৫২ বছর বয়সে জিপিএফ-এর ৮০% টাকা অফেরতযোগ্য উত্তোলনের সুযোগ: জেনে নিন বিস্তারিত
সরকারি কর্মচারীদের জন্য অত্যন্ত স্বস্তির একটি খবর হলো সাধারণ ভবিষ্য তহবিল (GPF) বিধিমালা। সাধারণত অবসরের আগে জিপিএফ থেকে টাকা তুললে তা কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয়, যাকে আমরা ‘ফেরতযোগ্য অগ্রিম’ বলে জানি। তবে বিধিমালায় এমন কিছু বিশেষ ধারা রয়েছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছালে জিপিএফ-এর বড় একটি অংশ এককালীন তুলে নেওয়া যায় এবং তা আর কোনোদিন পরিশোধ করতে হয় না।
অফেরতযোগ্য অগ্রিম কী?
সাধারণ ভবিষ্য তহবিল বিধিমালা, ১৯৭৯-এর আলোকে কোনো সরকারি কর্মচারী যখন নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছান, তখন তিনি জিপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা থাকা টাকার একটি বড় অংশ স্থায়ীভাবে বা ‘অফেরতযোগ্য’ (Non-Refundable) হিসেবে উত্তোলন করতে পারেন। এই টাকা কোনো কিস্তিতে ফেরত দিতে হয় না এবং এটি চূড়ান্ত অবসরের সময় প্রাপ্য মোট টাকা থেকে সমন্বয় করা হয়।
৫২ বছর বয়সে বিশেষ সুবিধা (বিধি ১৩-এর ৯ ও ১০)
বিধিমালা অনুযায়ী, একজন সরকারি কর্মচারীর বয়স ৫২ বছর পূর্ণ হলে তিনি নিচের সুবিধাগুলো ভোগ করতে পারবেন:
৮০% পর্যন্ত উত্তোলন: জমার ৮০% পর্যন্ত টাকা অফেরতযোগ্য অগ্রিম হিসেবে এককালীন উত্তোলন করা যাবে।
একাধিকবার উত্তোলনের সুযোগ: এই সুবিধা কেবল একবারের জন্য নয়। ৫২ বছর বয়সের পর একজন কর্মচারী চাইলে একাধিকবার এই অগ্রিম নিতে পারেন, তবে শর্ত হলো প্রতিবার উত্তোলনের সময় অ্যাকাউন্টে অবশিষ্ট জমার ৮০% এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।
অপরিবর্তিত ঋণকে অফেরতযোগ্য করা: যদি ৫২ বছর বয়স হওয়ার আগে কেউ সাধারণ কিস্তিতে টাকা তুলে থাকেন এবং সেই ঋণের কিছু অংশ এখনো অপরিশোধিত থাকে, তবে তিনি আবেদন করে ওই অবশিষ্ট অংশকে ‘অফেরতযোগ্য’ অগ্রিমে রূপান্তর করতে পারবেন। অর্থাৎ, ওই টাকা আর কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে না।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি
| বিষয় | বিবরণ |
| বয়সসীমা | ৫২ বছর পূর্ণ হতে হবে। |
| উত্তোলনের হার | মোট জমার সর্বোচ্চ ৮০%। |
| পরিশোধযোগ্যতা | অফেরতযোগ্য (কিস্তি দিতে হবে না)। |
| আইনি ভিত্তি | সাধারণ ভবিষ্য তহবিল বিধিমালা, ১৯৭৯-এর বিধি ১৩(৯) ও ১৩(১০)। |
| প্রভাব | এটি চূড়ান্ত উত্তোলনের (Final Payment) অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। |
কেন এই সুবিধাটি গুরুত্বপূর্ণ?
অনেকেরই ৫২ বছর বয়সে ছেলে-মেয়ের উচ্চশিক্ষা, বিয়ে বা নিজের স্থায়ী আবাসনের জন্য বড় অংকের অর্থের প্রয়োজন হয়। এই অফেরতযোগ্য অগ্রিমের ফলে কর্মচারী কোনো মাসিক কিস্তির চাপ ছাড়াই নিজের জমানো টাকা ব্যবহার করতে পারেন। যেহেতু এটি বেতনের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে না, তাই আর্থিক ব্যবস্থাপনায় এটি বড় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই অর্থ উত্তোলনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয় এবং বয়সের প্রমাণ হিসেবে সার্ভিস বুক বা এনআইডি (NID) অনুযায়ী তথ্য যাচাই করা হয়।
সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের জমানো এই অর্থ তাদের দুঃসময়ের সারথি। ৫২ বছর বয়সের এই বিশেষ নিয়মটি জানা থাকলে অনেক কর্মচারীই শেষ বয়সের বড় খরচগুলো স্বাচ্ছন্দ্যে সামাল দিতে পারবেন।



