অবিলম্বে পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে ১৯ জানুয়ারি শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন
অবিলম্বে নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন (গেজেট) জারির দাবিতে ফের আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট’। আন্দোলনের প্রাথমিক অংশ হিসেবে আগামী ১৯ জানুয়ারি (সোমবার) একটি সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়েছে সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই হল বরাদ্দের আবেদন জানানো হয়েছে।
জোটের শীর্ষ নেতারা জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে তারা সোচ্চার। অন্যথায় ভবিষ্যতে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
সংবাদ সম্মেলনের প্রেক্ষাপট ও দাবি
সংগঠনটির সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী জানান, নির্বাচনের আগেই নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ করা জরুরি। তিনি বলেন, “পে-কমিশন তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করার পর্যায়ে রয়েছে। আমরা চাই সরকার কালক্ষেপণ না করে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করুক। আমাদের দাবি আদায় না হলে আমরা মাঠ পর্যায়ের কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো।”
শিক্ষকদের প্রধান দাবিগুলো হলো:
অবিলম্বে নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি।
শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের রোডম্যাপ ঘোষণা।
আসন্ন কর্মসূচি
সূত্রমতে, ১৯ জানুয়ারির সংবাদ সম্মেলন থেকে সারা দেশে একযোগে মানববন্ধন, জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান এবং প্রয়োজনে লাগাতার কর্মবিরতির মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। ইতোমধ্যে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষক নেতাদের সংবাদ সম্মেলনের পর পরবর্তী নির্দেশনার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরেই বাড়ি ভাড়া ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা রাজপথে আন্দোলন করে আসছেন। সরকারের পক্ষ থেকে কিছু দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হলেও ‘পে-স্কেল’ নিয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় শিক্ষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সকল জোট সমন্বিতভাবে আন্দোলনে যাচ্ছে?
হ্যাঁ, এবার সকল জোট ও সংগঠনকে একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্মে এনে সমন্বিতভাবে আন্দোলনে যাওয়ার জোর প্রস্তুতি চলছে।
আপনার দেয়া চিঠিতে স্পষ্টভাবে ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট’-এর নাম উল্লেখ আছে, যা মূলত কয়েকটি ছোট-বড় সংগঠনের একটি মোর্চা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাদের এই সমন্বিত আন্দোলনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে তুলে ধরা হলো:
সমন্বিত আন্দোলনের মূল লক্ষ্যসমূহ
একক দাবি: আলাদা আলাদা দাবি না তুলে এখন সবাই মূলত ‘অবিলম্বে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন’ এবং ‘জাতীয়করণ’—এই দুটি বড় দাবিকে সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।
শক্তি প্রদর্শন: বিচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন করলে সরকারের ওপর চাপ তৈরি করা কঠিন হয়, তাই শিক্ষক নেতারা মনে করছেন সকল জোট মিলে ১৯ তারিখের সংবাদ সম্মেলন থেকে বড় শক্তির জানান দেওয়া সম্ভব হবে।
নেতৃত্বের ঐক্য: চিঠিতে দেখা যাচ্ছে, জোটের আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিবরা বিভিন্ন উপ-সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তারা সাধারণ শিক্ষকদের স্বার্থে নিজেদের ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন।
জোটের বর্তমান অবস্থা (বিশ্লেষণ)
১. সমন্বয় সভা: ১৯ জানুয়ারির সংবাদ সম্মেলনের আগে তারা একাধিক সমন্বয় সভা করেছেন যাতে কোনো গ্রুপ বাদ না পড়ে। ২. হল বরাদ্দ: ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (DRU) বা জাতীয় প্রেস ক্লাবে হল বরাদ্দের আবেদনটিও জোটগতভাবেই করা হয়েছে। ৩. তৃণমূলের চাপ: সারা দেশের সাধারণ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পক্ষ থেকে নেতৃত্বের ওপর চাপ রয়েছে যেন সবাই মিলে রাজপথে নামে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: যদিও বেশিরভাগ মূলধারার সংগঠন এই জোটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তবে রাজনৈতিক বা আদর্শিক কারণে ছোটখাটো কিছু গ্রুপ এখনো পর্যবেক্ষণ পর্যায়ে থাকতে পারে। তবে ১৯ তারিখের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতির সংখ্যাই বলে দেবে জোটটি কতটা শক্তিশালী রূপ নিয়েছে।



