সাংবাদিকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে ইসির বিশেষ পরিপত্র: ভোটকেন্দ্রে অবাধ যাতায়াত ও নিরাপত্তার নির্দেশ
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ইসি সচিবালয় থেকে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। পরিপত্রে ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে বাধা না দিতে এবং তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সংগ্রহে ইসির মূল নির্দেশনাসমূহ
নির্বাচন কমিশনের জারি করা বিশেষ পরিপত্র অনুযায়ী, বৈধ কার্ডধারী সাংবাদিকরা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে সংবাদ সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে ভোটগ্রহণের শৃঙ্খলা রক্ষায় কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে:
সহযোগিতা প্রদান: প্রিজাইডিং অফিসাররা ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন। তবে কেন্দ্রের ভেতরের স্থান সংকুলান বিবেচনায় নিয়ে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে।
সীমিত প্রবেশাধিকার: একসাথে একটি বুথে দুইজনের বেশি সাংবাদিক প্রবেশ করতে পারবেন না এবং সেখানে ১০ মিনিটের বেশি অবস্থান করা যাবে না।
লাইভ সম্প্রচার: ভোটকেন্দ্রের গোপন কক্ষ (যেখানে ভোটার ভোট দেন) থেকে কোনোভাবেই সরাসরি সম্প্রচার বা লাইভ করা যাবে না। তবে কেন্দ্রের নিরাপদ দূরত্ব থেকে লাইভ করা যাবে।
সাক্ষাৎকার নিষিদ্ধ: ভোটকক্ষের ভেতরে নির্বাচনি কর্মকর্তা, পোলিং এজেন্ট বা ভোটারদের কোনো সাক্ষাৎকার নেওয়া যাবে না।
নিরাপত্তা ও পরিচয়পত্র ইস্যু
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সাংবাদিকদের জন্য ইতিমধ্যে অনলাইন পোর্টালে (pr.ecs.gov.bd) আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা চলবে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। সঠিক যাচাই-বাছাই শেষে সাংবাদিকদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র এবং গাড়ির স্টিকার প্রদান করা হবে।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “ভোটকেন্দ্রে কোনো বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেই। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে এ বিষয়ে ব্রিফ করা হয়েছে।”
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যম
ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা ঢাকায় অবস্থান করছেন। বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য বিমানবন্দরে হেল্প ডেস্ক এবং রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে মিডিয়া সেন্টার খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে জানানো হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন থাকবে। ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় বলবৎ থাকবে।
নির্বাচন কমিশন আশা করছে, সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশবাসীকে উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।
সাংবাদিকগণ কি ক্যামেরা নিয়ে ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে পারবেন?
হ্যাঁ, সাংবাদিকগণ ক্যামেরা নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে:
১. ভোটকক্ষে প্রবেশ: সাংবাদিকগণ প্রিজাইডিং অফিসারের অনুমতি নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে ভোটকক্ষে (যেখানে ভোট দেওয়া হয়) একসাথে ২ জনের বেশি সাংবাদিক প্রবেশ করতে পারবেন না।
২. লাইভ বা সরাসরি সম্প্রচার: ভোটকেন্দ্রের ভেতর থেকে সরাসরি বা লাইভ সম্প্রচার করা যাবে না। তবে ভোটকেন্দ্রের নিরাপদ দূরত্ব থেকে লাইভ করা সম্ভব।
৩. গোপন কক্ষের ছবি তোলা নিষিদ্ধ: ভোটার যেখানে ভোট দেন অর্থাৎ ‘গোপন কক্ষের’ কোনো ছবি তোলা বা ভিডিও করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৪. অবস্থানের সময়সীমা: সাংবাদিকগণ ভোটকক্ষের ভেতরে ১০ মিনিটের বেশি অবস্থান করতে পারবেন না।
৫. সাক্ষাৎকার গ্রহণ: ভোটকক্ষের ভেতরে নির্বাচনি কর্মকর্তা, পোলিং এজেন্ট বা ভোটারদের সাক্ষাৎকার নেওয়া যাবে না।
৬. পরিচয়পত্র: অবশ্যই নির্বাচন কমিশন থেকে ইস্যুকৃত বৈধ সাংবাদিক পরিচয়পত্র এবং ক্যামেরা ও যানবাহনের জন্য প্রয়োজনীয় স্টিকার দৃশ্যমান অবস্থায় রাখতে হবে।
মূলত নির্বাচনের পবিত্রতা এবং গোপনীয়তা রক্ষা করেই সাংবাদিকদের তথ্য ও ছবি সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।



