২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন শুরু: ব্যয়সীমা নির্ধারণ করে নতুন নির্দেশিকা জারি
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রাক্কলন এবং পরবর্তী দুই অর্থবছরের প্রক্ষেপণ প্রণয়নের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এ লক্ষ্যে ‘বাজেট পরিপত্র-২’ জারি করেছে, যেখানে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যয়সীমা এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে ।
বাজেট কাঠামোর মূল লক্ষ্য ও অগ্রাধিকার
সরকারের মৌলিক নীতি নির্ধারণী দলিল এবং ২০২৬ সালে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই বাজেট কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে । এবারের বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে:
মানবোন্নয়ন ও সুরক্ষা: উন্নত শিক্ষা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রসার ।
অর্থনৈতিক গতিশীলতা: কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সৃজনশীল অর্থনীতি (Creative Economy) এবং খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ।
জলবায়ু মোকাবিলা: জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত মোকাবিলা ও প্রশমনে সহায়ক কার্যক্রমে বিশেষ বরাদ্দ বৃদ্ধি ।
দক্ষতা ও স্বচ্ছতা: সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার (Optimum Utilization) নিশ্চিত করা ।
ব্যয়সীমা ও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ
অর্থ বিভাগ জানিয়েছে যে, ইতোপূর্বে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় সভার পর্যবেক্ষণের আলোকে মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামো (MTMF) বিবেচনা করে ২০২৬-২৭, ২০২৭-২৮ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরের জন্য মন্ত্রণালয়ভিত্তিক ব্যয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ।
মন্ত্রণালয়গুলোকে তাদের বিস্তারিত বাজেট এই নির্ধারিত সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে । বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ERD) প্রদত্ত প্রাক্কলন অনুযায়ী প্রকল্প ঋণ ও পুনর্ভরণযোগ্য ঋণের প্রতিফলন নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ।
বাস্তবায়ন ও তদারকি কৌশল
বাজেট বাস্তবায়নের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এবং অপরিকল্পিত ঋণ এড়াতে এবার ‘বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা’ (BIP) প্রণয়ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে । এর আওতায়:
কোয়ার্টারভিত্তিক বা ত্রৈমাসিকভিত্তিতে বরাদ্দ নির্দিষ্টকরণ করতে হবে ।
রাজস্ব আহরণ, বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা এবং ব্যয় পরিকল্পনার জন্য আইবাস++ (iBAS++) সিস্টেমে নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করতে হবে ।
গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা ও নিষেধাজ্ঞা
পরিপত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, বাজেটে সাধারণত কোনো থোক বরাদ্দ (Lump Sum Allocation) রাখা যাবে না । এছাড়া অননুমোদিত কোনো প্রকল্পের জন্য উন্নয়ন বাজেটে বরাদ্দ রাখা যাবে না । স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব আয় বিবেচনা করে সরকারি সহায়তার পরিমাণ ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।
সময়সীমা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে আগামী ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখের মধ্যে তাদের সংশোধিত বাজেট প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণ iBAS++ সিস্টেমে এন্ট্রি সম্পন্ন করে অর্থ বিভাগে হার্ড কপি জমা দিতে বলা হয়েছে । বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় কোনো অস্পষ্টতা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহায়তার জন্য অর্থ বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশনে বিশেষ ‘হেল্প ডেস্ক’ চালু করা হয়েছে ।
দ্রষ্টব্য: এই বাজেট পরিপত্রটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে একটি নিয়মতান্ত্রিক ও টেকসই কাঠামোর ওপর দাঁড় করানোর লক্ষে সরকারের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ ।



