পে-স্কেল I গেজেট । প্রজ্ঞাপন । পরিপত্র

বিসিএস কর্মকর্তাদের পদোন্নতির বিধান: বিধিমালা ও বর্তমান চর্চার আদ্যোপান্ত

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৯৮১ সালের নিয়োগ বিধিমালা একটি প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। সরকারের এই বিধিমালা অনুযায়ী, একজন ক্যাডার কর্মকর্তার উচ্চতর স্কেলে পদোন্নতির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা, প্রশিক্ষণ এবং বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। সম্প্রতি এই বিধিমালার বিভিন্ন ধারা ও উপধারা বিশ্লেষণে কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুনির্দিষ্ট রূপরেখা পাওয়া গেছে।

পদোন্নতির মূল শর্ত ও বেতন স্কেল

বিধিমালার ৫ নং বিধি অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে ‘সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড’ (SSB) এবং ‘বিভাগীয় পদোন্নতি বোর্ড’ (DPC)-এর সুপারিশ অত্যাবশ্যক । বর্তমানে প্রচলিত চর্চা অনুযায়ী:

  • ৬ষ্ঠ গ্রেড (সিনিয়র স্কেল): ২০০৯ সালের স্কেল অনুযায়ী ১৮,৫০০-২৯,৭০০/- টাকা (বর্তমান ৬ষ্ঠ গ্রেড) পদের পদোন্নতির জন্য কমিশন (PSC) কর্তৃক গৃহীত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং বিভাগীয় পদোন্নতি বোর্ড কর্তৃক যোগ্য বিবেচিত হওয়া বাধ্যতামূলক

  • উচ্চতর পদ: জাতীয় বেতন স্কেলের ২৯,০০০-৩৫,৬০০/- টাকা ও তদুর্ধ্ব স্কেলের (উপসচিব ও তদুর্ধ্ব) পদের জন্য সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের সুপারিশ ছাড়া পদোন্নতি সম্ভব নয়

স্থায়ীকরণ ও প্রশিক্ষণের গুরুত্ব

পদোন্নতির পূর্বশর্ত হিসেবে চাকরিতে স্থায়ীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিধি ৭ অনুযায়ী, স্থায়ীকরণের জন্য প্রতিটি কর্মকর্তাকে: ১. বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (BPATC) কমপক্ষে চার মাসের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে । ২. সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের জন্য নির্ধারিত পেশাভিত্তিক এবং বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে । ৩. নির্ধারিত বিভাগীয় পরীক্ষায় (Departmental Exam) উত্তীর্ণ হতে হবে

বয়সভিত্তিক বিশেষ শিথিলতা

বিধিমালার ৮ নং বিধিতে পদোন্নতি ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে কিছু ক্ষেত্রে বয়স শিথিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। যেমন:

  • কোনো কর্মকর্তার বয়স ৫০ বছর পূর্ণ হলে, তিনি ৫(বি) অনুচ্ছেদের শর্ত (পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া) থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন

  • আবার, যাদের বয়স চাকরিতে স্থায়ী হওয়ার পূর্বেই বা শিক্ষানবিশ থাকাকালে ৫০ বছর পূর্ণ হয়, তাদের ক্ষেত্রে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ ও বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা থাকে না

শিক্ষানবিশকাল ও স্থায়ীকরণের সময়সীমা

সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য শিক্ষানবিশকাল দুই বছর এবং পদোন্নতিপ্রাপ্তদের জন্য এক বছর নির্ধারিত এই সময়কালে সন্তোষজনক আচরণ ও কর্ম সম্পাদন না করলে সরাসরি নিয়োগকৃতদের চাকরি অবসান এবং পদোন্নতিপ্রাপ্তদের পূর্বের পদে ফেরত পাঠানো হতে পারে তবে সকল শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নিয়োগের তারিখ থেকেই স্থায়ীকরণ কার্যকর করার বিধান রয়েছে

কর্মকর্তাদের জন্য সতর্কবার্তা: বন্ড প্রদান

সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য একটি বিশেষ বিধান হলো বন্ড প্রদান। প্রশিক্ষণ গ্রহণের পূর্বে একজন জামিনদারসহ এই মর্মে বন্ড দিতে হয় যে, শিক্ষানবিশ থাকাকালে বা পরবর্তী তিন বছরের মধ্যে পদত্যাগ করলে সরকার নির্ধারিত প্রশিক্ষণ ব্যয় এবং বেতন-ভাতা ফেরত দিতে হবে পদত্যাগ না করে কর্মে অনুপস্থিত থাকলে তা ‘স্বেচ্ছায় কর্ম ত্যাগ’ হিসেবে গণ্য হবে এবং পাওনা অর্থ সরকারি পাওনা হিসেবে আদায় করা হবে

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন, বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বজায় রাখতে ১৯৮১ সালের এই বিধিমালার যথাযথ অনুসরণ অপরিহার্য।

সোর্স

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *