ইত্যাদি । বিবিধ । ক্যাটাগরী বিহীন তথ্য

বিকাশ, নগদ নাকি রকেট: টাকা পাঠানো ও ক্যাশ আউটে সাশ্রয়ী কোনটি?

বাংলাদেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। টাকা পাঠানো, ক্যাশ আউট, মোবাইল রিচার্জ, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল পরিশোধ, কেনাকাটাসহ বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনে এখন বিকাশ, নগদ ও রকেটের ওপর নির্ভর করছেন অসংখ্য গ্রাহক। তবে একই পরিমাণ টাকা লেনদেন করলেও তিনটি সেবায় খরচের পার্থক্য রয়েছে। ফলে কোন সেবায় টাকা পাঠানো বা নগদ উত্তোলন করলে খরচ কম হবে, তা জানা থাকলে গ্রাহকেরা সহজেই সাশ্রয় করতে পারেন।

এমএফএস গাইড_ বিকাশ, নগদ ও রকেট

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এমএফএস গাইডে বিকাশ, নগদ ও রকেটের সেন্ড মানি, এজেন্ট থেকে ক্যাশ আউট, এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন এবং ব্যাংকে টাকা পাঠানোর আনুমানিক খরচ তুলনা করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, এজেন্ট থেকে ক্যাশ আউটের ক্ষেত্রে নগদের অ্যাপভিত্তিক লেনদেন তুলনামূলক সাশ্রয়ী হতে পারে। অন্যদিকে, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের নির্ধারিত এটিএম ব্যবহার করে রকেট থেকে টাকা তুললেও কম খরচের সুযোগ রয়েছে। তবে প্রকৃত খরচ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সেবার কার্যকর চার্জ, লেনদেনের ধরন এবং প্রযোজ্য সীমার ওপর।

এজেন্ট থেকে টাকা তুলতে কোনটিতে খরচ কম?

এমএফএস গ্রাহকদের নিয়মিত একটি কাজ হলো এজেন্টের মাধ্যমে হিসাবের টাকা নগদে রূপান্তর করা। এ ক্ষেত্রে প্রতি হাজার টাকায় কত টাকা চার্জ দিতে হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

প্রাপ্ত গাইডে উল্লেখিত আনুমানিক চার্জ অনুযায়ী, বিকাশের সাধারণ এজেন্ট থেকে প্রতি হাজার টাকা ক্যাশ আউট করতে খরচ ১৮ টাকা ৫০ পয়সা। তবে প্রিয় এজেন্টের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্ত ও সীমার মধ্যে প্রতি হাজারে আনুমানিক ১৩ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে ১৪ টাকা ৯০ পয়সা খরচ হতে পারে।

অন্যদিকে, নগদ অ্যাপের মাধ্যমে এজেন্ট থেকে ক্যাশ আউটের আনুমানিক চার্জ প্রতি হাজারে ১২ টাকা ৫০ পয়সা। ইউএসএসডি বা *১৬৭# মেনু ব্যবহার করে টাকা তুললে প্রতি হাজারে আনুমানিক ১৫ টাকা খরচ হতে পারে।

রকেটের ক্ষেত্রে এজেন্ট থেকে ক্যাশ আউটের আনুমানিক চার্জ প্রতি হাজারে ১৬ টাকা ৭০ পয়সা।

এই তুলনা অনুযায়ী, উল্লিখিত হার কার্যকর থাকলে অ্যাপের মাধ্যমে নগদ থেকে এজেন্টে ক্যাশ আউট তুলনামূলক কম খরচের হতে পারে। তবে শুধু চার্জ বিবেচনা না করে নিজের এলাকায় এজেন্টের প্রাপ্যতা, লেনদেনের সীমা এবং অ্যাপে প্রদর্শিত চূড়ান্ত খরচও যাচাই করা প্রয়োজন।

৫ হাজার টাকা তুললে কত খরচ হতে পারে?

পাঁচ হাজার টাকা ক্যাশ আউটের একটি উদাহরণ বিবেচনা করলে বিভিন্ন সেবার খরচের পার্থক্য স্পষ্ট হয়।

প্রাপ্ত গাইডে দেওয়া প্রতি হাজার টাকার আনুমানিক চার্জ ধরে হিসাব করলে দেখা যায়—

সেবার নামপ্রতি হাজারে আনুমানিক চার্জ৫ হাজার টাকায় আনুমানিক চার্জ
বিকাশ—প্রিয় এজেন্ট১৩.৯৫–১৪.৯০ টাকা৬৯.৭৫–৭৪.৫০ টাকা
বিকাশ—সাধারণ এজেন্ট১৮.৫০ টাকা৯২.৫০ টাকা
নগদ—অ্যাপের মাধ্যমে১২.৫০ টাকা৬২.৫০ টাকা
নগদ—ইউএসএসডি১৫ টাকা৭৫ টাকা
রকেট—এজেন্ট১৬.৭০ টাকা৮৩.৫০ টাকা
রকেট—ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের এটিএম৯ টাকা৪৫ টাকা

