পেনশন । লাম্পগ্র্যান্ট I পিআরএল

সরকারি কর্মচারীর মৃত্যুতে উত্তরাধিকারীহীন গ্র্যাচুইটি: বিধিমালা যা বলছে

একজন সরকারি কর্মচারী তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে যে আর্থিক সুবিধাগুলো পান, তার মধ্যে গ্র্যাচুইটি অন্যতম। কিন্তু অনেক সময় প্রশ্ন জাগে, যদি কোনো কর্মচারী চাকরি অবস্থায় বা অবসরের পর গ্র্যাচুইটির টাকা পাওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর কোনো নিকটাত্মীয় না থাকে, তবে সেই পাওনা টাকার কী হবে? অর্থ মন্ত্রণালয়ের ১৯৫৯ সালের মূল স্মারক এবং ২০১২ সালের সংশোধনী অনুযায়ী এই প্রক্রিয়ার একটি সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো রয়েছে


পরিবার থাকলে গ্র্যাচুইটি বন্টন

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, গ্র্যাচুইটির টাকা সরকারি কর্মচারীর মনোনীত ব্যক্তি বা তাঁর ‘পরিবার’ পাবেন বিধিমালা অনুযায়ী পরিবারের সদস্য হিসেবে গণ্য হন:

  • স্বামী বা স্ত্রী

  • সন্তানসন্ততি (২৫ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত ছেলেরা এবং অবিবাহিত কন্যারা অগ্রাধিকার পান)

  • মৃত ছেলের বিধবা স্ত্রী ও সন্তানগণ

পরিবার না থাকলে কারা পাবেন? (প্রথম ধাপ)

যদি কোনো কর্মচারীর উপরে উল্লিখিত কোনো নিকটাত্মীয় (স্ত্রী/স্বামী বা সন্তান) না থাকে, তবে গ্র্যাচুইটির টাকা নিম্নলিখিত নির্ভরশীল আত্মীয়দের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে দেওয়া হবে:

  • ১৮ বছরের কম বয়সী ভাই

  • অবিবাহিত এবং বিধবা বোন

  • পিতা ও মাতা

সহোদর ভাই-বোনের অধিকার: ২০১২ সালের নতুন সংশোধনী

২০১২ সালের ২৮ মে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে (স্মারক নং- ০৭.০০.০০০০.১৭১.১৫.০০২.১২/অংশ-১)-৫৭) পূর্বের নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনা হয়েছে । নতুন এই বিধান অনুযায়ী:

যদি কোনো মৃত সরকারি কর্মচারীর স্ত্রী, সন্তান, অপ্রাপ্তবয়স্ক ভাই, বিধবা বোন বা পিতা-মাতা—এমন কোনো নিকটাত্মীয়ই বেঁচে না থাকেন, তবে তাঁর গ্র্যাচুইটির টাকা তাঁর সহোদর ভাই (Full brothers) এবং সহোদর বোনদের (Full sisters) মধ্যে সমান ভাগে বন্টন করা হবে

এক্ষেত্রে ভাই বা বোনদের বয়সের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। অর্থাৎ বড় ভাই বা বিবাহিত বোনেরাও এই সুবিধা পাবেন যদি অন্য কোনো যোগ্য উত্তরাধিকারী না থাকেন


কখন কোনো গ্র্যাচুইটিই প্রদান করা হবে না?

সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী গ্র্যাচুইটি প্রদানের ক্ষেত্রে একটি চূড়ান্ত সীমা রয়েছে। যদি কোনো মৃত সরকারি কর্মচারী এমন কোনো ব্যক্তিকেই রেখে না যান যারা: ১. পরিবারের সংজ্ঞায় পড়েন (para 2(1) অনুযায়ী) । ২. অথবা, নির্ধারিত নির্ভরশীল আত্মীয় (sub-para 2 বা 3 অনুযায়ী) হিসেবে যোগ্য

তবে সেই ক্ষেত্রে সরকার কোনো গ্র্যাচুইটি প্রদান করবে না । অর্থাৎ, কর্মচারীর কোনো বৈধ উত্তরাধিকারী বা নির্ধারিত নিকটাত্মীয় না থাকলে সেই টাকা সরকারি কোষাগারেই থেকে যাবে।

সারসংক্ষেপ

সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী, গ্র্যাচুইটির টাকা কোনোভাবেই মাঝপথে থেমে থাকে না যতক্ষণ পর্যন্ত একজন সহোদর ভাই বা বোনও বেঁচে থাকেন তবে মনোনয়নের ক্ষেত্রে কর্মচারী যদি নির্দিষ্ট করে কাউকে দিয়ে যান, তবে সেটিই অগ্রাধিকার পাবে কোনো উত্তরাধিকারী না থাকলেই কেবল গ্র্যাচুইটি বিলুপ্ত হয়

সোর্স

কর্মচারীর বাবা মা কি পেনশন পেতে পারেন?

হ্যাঁ, সরকারি কর্মচারীর বাবা-মা নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে পেনশন বা গ্র্যাচুইটি পেতে পারেন তবে এটি নির্ভর করে মৃত কর্মচারীর স্ত্রী, স্বামী বা সন্তান আছে কি না তার ওপর

আপনার সরবরাহকৃত নথিপত্র অনুযায়ী বিষয়টি নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

পেনশন বা গ্র্যাচুইটি পাওয়ার শর্তাবলি

  • পরিবার না থাকলে: যদি মৃত সরকারি কর্মচারীর কোনো ‘পরিবার’ (স্ত্রী, স্বামী বা সন্তান) না থাকে, তবেই কেবল পিতা এবং মাতা গ্র্যাচুইটি বা পেনশনের টাকার অংশ পাওয়ার যোগ্য হন

  • বন্টন প্রক্রিয়া: কর্মচারীর কোনো পরিবার না থাকলে গ্র্যাচুইটির টাকা বাবা, মা এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ভাই বা বিধবা বোনদের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়

  • মনোনয়ন থাকলে: যদি কর্মচারী তাঁর বাবা-মাকে মনোনয়ন (Nomination) দিয়ে যান এবং তাঁর কোনো পরিবার (স্ত্রী/সন্তান) না থাকে, তবে তাঁরা সেই নির্ধারিত অংশ অনুযায়ী টাকা পাবেন

গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা

  • পরিবার জীবিত থাকলে: যদি মৃত কর্মচারীর স্ত্রী, স্বামী বা যোগ্য সন্তান (২৫ বছরের কম বয়সী ছেলে বা অবিবাহিত মেয়ে) বেঁচে থাকেন, তবে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী বাবা-মা গ্র্যাচুইটির অংশ পান না

  • উত্তরাধিকারী নির্ধারণ: বিধিমালা অনুযায়ী, যদি স্ত্রী বা সন্তান থাকে, তবে তাঁরাই পেনশনের প্রথম দাবিদার দ্বিতীয় ধাপে (পরিবার না থাকলে) বাবা-মা তালিকায় আসেন

সারসংক্ষেপে, যদি একজন অবিবাহিত সরকারি কর্মচারী মৃত্যুবরণ করেন অথবা তাঁর স্ত্রী/সন্তান না থাকে, তবে তাঁর বাবা ও মা আইনত গ্র্যাচুইটি বা পেনশনের সুবিধা পাওয়ার অধিকারী

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *