নগদ ক্রয়ে নতুন নীতিমালা ২০২৬ । পিপিআর-২০২৫ অনুযায়ী ব্যয়ের সীমা পুনর্নির্ধারণ ৪০,০০০ টাকায় উন্নীত?
সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) ২০২৫-এর বিধি ১০০(১) অনুযায়ী নগদ ক্রয়ের (Cash Purchase) ক্ষেত্রে ব্যয়ের নতুন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের মাধ্যমে এই নতুন নিয়মাবলী কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন এই নীতিমালায় পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় বিভিন্ন পর্যায়ের দপ্তরের জন্য আলাদা আলাদা ব্যয়ের ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিচালন বাজেটের আওতায় নগদ ক্রয়: পরিচালন বাজেটের ক্ষেত্রে সরকারি দপ্তরের স্তরভেদে ক্রয়ের সীমা ভিন্ন রাখা হয়েছে: ১. সদর দপ্তর: মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর বা সংস্থার সদর দপ্তরের ক্ষেত্রে প্রতিবার ক্রয়ের ক্ষেত্রে অনধিক ৭৫,০০০ (পঁচাত্তর হাজার) টাকা এবং বছরে সর্বমোট ২৫ (পঁচিশ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত নগদ ক্রয় করা যাবে। ২. বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়: বিভাগীয় বা আঞ্চলিক এবং জেলা পর্যায়ের দপ্তরের জন্য প্রতি ক্রয়ের সীমা অনধিক ৬০,০০০ (ষাট হাজার) টাকা এবং বার্ষিক সীমা ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা। ৩. উপজেলা পর্যায়: উপজেলা পর্যায়ের দপ্তরের ক্ষেত্রে প্রতিবার ক্রয়ের সীমা অনধিক ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার) টাকা এবং বছরে অনধিক ১৫ (পনেরো) লক্ষ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উন্নয়ন বাজেটের আওতায় নগদ ক্রয়: উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিত করতে প্রকল্পের শ্রেণিভেদে ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে: ১. সদর দপ্তর (মন্ত্রণালয়/অধিদপ্তর): প্রতি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ৭৫,০০০ টাকা এবং বছরে সর্বোচ্চ ২৫ লক্ষ টাকা। ২. ‘ক’-শ্রেণির প্রকল্প পরিচালক: প্রতি ক্রয়ের ক্ষেত্রে অনধিক ৫০,০০০ টাকা এবং বছরে সর্বোচ্চ ২০ লক্ষ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। ৩. ‘খ’-শ্রেণির প্রকল্প পরিচালক: প্রতি ক্রয়ের ক্ষেত্রে অনধিক ৪০,০০০ টাকা এবং বছরে সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ টাকা। ৪. ‘গ’-শ্রেণির প্রকল্প পরিচালক: এই শ্রেণির প্রকল্প পরিচালকদের জন্য প্রতি ক্রয়ের সীমা ৩০,০০০ টাকা এবং বার্ষিক সীমা ১০ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: আপনার প্রেরিত টেক্সট-এ “প্রতি ক্রয়ের” স্থানে ভুলবশত “প্রতি ছাত্রের” শব্দটি এসেছে। গেজেটের মূল কপি (ছবি) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে এটি হবে “প্রতি ক্রয়ের ক্ষেত্রে অনধিক…”।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নতুন সীমার ফলে সরকারি দপ্তরের ছোটখাটো ও জরুরি কেনাকাটায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস পাবে এবং কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে। তবে নগদ ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে যথাযথ ভাউচার ও বিধিবিধান অনুসরণ বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে।