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এগুলো সরবরাহ করা গাইডে উল্লেখিত হার ধরে করা গাণিতিক হিসাব; ৩১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ট্যারিফ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। এটিএম ব্যবহারের চার্জ ও প্রযোজ্য শর্তও লেনদেনের আগে নিশ্চিত করতে হবে।

এ হিসাব থেকে বোঝা যায়, নির্ধারিত হারগুলো কার্যকর থাকলে পাঁচ হাজার টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে নগদ অ্যাপের মাধ্যমে এজেন্ট ব্যবহার করলে ৬২ টাকা ৫০ পয়সা খরচ হতে পারে। রকেটের নির্ধারিত এটিএম সুবিধায় একই পরিমাণ টাকা তুলতে খরচ হতে পারে ৪৫ টাকা। তবে এটিএমে যাতায়াত, সুবিধাটির প্রাপ্যতা এবং অন্য কোনো প্রযোজ্য ফি থাকলে সেগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।

বিকাশের প্রিয় এজেন্ট সুবিধায় মিলতে পারে সাশ্রয়

বিকাশের নিয়মিত ব্যবহারকারীদের জন্য প্রিয় এজেন্ট সুবিধা ক্যাশ আউটের খরচ কমানোর একটি উপায় হতে পারে। গাইড অনুযায়ী, নির্ধারিত সীমার মধ্যে প্রিয় এজেন্ট ব্যবহার করলে প্রতি হাজার টাকায় সাধারণ এজেন্টের তুলনায় কম চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে, সাধারণ এজেন্টে প্রতি হাজারে ১৮ টাকা ৫০ পয়সা এবং প্রিয় এজেন্টে ১৩ টাকা ৯৫ পয়সা চার্জ ধরা হলে প্রতি হাজারে সাশ্রয় হবে ৪ টাকা ৫৫ পয়সা। পাঁচ হাজার টাকা তুললে পার্থক্য দাঁড়াবে ২২ টাকা ৭৫ পয়সা।

তবে প্রিয় এজেন্টের সংখ্যা, মাসিক লেনদেনের সীমা ও চার্জের শর্ত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই গ্রাহকদের বিকাশ অ্যাপে প্রদর্শিত বর্তমান নিয়ম দেখে সুবিধাটি ব্যবহার করা উচিত।

সেন্ড মানিতে কোন সেবা বেশি সাশ্রয়ী?

শুধু টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে ক্যাশ আউটের হিসাবের চেয়ে আলাদা বিষয় বিবেচনা করতে হয়। কারণ, টাকা পাঠানোর চার্জ নির্ভর করতে পারে পাঠানো টাকার পরিমাণ, প্রাপকের নম্বর, ব্যবহৃত মাধ্যম এবং প্রযোজ্য অফারের ওপর।

প্রাপ্ত গাইডে বিকাশের ক্ষেত্রে ১০০ টাকা পর্যন্ত সেন্ড মানি বিনা চার্জে করার সুযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া নির্দিষ্ট প্রিয় নম্বরে বিনা চার্জে টাকা পাঠানোর সুবিধার কথাও বলা হয়েছে।

নগদের ক্ষেত্রে অ্যাপ ও ইউএসএসডি ব্যবহারে প্রতি লেনদেনে পাঁচ টাকা চার্জের আনুমানিক তথ্য দেওয়া হয়েছে। রকেটের অ্যাপে সেন্ড মানি বিনা চার্জে এবং ইউএসএসডি ব্যবহারে পাঁচ টাকা খরচের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ তথ্য অনুযায়ী, শুধু টাকা পাঠানোর প্রয়োজন হলে রকেট অ্যাপের বিনা চার্জের সুবিধা এবং বিকাশের প্রযোজ্য বিনা চার্জের সুবিধা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে লেনদেন নিশ্চিত করার আগে অ্যাপে প্রদর্শিত চার্জ যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।

ব্যাংকে টাকা পাঠানোর খরচেও রয়েছে পার্থক্য

মোবাইল আর্থিক হিসাব থেকে ব্যাংক হিসাবে টাকা স্থানান্তরের প্রয়োজনও অনেক গ্রাহকের রয়েছে। বিশেষ করে বেতন, ব্যবসায়িক লেনদেন বা ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের অর্থ ব্যাংকে নেওয়ার ক্ষেত্রে চার্জ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

প্রাপ্ত গাইডে বিকাশ থেকে ব্যাংকে টাকা পাঠানোর খরচ আনুমানিক ১৫ থেকে ২৫ টাকা অথবা নির্দিষ্ট শতাংশ হারে হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নগদের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং রকেট থেকে ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের হিসাবে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে ০ দশমিক ৯ শতাংশ চার্জের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

তবে এসব হার সব ব্যাংক, হিসাব বা লেনদেনের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের কার্যকর চার্জ, স্থানান্তরের সীমা এবং প্রযোজ্য শর্ত আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।

এ ছাড়া এক এমএফএস থেকে অন্য এমএফএসে টাকা পাঠানোর আন্তঃলেনদেন সুবিধা থাকলেও সেটির চার্জ ও প্রাপ্যতা নির্দিষ্ট নিয়মের ওপর নির্ভরশীল। তাই কোন পথে টাকা পাঠালে সবচেয়ে কম খরচ হবে, তা নির্ধারণের আগে চূড়ান্ত চার্জ তুলনা করা প্রয়োজন।

টাকা গ্রহণে চার্জ লাগে কি?

