শাস্তি । সাময়িক বরখাস্ত । অপসারণ

অফিসে উপস্থিতি নিয়ে কড়া বার্তা ২০২৬ । সরকারি কর্মচারীদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা?

সরকারি কাজে গতিশীলতা আনয়ন এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি জরুরি চিঠি সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনার মূল বিষয়সমূহ

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংস্থাপন অধিশাখার উপসচিব খন্দকার মনোয়ার মোর্শেদ স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে দুটি প্রধান বিধিমালার কথা উল্লেখ করা হয়েছে: ১. সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯ ২. সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪ (নির্দেশ নম্বর ৮৬)

চিঠিতে বলা হয়েছে, উল্লিখিত বিধিমালা অনুযায়ী সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিতি এবং অফিস ত্যাগ করা বাধ্যতামূলক। কোনোভাবেই এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না।

মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর বার্তা

বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য এই নির্দেশনায় আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে:

  • মাঠ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী সাপ্তাহিক ছুটি বা অন্য যেকোনো ছুটির দিনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া তাদের কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না।

  • নিজ নিজ দপ্তর বা সংস্থার প্রধানদের নিশ্চিত করতে হবে যেন তাদের অধীনস্থ কর্মীরা এই নিয়ম যথাযথভাবে মেনে চলেন।

আইন মন্ত্রণালয়ের পৃথক অফিস আদেশ

এর আগে গতকাল সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকেও একই ধরনের একটি কঠোর অফিস আদেশ জারি করা হয়েছিল। সেখানে জানানো হয়েছে:

  • সকাল ৯টার মধ্যে অবশ্যই অফিসে উপস্থিত হতে হবে।

  • বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিতি, দেরিতে আগমন বা নির্ধারিত সময়ের আগে অফিস ত্যাগ করাকে দণ্ডণীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

  • রমজান মাসে বিকেল ৩:৩০ মিনিট এবং রমজান পরবর্তী সময়ে বিকেল ৫:০০ টার আগে কোনোভাবেই অফিস ত্যাগ করা যাবে না। জরুরি প্রয়োজনে অফিস ত্যাগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগীয় প্রধানের (যুগ্ম সচিব বা সলিসিটর) অনুমতি নিয়ে ‘মুভমেন্ট রেজিস্টারে’ তা লিপিবদ্ধ করতে হবে।

কেন এই কড়াকড়ি?

প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি সরকারি দপ্তরগুলোতে উপস্থিতির ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে অনেক কর্মকর্তা ছুটির দিনে অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থল ত্যাগ করে থাকেন, যা জরুরি সময়ে সেবাপ্রাপ্তিতে বিঘ্ন ঘটায়। সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনসেবা নিশ্চিত করতেই এই পুরোনো বিধিমালার কঠোর প্রয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এই আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙখলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

সরকারি কর্মচারী (শৃঙখলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ মোতাবেক অনুপস্থিত থাকলে কি শাস্তি?

সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা বা যথাযথ কারণ ছাড়া অফিস ত্যাগ করাকে ‘অসদাচরণ’ (Misconduct) হিসেবে গণ্য করা হয়। এই বিধিমালার অধীনে দোষী সাব্যস্ত হলে অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী দুই ধরনের দণ্ড বা শাস্তির বিধান রয়েছে:


১. লঘু দণ্ড (Minor Penalties)

সাধারণত উপস্থিতির ক্ষেত্রে প্রথম দিকের বা কম গুরুতর অপরাধের জন্য এই শাস্তিগুলো দেওয়া হয়:

  • তিরস্কার: লিখিতভাবে সতর্ক করা।

  • পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিত: নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পদোন্নতি বা ইনক্রিমেন্ট আটকে দেওয়া।

  • আর্থিক ক্ষতি আদায়: অনুপস্থিতির কারণে সরকারের কোনো আর্থিক ক্ষতি হলে তা বেতন থেকে কেটে নেওয়া।

  • বেতন গ্রেড অবনমিতকরণ: নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিচের বেতন স্কেলে নামিয়ে দেওয়া।

২. গুরু দণ্ড (Major Penalties)

যদি অনুপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদী হয় বা বারবার সতর্ক করার পরেও অভ্যাস পরিবর্তন না হয়, তবে এই কঠোর শাস্তিগুলো হতে পারে:

  • নিম্ন পদে অবনমিতকরণ: পদমর্যাদা কমিয়ে দেওয়া (Demotion)।

  • অনিচ্ছাকৃত অবসর: চাকরির বয়স থাকতেই বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো।

  • চাকরি হতে অপসারণ: চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া (তবে এক্ষেত্রে অন্য চাকরিতে যোগদানের সুযোগ থাকে)।

  • চাকরি হতে বরখাস্ত: এটি সবচেয়ে কঠোর শাস্তি। এর ফলে ভবিষ্যতে আর কোনো সরকারি চাকরিতে যোগদানের সুযোগ থাকে না।


বিশেষ দ্রষ্টব্য:

বিভাগীয় মামলা রুজু হওয়ার পর যদি দেখা যায় যে, কোনো কর্মচারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন এবং এর ফলে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হয়েছে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে উপরের যেকোনো একটি দণ্ড কার্যকর করা হতে পারে। সাধারণত বিধিমালা ৩(খ) ধারা অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: আপনার দেওয়া পত্রে উল্লিখিত ‘সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯’ অনুযায়ী, বিনা অনুমতিতে একদিন অনুপস্থিত থাকলে একদিনের মূল বেতন কাটার বিধানও রয়েছে। আর ৩০ দিনের মধ্যে যদি কেউ একাধিকবার অনুমতি ছাড়া দেরিতে উপস্থিত হন, তবে তার একদিনের মূল বেতন কাটা যায়।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *