাই গ্রেড রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্কতার সঙ্গে তথ্য দিতে হবে।
শেষ কথা
৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া পে ফিক্সেশন কার্যক্রম মূলত নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোকে বাস্তবে কার্যকর করার অন্যতম প্রধান ধাপ। ২০ অক্টোবরের মধ্যে তথ্য যাচাই ও বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ করার লক্ষ্য থাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এখনই প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করে তথ্য যাচাই করা উচিত।
পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হলে নতুন মূল বেতন নির্ধারিত হবে, সেই বেতনের ভিত্তিতে অক্টোবরের বেতন বিল তৈরি হবে এবং একই সঙ্গে পূর্ববর্তী সময়ের বকেয়া হিসাব করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে প্রায় তিন মাসের বকেয়া দেওয়ার ব্যবস্থা হতে পারে।
তবে প্রত্যেকের বকেয়া আলাদা হবে। কে কত টাকা পাবেন, তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হবে পে ফিক্সেশনে নির্ধারিত নতুন মূল বেতন এবং পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্য। তাই বকেয়া কত পাবেন—এটি অনুমান না করে প্রথমে আইবাস++ পে ফিক্সেশনে নিজের তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো—চাকরির পুরো ইতিহাস, আগের বেতন নির্ধারণ, পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেডের তথ্য মিলিয়ে দেখে নির্ভুলভাবে পে ফিক্সেশন সম্পন্ন করা। তাহলেই নতুন বেতন ও বকেয়া পাওনার হিসাব সঠিকভাবে নির্ধারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।