প্রাপ্ত গাইড অনুযায়ী, সাধারণভাবে এমএফএস হিসাবে টাকা গ্রহণের জন্য আলাদা চার্জ লাগে না। তবে টাকা গ্রহণের পর এজেন্ট থেকে নগদ উত্তোলন করলে ক্যাশ আউট চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।

এ কারণে কেউ অন্যের কাছ থেকে টাকা পাওয়ার পর তা নগদে তুলতে চাইলে শুধু সেন্ড মানির খরচ নয়, পরবর্তী ক্যাশ আউটের খরচও হিসাব করা উচিত। এতে পুরো লেনদেনে মোট কত টাকা ব্যয় হচ্ছে, তা সহজে বোঝা যাবে।

বিকাশ, নগদ ও রকেটের মধ্যে কোনটি বেছে নেবেন?

কোন এমএফএস সেবা সবচেয়ে ভালো, তার উত্তর সবার জন্য এক নয়। গ্রাহকের প্রয়োজন, এলাকার এজেন্টের প্রাপ্যতা, ব্যাংক বা এটিএম ব্যবহারের সুযোগ এবং লেনদেনের ধরন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

এজেন্ট থেকে ক্যাশ আউটের ক্ষেত্রে: প্রাপ্ত গাইডে দেওয়া হার অনুযায়ী নগদ অ্যাপ তুলনামূলক কম খরচের বিকল্প হতে পারে।

ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের এটিএম ব্যবহার করলে: রকেটের নির্ধারিত এটিএম সুবিধা সাশ্রয়ী হতে পারে, যদি উল্লিখিত হার ও শর্ত কার্যকর থাকে।

বিকাশের নিয়মিত ব্যবহারকারীদের জন্য: প্রিয় এজেন্ট সুবিধা খরচ কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে প্রযোজ্য সীমা ও চার্জ আগে যাচাই করতে হবে।

গ্রাম ও ছোট বাজারে লেনদেনের ক্ষেত্রে: যে সেবার এজেন্ট সহজে পাওয়া যায় এবং প্রয়োজনের সময় টাকা তোলা সম্ভব, সেটি ব্যবহারিকভাবে বেশি সুবিধাজনক হতে পারে। গাইডে বিকাশের বিস্তৃত এজেন্ট নেটওয়ার্কের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে: বিকাশ ও রকেটের প্রযোজ্য বিনা চার্জের সুবিধা যাচাই করে নেওয়া যেতে পারে।

এমএফএস ব্যবহারে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন যেভাবে

কম খরচে লেনদেনের পাশাপাশি আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য অসতর্কতায় ভুল নম্বরে টাকা চলে যেতে পারে অথবা প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

লেনদেন নিরাপদ রাখতে কয়েকটি বিষয় মেনে চলা উচিত—

১. টাকা পাঠানোর আগে প্রাপকের নম্বর ও প্রদর্শিত নাম মিলিয়ে নিন।

২. লেনদেন নিশ্চিত করার আগে চার্জ ও টাকার পরিমাণ যাচাই করুন।

৩. নিজের পিন বা ওটিপি অন্য কাউকে জানাবেন না। কোনো ব্যক্তি নিজেকে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা পরিচয় দিলেও এসব তথ্য শেয়ার করবেন না।

৪. অপরিচিত ব্যক্তির নির্দেশে কোনো লিংকে প্রবেশ করে গোপন তথ্য দেবেন না।

৫. ভুল নম্বরে টাকা চলে গেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন।

৬. লেনদেনের এসএমএস, ট্রানজেকশন আইডি ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করুন।

প্রাপ্ত গাইডে বিকাশের হেল্পলাইন ১৬২৪৭, নগদের ১৬১৬৭ এবং রকেটের ১৬২১৬ উল্লেখ করা হয়েছে। যোগাযোগের আগে নম্বরগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অফিসিয়াল চ্যানেলে যাচাই করে নেওয়া ভালো।

শেষ কথা

বিকাশ, নগদ ও রকেট—তিনটি সেবারই রয়েছে আলাদা সুবিধা। একটিকে সব ধরনের লেনদেনের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী বলা ঠিক হবে না। এজেন্ট থেকে টাকা তোলার ক্ষেত্রে নগদ অ্যাপ সুবিধাজনক হতে পারে, নির্ধারিত এটিএম ব্যবহারে রকেট কম খরচের সুযোগ দিতে পারে এবং বিকাশের প্রিয় এজেন্ট সুবিধা নিয়মিত ব্যবহারকারীদের ব্যয় কমাতে সাহায্য করতে পারে।

তবে চার্জ ও লেনদেনের নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই টাকা পাঠানো বা উত্তোলনের আগে সংশ্লিষ্ট অ্যাপ কিংবা ইউএসএসডি মেনুতে প্রদর্শিত চার্জ দেখে নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা বেছে নেওয়ার মাধ্যমে গ্রাহকেরা অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে পারবেন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *