সর্বশেষ প্রকাশিত পোস্টসমূহ

Govt. Leave Calendar 2026: সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার নিয়ে নিন

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। নতুন বছরের সরকারি ছুটি নির্ধারণ করে জারি করা প্রজ্ঞাপনে দেশের সব সরকারি ও আধা-সরকারি অফিস এবং সংবিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার ছুটির দিনগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় উৎসব, জাতীয় দিবস, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার জন্য বিশেষ ছুটির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৭ সালে সাধারণ ছুটি ১৫ দিন এবং নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ১৪ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য পৃথক ঐচ্ছিক ছুটির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন বছরের শুরুতেই সারা বছরের ছুটির পরিকল্পনা করতে পারবেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের প্রজ্ঞাপনে এসব ছুটির বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি চার পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে ছুটির নাম, সপ্তাহের দিন, তারিখ ও ছুটির পরিমাণ আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

২০২৭ সালের সাধারণ ছুটির তালিকা

প্রজ্ঞাপনের ‘ক’ অংশে সাধারণ ছুটির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। জাতীয় ও ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সাধারণ ছুটির আওতায় রয়েছে—

  • শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

  • ঈদুল ফিতর।

  • স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস।

  • চৈত্রসংক্রান্তি (নির্ধারিত পার্বত্য অঞ্চলের জন্য)।

  • মে দিবস।

  • বুদ্ধপূর্ণিমা।

  • ঈদুল আজহা।

  • আশুরা।

  • জন্মাষ্টমী।

  • দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী।

  • বিজয় দিবস।

  • যিশুখ্রিষ্টের জন্মদিন (বড়দিন)।

প্রজ্ঞাপনে সাধারণ ছুটির মোট পরিমাণ ১৫ দিন উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কিছু ধর্মীয় উৎসবের তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট তারিখে পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকতে পারে।

২০২৭ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের সকল সরকারি ও আধা-সরকারি অফিস এবং সংবিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাসমূহে ছুটি পালনের প্রজ্ঞাপন।

নির্বাহী আদেশে ১৪ দিন সরকারি ছুটি

সাধারণ ছুটির পাশাপাশি নির্বাহী আদেশে আরও ১৪ দিনের সরকারি ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে অতিরিক্ত ছুটি এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসের ছুটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এই তালিকায় ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে একাধিক দিনের ছুটির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নববর্ষ, ঈদে মিলাদুন্নবী, দুর্গাপূজা এবং অন্যান্য নির্ধারিত দিবসের ছুটিও রয়েছে।

বিশেষ করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার ছুটির ক্ষেত্রে উৎসবের আগে-পরে ছুটি মিলিয়ে দীর্ঘ অবকাশের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কোন দিনগুলোতে অফিস বন্ধ থাকবে, তা নির্ধারিত হয়েছে প্রজ্ঞাপনের তারিখ অনুযায়ী।

প্রজ্ঞাপনের হিসাব অনুযায়ী, সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশের ছুটি মিলিয়ে ২০২৭ সালে মোট ২৯ দিন সরকারি ছুটি নির্ধারিত হয়েছে।

সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার ২০২৭

বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জন্য ঐচ্ছিক ছুটি

২০২৭ সালের ছুটির প্রজ্ঞাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে ধর্মীয় ঐচ্ছিক ছুটির তালিকা। বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালনের জন্য এই ছুটি নিতে পারবেন।

প্রজ্ঞাপনে চারটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক তালিকা দেওয়া হয়েছে।

১. মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ঐচ্ছিক ছুটি

মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য শব-ই-মিরাজ, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা-সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত দিন, আখেরি চাহার সোম্বা, ঈদে মিলাদুন্নবী এবং শব-ই-বরাতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপলক্ষের ছুটি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

এই শ্রেণিতে মোট ৬ দিনের ঐচ্ছিক ছুটি উল্লেখ রয়েছে।

২. হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঐচ্ছিক ছুটি

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য শ্রীশ্রী সরস্বতী পূজা, শ্রীশ্রী শিবরাত্রি ব্রত, দোলযাত্রা, শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব, মহালয়া, শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা এবং অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই শ্রেণিতে মোট ৯ দিনের ঐচ্ছিক ছুটি রয়েছে।

৩. খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের ঐচ্ছিক ছুটি

খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের জন্য ইস্টার সানডে, শুভ বড়দিন-সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় অনুষ্ঠান, পুণ্য বৃহস্পতিবার, পুণ্য শুক্রবার, পুণ্য শনিবার এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপলক্ষের ছুটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এই শ্রেণিতে মোট ৮ দিনের ঐচ্ছিক ছুটি উল্লেখ করা হয়েছে।

