সরকারি চাকরিজীবীদের ৯ম পে-স্কেল: ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ
দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ৯ম পে-স্কেল সংক্রান্ত সর্বশেষ সুপারিশ। নবম জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি—এই তিন কমিশনের প্রতিবেদনের আলোকে পুনর্গঠিত কমিটি নতুন বেতন কাঠামোটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করেছে। বিশাল অংকের আর্থিক সংশ্লিষ্টতা বিবেচনায় নিয়ে একবারে কার্যকর না করে পর্যায়ক্রমে এটি চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনের মূল সুপারিশসমূহ
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতি বিবেচনা করে বেতন ও ভাতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে:
বেতন বৃদ্ধি: সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১,৬০,০০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
বেতন বৈষম্য হ্রাস: সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত ১:৮ নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে নিম্নবর্গের কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা তুলনামূলক বেশি বৃদ্ধি পায়।
ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন: বিশাল বাজেটের চাপ কমাতে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আংশিক এবং পরবর্তী অর্থবছর (২০২৬-২৭) থেকে পূর্ণাঙ্গ স্কেল বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।
ভাতা পুনর্গঠন: মূল বেতনের পাশাপাশি চিকিৎসা, যাতায়াত এবং বাড়ি ভাড়া ভাতায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির সুপারিশ রয়েছে।
আর্থিক সংশ্লেষ ও বাজেট পরিকল্পনা
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৯ম পে-স্কেল পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সরকারের বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৭০,০০০ থেকে ৮০,০০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এই বিশাল ব্যয় সামাল দিতে ২০২৫-২৬ সংশোধিত বাজেট ও আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় বাড়ানো হয়েছে, যার একটি অংশ নতুন বেতন কাঠামোর প্রাথমিক ধাপের জন্য রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন সরকারের হাতে
বেতন কমিশনের এই প্রতিবেদনটি ইতিমধ্যে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পুনর্গঠিত কমিটি প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক ও রাষ্ট্রীয় কোষাগারের সক্ষমতা যাচাই করছে। আগামী মন্ত্রিসভা বা উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
চাকরিজীবীদের প্রতিক্রিয়া ও প্রত্যাশা
এদিকে বেতন কমিশনের প্রতিবেদন দাখিলের পর থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সাথে পাল্লা দিতে দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন কর্মচারী নেতারা। তাদের মতে, ২০১৫ সালের পর দীর্ঘ ১২ বছর অতিক্রান্ত হওয়ায় বর্তমান বেতন কাঠামোতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরকার যদি সুপারিশটি অনুমোদন করে, তবে জুলাই ২০২৬ থেকে দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ পেনশনভোগীরাও এই সুফল পাবেন।
এক নজরে ৯ম পে-স্কেল (প্রস্তাবিত):
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা (২০১৫) | প্রস্তাবিত (২০২৬) |
| সর্বনিম্ন মূল বেতন | ৮,২৫০ টাকা | ২০,০০০ টাকা |
| সর্বোচ্চ মূল বেতন | ৭৮,০০০ টাকা | ১,৬০,০০০ টাকা |
| গ্রেড সংখ্যা | ২০টি | ২০টি (বহাল) |
| বাস্তবায়ন শুরু | – | ধাপে ধাপে (২০২৬ থেকে) |



