সরকারি অর্থে অনিয়ম: অডিট আপত্তির দায়ভার এখন সুনির্দিষ্ট, গুনতে হবে জরিমানা
সরকারি প্রকল্পের অর্থ ব্যয় বা সাধারণ বিল পরিশোধে যেকোনো প্রকার আর্থিক অনিয়ম বা অডিট আপত্তির ক্ষেত্রে এখন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরাসরি দায়বদ্ধ করা হচ্ছে। কেবল প্রতিষ্ঠানের প্রধান নয়, বরং বিল প্রস্তুতকারী থেকে শুরু করে অনুমোদনকারী এবং বিল যাচাইকারী—প্রত্যেককেই এই দায়ভার বহন করতে হবে। সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে ব্যক্তিগতভাবে অর্থ ফেরতসহ বিভাগীয় ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে সংশ্লিষ্টদের।
দায়ভার যাদের ওপর বর্তাবে
অডিট অধিদপ্তর এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, অডিট আপত্তির দায়ভার মূলত পাঁচ ধরনের ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায়:
বিল অনুমোদনকারী (Sanctioning Authority): অনিয়মিত বা বিধিবহির্ভূত কোনো বিল যিনি স্বাক্ষর বা অনুমোদন করেছেন, প্রধান দায়ভার তার ওপর থাকবে।
ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার (DDO): বিলটি উপস্থাপন এবং অর্থ ছাড়ের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য ডিডিও সরাসরি দায়ী থাকবেন।
প্রকল্প পরিচালক (PD) বা বিভাগীয় প্রধান: সামগ্রিক আর্থিক অনিয়মের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্তাব্যক্তি হিসেবে তিনি দায় এড়াতে পারবেন না।
বিল প্রস্তুতকারী ও যাচাইকারী: বিল প্রসেসিং বা ভেরিফিকেশনের সময় যারা নথিপত্র পরীক্ষা করেন, তাদের ভুল বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদেরও অভিযুক্ত করা হবে।
ঠিকাদার বা সরবরাহকারী: যদি কোনো ঠিকাদার ভুলবশত বা যোগসাজশে অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করেন, তবে সেই অর্থ তাদের থেকে আদায় করা হবে।
যেসব কারণে মূলত আপত্তি আসে
তথ্যাদি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অধিকাংশ অডিট আপত্তি ওঠে মূলত চারটি সাধারণ ভুলের কারণে: ১. উৎস মূলে ভ্যাট বা ট্যাক্স (VAT/Tax) কর্তন না করা। ২. অনুমোদিত প্রাক্কলনের (Estimate) বাইরে অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করা। ৩. চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন হওয়া সত্ত্বেও বিলম্ব জরিমানা (LD) আদায় না করা। ৪. সরকারি মালামালের যথাযথ ব্যবহার না করে আর্থিক ক্ষতিসাধন করা।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: অডিট আপত্তি উঠলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দালিলিক প্রমাণসহ জবাব দিতে হয়। জবাব সন্তোষজনক না হলে ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া বাধ্যতামূলক।
প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থা
সরকারের নতুন কড়াকড়ি অনুযায়ী, অডিট আপত্তির অর্থ আদায় না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পেনশন সুবিধা, পদোন্নতি বা লিয়েন গ্রহণের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এমনকি বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও বিধান রয়েছে।