৪. বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ঐচ্ছিক ছুটি

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য মাঘী পূর্ণিমা, চৈত্রসংক্রান্তি, বুদ্ধপূর্ণিমা, আষাঢ়ি পূর্ণিমা, মধু পূর্ণিমা এবং প্রবারণা পূর্ণিমাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই শ্রেণিতে মোট ৬ দিনের ঐচ্ছিক ছুটি রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কর্মচারীদের জন্য বিশেষ ছুটি

২০২৭ সালের ছুটির প্রজ্ঞাপনে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কর্মচারীদের জন্যও বিশেষ ছুটির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বৈসাবি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য সামাজিক উৎসব উপলক্ষে এই ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে এ ধরনের ছুটির পরিমাণ মোট ২ দিন উল্লেখ করা হয়েছে।

এটি পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নিজস্ব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব পালনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ঐচ্ছিক ছুটি নেওয়ার ক্ষেত্রে যেসব নিয়ম মানতে হবে

প্রজ্ঞাপনের শেষ পৃষ্ঠায় ঐচ্ছিক ছুটি ভোগের বিষয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

1. একজন কর্মচারী তাঁর নিজ ধর্ম অনুযায়ী বছরে অনধিক মোট ৩ দিনের ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করার অনুমতি পেতে পারেন। এ জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে।

2. কোনো কর্মচারীকে তাঁর নিজ ধর্ম অনুযায়ী নির্ধারিত ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করার অনুমতি দিতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

3. যেসব অফিসের সময়সূচি ও ছুটি নিজস্ব আইন-কানুন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় অথবা যেসব অফিস ও প্রতিষ্ঠানকে সরকার অত্যাবশ্যকীয় হিসেবে ঘোষণা করেছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অফিস, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান নিজস্ব আইন-কানুন অনুযায়ী জনস্বার্থ বিবেচনা করে ছুটি ঘোষণা করবে।

অর্থাৎ, ঐচ্ছিক ছুটি সরকারি ছুটির মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোগ করার সুযোগ নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে তা গ্রহণ করতে হবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কী কী বিষয় গুরুত্বপূর্ণ?

২০২৭ সালের ছুটির প্রজ্ঞাপন প্রকাশের ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কয়েকটি বিষয়ে আগাম পরিকল্পনা করতে পারবেন।

প্রথমত, বার্ষিক ছুটির পরিকল্পনা: সারা বছরের সরকারি ছুটির তারিখ জানা থাকায় ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কর্মসূচি নির্ধারণ করা সহজ হবে।

দ্বিতীয়ত, ঈদের ছুটির প্রস্তুতি: ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে নির্ধারিত ছুটির দিনগুলো বিবেচনায় রেখে কর্মচারীরা বাড়ি যাওয়া, ভ্রমণ এবং অন্যান্য প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

তৃতীয়ত, ধর্মীয় উৎসব পালন: বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঐচ্ছিক ছুটির পৃথক তালিকা থাকায় নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

চতুর্থত, অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা: সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম, দাপ্তরিক সময়সূচি এবং জনসেবা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য ছুটির তালিকাটি সহায়ক হবে।

এক নজরে ২০২৭ সালের সরকারি ছুটি

ছুটির ধরনছুটির পরিমাণ
সাধারণ ছুটি১৫ দিন
নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি১৪ দিন
সাধারণ ও নির্বাহী আদেশে মোট২৯ দিন
মুসলিমদের ঐচ্ছিক ছুটি৬ দিন
হিন্দুদের ঐচ্ছিক ছুটি৯ দিন
খ্রিষ্টানদের ঐচ্ছিক ছুটি৮ দিন
বৌদ্ধদের ঐচ্ছিক ছুটি৬ দিন
পার্বত্য অঞ্চলের বিশেষ ছুটি২ দিন

উৎস: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির প্রজ্ঞাপন। ঐচ্ছিক ছুটির দিনগুলো সাধারণ সরকারি ছুটির সঙ্গে যোগ করে ২৯ দিনের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

শেষ কথা

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির প্রজ্ঞাপন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বছরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নির্দেশনা। সাধারণ ছুটি, নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি এবং ধর্মীয় ঐচ্ছিক ছুটির পৃথক তালিকা প্রকাশের ফলে সারা বছরের ছুটির বিষয়ে আগাম ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

তবে সরকারি ছুটির দিনগুলো চূড়ান্তভাবে অনুসরণের ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মূল প্রজ্ঞাপনই অনুসরণ করতে হবে। বিশেষ করে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল ধর্মীয় উৎসবের তারিখ এবং নিজস্ব আইন দ্বারা পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের ছুটির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা বিবেচনায় রাখা জরুরি।

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আপনার অফিসের ছুটির তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *