এস্টাবলিশমেন্ট ম্যানুয়াল খন্ড-২ । সরকারি চাকরিতে বেতন ও সুযোগ-সুবিধার নতুন বিন্যাস সম্পর্কে জানুন
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ আদেশ ও বিধিবিধানের সংকলন ‘এস্টাবলিশমেন্ট ম্যানুয়াল ভলিউম-২’ পর্যালোচনা করে সরকারি কর্মচারীদের বেতন স্কেল, পদোন্নতি এবং সুযোগ-সুবিধার একটি বিস্তারিত চিত্র পাওয়া গেছে । এই দলিলে প্রধানত ২০০৯ সালের জাতীয় বেতন স্কেল এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রশাসনিক নির্দেশনার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে ।
জাতীয় বেতনস্কেল ২০০৯ এবং বেতন নির্ধারণ প্রক্রিয়া ২০০৯ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া এই বেতন স্কেলে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনা হয় । উদাহরণস্বরূপ, ১ম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ২৩,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০,০০০ টাকা করা হয়েছিল । এছাড়া ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন বেতন ২,৪০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৪,১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয় । এই আদেশ অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ১ জুলাই থেকে প্রচলিত মহার্ঘ ভাতা বিলুপ্ত করা হয় ।
বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ শর্ত ছিল যে, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ কোনোভাবেই ২,০০০ টাকার কম হবে না । যদি কারো মূল বেতন নির্ধারণের পর বৃদ্ধির পরিমাণ ২,০০০ টাকার কম হয়, তবে অবশিষ্ট অংশ ব্যক্তিগত বেতন (Personal Pay) হিসেবে প্রদান করার বিধান রাখা হয়েছে ।
টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড নন-গেজেটেড সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে (১০ম থেকে ২০তম গ্রেড) সন্তোষজনক চাকরির ভিত্তিতে ৮, ১২ ও ১৫ বছর পূর্তিতে যথাক্রমে ১ম, ২য় ও ৩য় টাইমস্কেল প্রদানের নিয়ম রয়েছে । তবে একজন কর্মচারী সমগ্র চাকরি জীবনে ৩টির বেশি টাইমস্কেল পাবেন না । অন্যদিকে, দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ৮ ও ১২ বছর পূর্তিতে সর্বোচ্চ ২টি টাইমস্কেল প্রদানের সুযোগ রাখা হয়েছে ।
পেনশন ও গ্র্যাচুইটি সুবিধা অবসরভোগীদের জন্য এই ম্যানুয়ালে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার উল্লেখ রয়েছে। ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে অবসরভোগী কর্মকর্তাদের নীট পেনশনের পরিমাণ ৫০% এবং অন্যদের ক্ষেত্রে ৪০% বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে । এছাড়া, পিআরএল (LPR) বা অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে থাকাকালীন একজন কর্মচারী পূর্ণ গড় বেতনে ১২ মাস পর্যন্ত ছুটির সুবিধা এবং ছুটি নগদায়নের সুযোগ পাবেন ।
সচিবালয়ে প্রবেশ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও কাজের পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে দর্শকদের প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, এবং বিশেষ পাশধারী ব্যক্তিগণ ব্যতীত অন্যদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে । এছাড়াও সরকারি কাজে গতিশীলতা আনতে ডিজিটাল পদ্ধতির নথি নম্বর এবং ওয়েবসাইট ব্যবহারের নির্দেশনাও এই ম্যানুয়ালে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ।
অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ম্যানুয়ালটিতে কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা অনুযায়ী আসবাবপত্র, স্টেশনারি এবং ক্রোকারিজ ব্যবহারের সীমাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। যেমন—সচিব, অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম-সচিবদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক চা-সেট, প্লেট ও চামচ বরাদ্দের তালিকা দেওয়া হয়েছে । এছাড়াও সরকারি যানবাহন ব্যবহার এবং প্রকল্প সমাপ্তির পর যানবাহন জমা দেওয়ার বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে ।
সরকারি প্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং কর্মচারীদের অধিকার নিশ্চিত করতে এই ম্যানুয়ালটি একটি অপরিহার্য নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করছে ।
| ক্রমিক নং | বিষয়বস্তু | ডাউনলোড | বিস্তারিত |
| ০১। | এস্টাব্লিশমেন্ট ম্যানুয়েল (ভলিউম-১) | ডাউনলোড | |
| ০২। | এস্টাব্লিশমেন্ট ম্যানুয়েল (ভলিউম-২) | ডাউনলোড | |
| ০৩। | এস্টাব্লিশমেন্ট ম্যানুয়েল (ভলিউম-৩) | ইনডেক্স ও ০০১-৩০৪ পৃষ্ঠা | ৩০৫-৭০৩ পৃষ্ঠা |
| ০৪। | এস্টাব্লিশমেন্ট ম্যানুয়েল (ভলিউম-৪) | কভার ও ইনডেক্স | ০০১-৩৫৩ পৃষ্ঠা |
লিংক কাজ না করলে এখান থেকে ডাউনলোড করুন



