জাতীয় পরিচয়পত্রের নতুন আবেদন থেকে সংশোধন—জেনে নিন নিয়ম, ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র। ভোটার নিবন্ধন, ব্যাংক হিসাব পরিচালনা, বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণ, মোবাইল সিম নিবন্ধনসহ নানা প্রয়োজনে এই পরিচয়পত্রের প্রয়োজন হয়। কিন্তু নতুন ভোটার হওয়া, এনআইডিতে নাম বা জন্মতারিখ সংশোধন, ভোটার এলাকা পরিবর্তন কিংবা হারানো কার্ড পুনরায় সংগ্রহের ক্ষেত্রে অনেকেই সঠিক নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখেন না।
এনআইডি সেবার বিভিন্ন প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি একটি তথ্যভান্ডারে নতুন ভোটার নিবন্ধন, পরিচয়পত্র সংশোধন, সম্ভাব্য সরকারি ফি, আবেদনপত্র তৈরির পদ্ধতি, ডিজিটাল কপি সংগ্রহ এবং হারানো কার্ড পুনরায় পাওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এসব তথ্য অনুসরণ করে নাগরিকেরা আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পেতে পারেন। তবে ফি, যোগ্যতা ও প্রশাসনিক নির্দেশনা পরিবর্তিত হতে পারে বলে আবেদন করার আগে নির্বাচন কমিশনের সরকারি পোর্টাল থেকে সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করা জরুরি।
১৬ বছর বয়স থেকেই নতুন ভোটার নিবন্ধনের আবেদন
তথ্যভান্ডারে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী বাংলাদেশি নাগরিকেরা নতুন ভোটার নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সম্পর্কিত। আবেদন করার যোগ্যতা, নিবন্ধনের সময়সীমা এবং ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির বর্তমান নিয়ম নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।
নতুন ভোটার হওয়ার জন্য প্রথমে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। এরপর নতুন নিবন্ধনের আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে।
আবেদনের প্রাথমিক ধাপগুলো হলো—
১. নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে।
২. নতুন ভোটার নিবন্ধনের আবেদনসংক্রান্ত অপশন নির্বাচন করতে হবে।
৩. নির্দেশনা অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধন নম্বর, জন্মতারিখ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।
৪. আবেদন সম্পন্ন হলে আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফরম প্রিন্ট করতে হবে।
৫. নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে উপস্থিত হতে হবে।
৬. নিবন্ধনের অংশ হিসেবে ছবি, আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিস ও স্বাক্ষর দিতে হতে পারে।
৭. নিবন্ধনসংক্রান্ত রসিদ ও আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করতে হবে।
তথ্যভান্ডারে নতুন ভোটার নিবন্ধনের জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদ, এসএসসি বা সমমানের সনদ, সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, বাবা-মায়ের এনআইডির কপি এবং ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে বিদ্যুৎ বিল বা হোল্ডিং ট্যাক্সের কাগজের কথা উল্লেখ রয়েছে।
বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে স্বামীর এনআইডি ও বিবাহ সনদ প্রয়োজন হতে পারে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রত্যেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সব কাগজপত্র বাধ্যতামূলক কি না, তা সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসের নির্দেশনা থেকে নিশ্চিত হওয়া উচিত।
এনআইডিতে নাম ও জন্মতারিখ সংশোধনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ কিংবা অন্যান্য তথ্য ভুল থাকলে সংশোধনের আবেদন করা যায়। তবে ভুলের ধরন ও সংশোধনের পরিমাণ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র এবং যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে।
তথ্যভান্ডারে বলা হয়েছে, সংশোধনের আবেদনে অনলাইনে যাচাইযোগ্য শিক্ষাগত সনদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে জেএসসি, এসএসসি বা সমমানের সনদের সঙ্গে তথ্যের মিল থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই প্রক্রিয়ায় সুবিধা হতে পারে।
আবেদনের আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন—
- এনআইডিতে বর্তমানে যে তথ্য রয়েছে, তা সঠিকভাবে শনাক্ত করতে হবে।
- সংশোধনের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
- জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন ও শিক্ষাগত সনদের তথ্যের মিল যাচাই করতে হবে।
- নাম বা বাবা-মায়ের নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক সনদ ও অন্যান্য প্রমাণপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে।
- আবেদন জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য ভালোভাবে পরীক্ষা করতে হবে।
তথ্যভান্ডারে সতর্ক করা হয়েছে, নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম ও জন্মতারিখের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সম্পূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একই তথ্যের ঘরে দ্বিতীয়বার সংশোধনের সুযোগ সীমিত হতে পারে। তাই প্রথমবার আবেদন করার সময় সঠিক কাগজপত্র দাখিল করা জরুরি।
এখানে উল্লেখ করা নিয়মগুলোকে সাধারণ নির্দেশনা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। কোনো আবেদন একবার সংশোধন করা হয়েছে বলেই সব ধরনের পরবর্তী সংশোধন অসম্ভব—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। নির্দিষ্ট আবেদন ও প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
এনআইডি সংশোধনের ফি কত?
এনআইডি সংশোধনের ক্ষেত্রে কত টাকা সরকারি ফি দিতে হবে, তা নিয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে প্রায়ই প্রশ্ন দেখা যায়। তথ্যভান্ডারে সংশোধনের ধরন ও আবেদনের ক্রম অনুযায়ী নিচের ফি উল্লেখ করা হয়েছে।
| সংশোধনের ধরন | প্রথম আবেদন | দ্বিতীয় আবেদন | তৃতীয় বা পরবর্তী আবেদন |
|---|---|---|---|
| কার্ডে মুদ্রিত তথ্য সংশোধন | ২৩০ টাকা | ৩৪৫ টাকা | ৪৬০ টাকা |
| অভ্যন্তরীণ তথ্য-উপাত্ত সংশোধন | ১১৫ টাকা | ২৩০ টাকা | ৩৪৫ টাকা |
গুরুত্বপূর্ণ: উপরের অঙ্কগুলো সরবরাহ করা তথ্যভান্ডারে উল্লেখিত ফি। এগুলো বর্তমান সরকারি ফি হিসেবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। তাই আবেদন করার আগে এনআইডি সেবা পোর্টালে প্রদর্শিত ফি এবং প্রযোজ্য সরকারি নির্দেশনা মিলিয়ে নিতে হবে।
এ ছাড়া যাতায়াত, কাগজপত্রের কপি তৈরি কিংবা সত্যায়নের মতো আনুষঙ্গিক খরচ থাকতে পারে। ছবি ও স্বাক্ষর পরিবর্তনের জন্য সশরীরে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
সরকারি ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হলে তার কারণ ও বৈধতা যাচাই করা উচিত। কোনো দালালের মাধ্যমে দ্রুত কাজ করানোর আশায় টাকা দেওয়া থেকে বিরত থাকাই নিরাপদ।
জন্মতারিখ সংশোধনে কেন বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন?
এনআইডির জন্মতারিখে ভুল থাকলে সেটি সংশোধনের জন্য যথাযথ প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে। কারণ জন্মতারিখ ব্যক্তির পরিচয়সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং এর সঙ্গে শিক্ষাগত সনদ, জন্ম নিবন্ধনসহ অন্যান্য নথির সম্পর্ক রয়েছে।
তথ্যভান্ডারে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদনের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার দায়িত্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে যাচাইযোগ্য সনদের ভিত্তিতে কিছু আবেদন মাঠপর্যায়ে নিষ্পত্তি এবং তুলনামূলক বড় ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে।
তবে কোন ধরনের আবেদন কোন কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করবেন, তা বর্তমান প্রশাসনিক নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্ট আবেদনের প্রকৃতি অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে।
জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর উচিত—
১. জন্ম নিবন্ধন ও শিক্ষাগত সনদের তথ্য মিলিয়ে দেখা।
২. ভুল তথ্য এবং প্রস্তাবিত সঠিক তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা।
৩. সংশোধনের পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র সংযুক্ত করা।
৪. আবেদন জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য পুনরায় যাচাই করা।
৫. আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করে নিয়মিত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা।
এনআইডি কার্ড হারিয়ে গেলে কী করবেন?
জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে অনেকেই থানায় সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করতে হবে কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন। সরবরাহ করা তথ্যভান্ডারে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে হারানো এনআইডি পুনরায় সংগ্রহের ক্ষেত্রে জিডির বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়েছে।
তবে এই তথ্যের বর্তমান কার্যকারিতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সরকারি পোর্টাল অথবা হেল্পলাইন ১০৫ থেকে সর্বশেষ নির্দেশনা জেনে নেওয়া উচিত।
তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, হারানো কার্ড পুনরায় সংগ্রহের সাধারণ প্রক্রিয়া হলো—
- প্রথমে পুরোনো এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করতে হবে।
- এনআইডি সেবা পোর্টালে প্রবেশ করে হারানো কার্ডের পুনঃইস্যু বা নতুন কপি পাওয়ার আবেদন নির্বাচন করতে হবে।
- পোর্টালে প্রদর্শিত প্রযোজ্য ফি পরিশোধ করতে হবে।
- আবেদন নম্বর ও ফি জমার রসিদ সংরক্ষণ করতে হবে।
- পোর্টালে আবেদনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
- প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী মূল কাগজপত্রসহ উপস্থিত হতে হবে।
তথ্যভান্ডারে হারানো কার্ড পুনরায় সংগ্রহের নির্দিষ্ট ফি নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ককে চূড়ান্ত সরকারি ফি হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। আবেদনের সময় পোর্টালে প্রদর্শিত অঙ্কই যাচাই করতে হবে।
কার্ড হারিয়ে যাওয়ার পর জরুরি প্রয়োজনে ডিজিটাল কপি ব্যবহার করা যেতে পারে, যদি সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে সেটি ডাউনলোডের সুযোগ থাকে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তা গ্রহণ করে।
এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, হারানো কার্ড পুনরায় সংগ্রহ এবং কার্ডের ভুল তথ্য সংশোধন দুটি আলাদা প্রক্রিয়া। কার্ড হারিয়ে গেলে প্রথমে পুনঃইস্যুর আবেদন এবং পরে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনের আবেদন করতে হতে পারে।
ছবি ও স্বাক্ষর পরিবর্তনে কী করতে হবে?
জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি বা স্বাক্ষর পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। তথ্যভান্ডারে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন ছবি ও স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য আবেদনকারীকে সশরীরে উপস্থিত হতে হতে পারে।
এ ধরনের আবেদন করার আগে পরিবর্তনের কারণ নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং সংশ্লিষ্ট অফিসের নির্দেশনা যাচাই করা উচিত।
অনলাইনে আবেদন বা প্রাথমিক তথ্য প্রস্তুত করা গেলেও ছবি ও স্বাক্ষর গ্রহণের মতো কাজের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত উপস্থিতি প্রয়োজন হলে শুধু অনলাইন আবেদন করেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না।
ভোটার এলাকা পরিবর্তনের নিয়ম
স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তনের কারণে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে নতুন ঠিকানার প্রমাণ এবং প্রযোজ্য আবেদনপত্র প্রস্তুত করতে হবে।
তথ্যভান্ডারে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের জন্য ফরম-১৩ এবং নতুন ঠিকানার প্রমাণপত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আবেদনকারীর ক্ষেত্রে কোন ফরম, নথি বা অতিরিক্ত যাচাই প্রয়োজন হবে, তা নির্বাচন কমিশনের বর্তমান নির্দেশনা থেকে নিশ্চিত করা জরুরি।
ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদনে সাধারণত আগের ঠিকানা, নতুন ঠিকানা এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
এনআইডির ডিজিটাল কপি কীভাবে সংগ্রহ করবেন?
জাতীয় পরিচয়পত্রের ডিজিটাল কপি প্রয়োজন হলে সরকারি এনআইডি সেবা পোর্টালের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট তৈরি বা লগইন করে প্রযোজ্য প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
তথ্যভান্ডারে নিবন্ধন, মুখমণ্ডল যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ধাপ সম্পন্ন করার পর ডিজিটাল কপি ডাউনলোডের সুযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে অ্যাকাউন্টের অবস্থা, নিবন্ধনের তথ্য এবং প্রযোজ্য নিরাপত্তা যাচাইয়ের ওপর এই সুবিধা নির্ভর করতে পারে।
ডিজিটাল কপি সংগ্রহের সময় নিজের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সুরক্ষিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। অন্য কারও কাছে এনআইডির নম্বর, পাসওয়ার্ড, যাচাইকরণ কোড বা ব্যক্তিগত তথ্য অপ্রয়োজনে প্রকাশ করা উচিত নয়।
আবেদন করতে গিয়ে যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন
এনআইডি-সংক্রান্ত আবেদন দ্রুত ও সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
প্রথমত, ভুল তথ্য দেবেন না। নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম ও ঠিকানার তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অসম্পূর্ণ রাখবেন না। আবেদনের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সনদ ও প্রমাণপত্র আগে থেকে প্রস্তুত রাখা উচিত।
তৃতীয়ত, ফি যাচাই না করে টাকা জমা দেবেন না। পুরোনো তথ্য বা অনানুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অঙ্কের পরিবর্তে সরকারি পোর্টালে প্রদর্শিত ফি অনুসরণ করতে হবে।
চতুর্থত, আবেদন নম্বর ও রসিদ সংরক্ষণ করুন। ভবিষ্যতে আবেদনের অবস্থা যাচাই বা সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এগুলো প্রয়োজন হতে পারে।
পঞ্চমত, দালালের ওপর নির্ভর করবেন না। অননুমোদিত ব্যক্তির কাছে টাকা বা ব্যক্তিগত তথ্য দিলে আর্থিক ক্ষতি এবং পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ষষ্ঠত, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। এনআইডি নম্বর, পরিচয়পত্রের কপি এবং অ্যাকাউন্টের তথ্য শুধু প্রয়োজনীয় ও বিশ্বস্ত মাধ্যমে ব্যবহার করুন।
আবেদন কত দিনে নিষ্পত্তি হয়?
এনআইডি সংশোধনের আবেদন কত দিনে নিষ্পত্তি হবে, তা নির্ভর করতে পারে সংশোধনের ধরন, কাগজপত্রের যথার্থতা, তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের ওপর।
তথ্যভান্ডারে সাধারণ আবেদনের জন্য আনুমানিক ৭ থেকে ১৫ কার্যদিবস এবং জটিল আবেদনের ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব সময়সীমা বর্তমান সরকারি নিশ্চয়তা হিসেবে যাচাই করা হয়নি।
তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি হবেই—এমন ধারণা না করে আবেদন নম্বর দিয়ে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করা উচিত।
এনআইডি সেবা কোথায় পাবেন?
জাতীয় পরিচয়পত্রের নতুন নিবন্ধন, সংশোধন, পুনঃইস্যু ও অন্যান্য সেবা সম্পর্কে জানতে নির্বাচন কমিশনের সরকারি এনআইডি সেবা পোর্টাল ব্যবহার করা যেতে পারে।
এনআইডি সেবা পোর্টাল: https://services.nidw.gov.bd/
হেল্পলাইন: ১০৫
আবেদনের আগে পোর্টালে প্রকাশিত নির্দেশনা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফি ও আবেদনসংক্রান্ত শর্তাবলি যাচাই করতে হবে। অনলাইনে সমস্যার সম্মুখীন হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
শেষ কথা
জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সঠিক রাখা নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ভোটার নিবন্ধন থেকে শুরু করে নাম-জন্মতারিখ সংশোধন, ভোটার এলাকা পরিবর্তন কিংবা হারানো কার্ড পুনরায় সংগ্রহ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রের ভূমিকা রয়েছে।
এনআইডি সেবার তথ্যভান্ডার নাগরিকদের প্রাথমিক ধারণা দিতে সহায়ক হতে পারে। তবে এতে উল্লেখিত ফি, জিডির বাধ্যবাধকতা, আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলোকে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। আবেদন করার আগে নির্বাচন কমিশনের সরকারি পোর্টাল অথবা হেল্পলাইন ১০৫ থেকে তথ্য যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।



