সর্বশেষ প্রকাশিত পোস্টসমূহ

নতুন পে-স্কেল ২০২৬: ইনক্রিমেন্টের হিসাবেও গরমিল, ২৫ টাকা কম নির্ধারণের অভিযোগ

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিক্সেশন প্রক্রিয়ায় নতুন করে একটি অসংগতি সামনে এসেছে। এবার অভিযোগ উঠেছে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির (ইনক্রিমেন্ট) হিসাব এবং নির্ধারিত মূল বেতনের মধ্যে ২৫ টাকার পার্থক্য নিয়ে। সংশ্লিষ্ট হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ২০২৭ সালের ১ জুলাই ইনক্রিমেন্টসহ যে মূল বেতন হওয়ার কথা ২৭ হাজার ৮২৫ টাকা, পে-ফিকেশন বিবরণীতে তা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ হাজার ৮০০ টাকা।

অর্থাৎ, ইনক্রিমেন্টের হিসাব অনুযায়ী প্রাপ্য বেতনের তুলনায় ২৫ টাকা কম নির্ধারণ করা হয়েছে। বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে ছোট অঙ্কের মনে হলেও নতুন বেতন কাঠামোর ইনক্রিমেন্টের ধাপ ও বেতন নির্ধারণ পদ্ধতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করেছে।

২০২৭ সালের জুলাইয়ের বেতন হিসাব নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশিত পে-ফিকেশনসংক্রান্ত হিসাবের একটি বিবরণীতে দেখা যায়, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের পর পরবর্তী ইনক্রিমেন্টের হিসাব করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জুলাই বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) যুক্ত হওয়ার পর মূল বেতন হওয়ার কথা ২৭ হাজার ৮২৫ টাকা। কিন্তু ফিক্সেশন বিবরণীতে নির্ধারিত বেতন দেখানো হয়েছে ২৭ হাজার ৮০০ টাকা।

এখানেই তৈরি হয়েছে মূল অসংগতি। প্রত্যাশিত বেতন এবং নির্ধারিত বেতনের মধ্যে পার্থক্য দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা।

ইনক্রিমেন্টের ধাপ না মেলাই কি সমস্যার কারণ?

অভিযোগ উত্থাপনকারীর মতে, নতুন বেতন স্কেলে ইনক্রিমেন্টের হিসাব এবং বেতন নির্ধারণের ধাপের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সাধারণত বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি নির্দিষ্ট নিয়ম ও ধাপ অনুসারে নির্ধারিত হয়। ইনক্রিমেন্ট যোগ করার পর প্রাপ্ত অঙ্কটি যদি বেতন কাঠামোর নির্ধারিত কোনো ধাপের সঙ্গে না মেলে, তাহলে কোন পদ্ধতিতে পরবর্তী বেতন নির্ধারণ করা হবে, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অভিযোগ অনুযায়ী, এবার ২৭ হাজার ৮২৫ টাকার পরিবর্তে ২৭ হাজার ৮০০ টাকা নির্ধারণ করায় কর্মচারী বা কর্মকর্তার প্রাপ্য বেতনের সঙ্গে হিসাবের পার্থক্য তৈরি হয়েছে।

তবে এটি সংশ্লিষ্ট বেতন স্কেলের বিধান, ইনক্রিমেন্ট গণনার সূত্র এবং সফটওয়্যারের নির্ধারণ পদ্ধতি মিলিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।

আগের পে-স্কেলে কীভাবে সমন্বয় করা হতো?

বিষয়টি নিয়ে আগের জাতীয় বেতন স্কেলের সঙ্গে তুলনাও সামনে এসেছে।

অভিযোগকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, আগের বেতন কাঠামোয় ইনক্রিমেন্ট যোগ করার পর প্রাপ্ত অঙ্কটি নির্ধারিত ধাপের সঙ্গে না মিললে পরবর্তী উপযুক্ত ধাপে সমন্বয় করে তুলনামূলক বেশি বেতন নির্ধারণ করা হতো।

উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, ইনক্রিমেন্টসহ বেতন ২৭ হাজার ৮২৫ টাকা হলে পরবর্তী ধাপ অনুযায়ী ২৭ হাজার ৮৪০ টাকা নির্ধারণ করা হতো।

কিন্তু নতুন পে-স্কেলে একই ধরনের পরিস্থিতিতে ২৭ হাজার ৮২৫ টাকার পরিবর্তে ২৭ হাজার ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এখানে মূল প্রশ্ন হচ্ছে, নতুন বেতন কাঠামোয় ইনক্রিমেন্টের পর প্রাপ্ত বেতন নির্ধারিত ধাপের সঙ্গে না মিললে সেটি নিচের ধাপে নাকি পরবর্তী উচ্চতর ধাপে সমন্বয় করা হবে। সংশ্লিষ্ট বিধিমালায় বিষয়টি স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন।

অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রে একই সমস্যা হতে পারে?

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দাবি, এটি কেবল একজনের বেতন নির্ধারণের সমস্যা নয়। নতুন পে-স্কেলে একই ধরনের ইনক্রিমেন্ট হিসাবের কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রেও এমন পার্থক্য তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

বিশেষ করে যাঁদের বেতন ইনক্রিমেন্ট যোগ করার পর নির্ধারিত ধাপের সঙ্গে সরাসরি মেলে না, তাঁদের ক্ষেত্রে বিষয়টি যাচাই করা জরুরি।

তবে কতজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এ সমস্যায় পড়েছেন, সে বিষয়ে এখনো নির্ভরযোগ্য কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

পে-ফিকেশন সংশোধনের সময় বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন

নতুন পে-স্কেলের বেতন নির্ধারণে বিভিন্ন ধরনের অসংগতি ও সফটওয়্যারজনিত সমস্যা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে। এসব সমস্যা সমাধানে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলে ইনক্রিমেন্টের ধাপসংক্রান্ত বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি বিষয় পরিষ্কার করার দাবি উঠতে পারে—

1. ইনক্রিমেন্ট যোগ করার পর প্রাপ্ত মূল বেতন নির্ধারিত ধাপের সঙ্গে না মিললে কোন নিয়ম অনুসরণ করা হবে?

2. নির্ধারিত ধাপের চেয়ে কম বেতন নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে কি না?

3. আগের বেতন স্কেলের মতো পরবর্তী উচ্চতর ধাপে সমন্বয়ের কোনো বিধান নতুন বেতন কাঠামোয় রয়েছে কি না?

4. iBAS++ সফটওয়্যারে ইনক্রিমেন্ট ও বেতন নির্ধারণের সূত্র সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে কি না?

5. ইতোমধ্যে যাঁদের বেতন কম নির্ধারিত হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশোধনের ব্যবস্থা করা হবে কি না?

সংশোধনের আগেই অভিযোগটি যাচাই করা জরুরি

২৫ টাকার পার্থক্যকে শুধু সামান্য আর্থিক অসংগতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ এটি বেতন নির্ধারণের মূল পদ্ধতির সঙ্গে সম্পর্কিত। একই ধরনের ভুল অনেকের ক্ষেত্রে ঘটলে সম্মিলিতভাবে এর প্রভাব আরও বড় হতে পারে।

তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট জাতীয় বেতন স্কেলের বিধান, ইনক্রিমেন্টের হার, বেতন নির্ধারণের ধাপ এবং iBAS++-এর গণনা পদ্ধতি যাচাই করা প্রয়োজন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, নতুন পে-স্কেলের পে-ফিকেশন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলে ইনক্রিমেন্টের এই ২৫ টাকার পার্থক্যের বিষয়টিও যেন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়।

সবার বেতন নির্ধারণ যেন সঠিক নিয়মে হয় এবং ইনক্রিমেন্টের ক্ষেত্রে কেউ যেন প্রাপ্য বেতন থেকে বঞ্চিত না হন, সেটিই এখন সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *